ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভালুকায় মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে কঢ়ুরিপানা

মোঃ বদিউজ্জামান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : নানান গুণের জলজ উদ্ভিদের নাম কচুরিপানা। উদ্ভিদটি জলাশয়ে মাছের জন্য যেমন উপকারী, ঠিক তেমনি শুকনা কচুরীপানা ফসলি জমির জন্য খুব বেশি দরকারি। কচুরিপানা ফুল শুধু শিশু-কিশোরের পছন্দই নয়, যুবক-যুবতীদের কাছেও বেশ প্রিয়।
অর্কিড সাদৃশ্য ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে স্কনক নামে এক ব্রাজিলিয়ান পর্যটক ১৮ শ’ শতাব্দীতে প্রথম ভারতবর্ষে নিয়ে আসেন কচুরিপানা। খুব দ্রুত বংশবিস্তারের ফলে এরপর থেকেই ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি খাল-বিল ও জলাশয়ে ভরে যায় এই কচুরপিানায়। এক সময় কচুরিপানার জন্য নৌকা চলাচলসহ ফসলি জমি ধান, পাট, চাষ অযোগ্য হয়ে পরে। ওই পরিস্থিতিতে কচুরিপানা মুক্ত করার লক্ষে বৃটিশ সরকারসহ বিভিন্ন দেশের সরকার নানাবিধ প্রচেষ্টা চালায়।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশর জলাশয়গুলো কচুরিপানা থেকে মুক্তি লাভ করলেও এখনোও দেশের হাওর-বাঁওড়-বিল-ঝিল, পুকুর-ডোবা ও মুক্ত জলাশয়ে কচুরিপানা থেকেই গেছে। সেই বিরক্তিকর কচুরিপানা ভালুকায় মৎস্য চাষে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ময়মনসিংহের মধ্যে অন্যতম ভালুকা উপজেলা মৎস্যচাষ সমৃদ্ধ হওয়ায় এ এলাকায় মৎস্যচাষিরা শীতকালে মাছের প্রধান খাদ্য হিসাবে বেছে নিয়েছে কচুরিপানা।
 বছরের অন্যসময় পাঙ্গাস জাতীয় মাছকে প্যাকেটজাত খাবার দেয়ার হয় ফলে দেশীয় প্রজাতি রুই, কাতলা ও কার্পজাতীয় মাছকে আলাদা খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না।
আর শীতকালে পাঙ্গাস জাতীয় মাছ খাবার খায় না বা কম খায় সে কারণে এসময় চাষিরা দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন।
বিলের এক কোনে কচুরিপানা আটকিয়ে বংশ বিস্তারের জন্য তাতে দেয়া হচ্ছে ইউরিয়া সার। পরে ওই কচুরিপানা ঝাক দিয়ে পচিয়ে তাতে খৈল, কুড়াও মুরগীর বিষ্ঠা মিশ্রণ করে বিলে রেখেই খাদ্য তৈরি করে দেয়া হচ্ছে মাছকে। শীতকালে মাছের খাবারের জন্য অনেক চাষিরাইএখন এ পদ্ধতিতে মাছের খাবারের ব্যবস্থা করছে।  কারণ এতে প্যাকেটজাত খাবারের তুলনায় খরচও অনেক কম হয়। এছাড়া জীবিত কচুরিপানার শিকড় খেতেও চাষাবাদ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বেশ পছন্দ। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কচুরিপানার নিচে ডিম দিয়ে বংশ বিস্তার করে।  কচুরিপানা একদিকে যেমন মাছের খাদ্য অন্যদিকে বিলে পানি কম থাকায় দুপুরের প্রখর রৌদ্রে আশ্রয়স্থল। কালের বিবর্তনে কচুরিপানা কমে গেলেও, ভালুকায় মৎস্যচাষীদের কাছে এর চাহিদা কমেনি। শিশু-কিশোর ও যুবক-যুবতীর কাছে এর ফুলের চাহিদার কমতি নেই।
সাদা পাপড়ির মাঝে নীল-হলুদ চোখ বিশিষ্ট ফুল সব বয়সী মানুষের মন হরণ করে। কচুরিপানা আমাদের দেশে অনেক কাজেই ব্যবহার করা যায়। মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়, শাক, সবজী, আলু ক্ষেতে এটাকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যাবহার করলে বেশ ভাল ফলন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ