ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি তাই করেন কিন্তু টিকে থাকতে পারবেন না

স্টাফ রিপোর্টার : শান্তিপূর্ণভাবে কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়, সেই পথ বের করার জন্য সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়ে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আবারও বলছি, অতীতচারিতা ভুলে যান। লেট আস ফরগেট অ্যাবাউট দ্য পাস্ট। আসুন আমরা নতুন করে একটা আলোচনা করি, একটা সংলাপ করি। সেই সংলাপের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়, সেই পথ বের করি। একইসাথে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আপনাদের (আ’লীগ) ক্ষমতা আছে যা খুশি তাই করেন। কিন্তু টিকে থাকতে পারবেন না। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যারিস্টারস ফর চেইঞ্জ’ নামক আইনজীবী সংগঠনের উদ্যোগে ‘বর্তমান আমলে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহবান জানান।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও তারা (আওয়ামী লীগ) সাথে সাথে তা রিজেক্ট করেছে। তারপরও আমরা প্রত্যাশা করি দাম্ভিকতা, দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র পরিহার করে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। একটি সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে যে ফলাফল হবে, বিএনপি তা মেনে নেবে বলেও তিনি জানান। বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সাহস যদি থাকে, জনগণের প্রতি আস্থা থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন, যা ফলাফল হয়, তা-ই আমরা মেনে নেবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরানোর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতাই শুধু নন- একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরোত্তম, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। তার মাজার সরিয়ে ফেলার জন্য আপনারা আজকে ষড়যন্ত্র করছেন।
কিউবার প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ট্রোর মতো বাংলাদেশেও জিয়াউর রহমানের নাম কোটি মানুষের হৃদয়ে রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমরা বলতে চাই, দিস ইজ জিয়াউর রহমান। যদি তার বিরুদ্ধে কিছু করার চেষ্টা করেন, জনগণ তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, জনগণ তাকে হৃদয়ে ধারণ করে নিয়েছে, জনগণ তাকে মাথার ওপরে রাখবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বীরউত্তম পদক কেড়ে নিয়েছেন, তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো লাভ হবে না।
জঙ্গিবাদ সরকারের সৃষ্টি এমন অভিযোগ করে তাদেরকে বিনাবিচারে হত্যার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, কোনো তদন্ত ছাড়া, বিচার ছাড়া বিচার হয়ে যাচ্ছে। কী নাশকতার চেষ্টা করছিল, সেই খবর পেয়ে নির্মূল করে দিল। ‘উইদিন ওয়ান মানথ’ একমাসের মধ্যে সব জঙ্গিবাদ শেষ, খতম হয়ে গেছে। কার স্বার্থে তৈরি হয়, কারা তৈরি করে, কিভাবে তৈরি করে, তারাই বলতে পারবেন- আসামী করেন আমাদের দলের নেতাদের।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সোনার চামুচ মুখে নিয়ে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি রাজপথে এসেছেন বিরোধী দলের হয়ে। এরপর দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদকে হটাতে আন্দোলন করেছেন। তিনি কখনও আপোষ করেননি। এখন তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক সময় যিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা ও উৎখাতের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি এখন তথ্যমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ কোথায়? তাদের দলে কি তথ্যমন্ত্রী হওয়ার কেউ নেই। আর তিনি এখন বলছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হবে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়। নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দী দেয়ার কথা উল্লেখ করে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে যান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমি আবেগাপ্লুত হয়ে যাই যখন দেখি সাবেক প্রধানমন্ত্রী যিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন, স্বামীকে হারিয়েছেন, এক ছেলেকে হারিয়েছেন, আরেক ছেলে নির্বাসিত, তার মতো মানুষকে মিথ্যা মামলায় আদালতে দাঁড়িয়ে জবানবন্দী দিতে হয়। আমরা কোথায় আছি?।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ