ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের পর্যটকবাহী লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া এলাকায় পর্যটকবাহী লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বন বিভাগ এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কোস্টগার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। সুন্দরবন বিভাগ লঞ্চটিতে থাকা ২৬ পর্যটকসহ ৩৯ জনকে উদ্ধার করে মংলায় পৌঁছে দিয়েছে। লঞ্চের জেনারেটারের সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অপরদিকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যুর লঞ্চটি বনবিভাগের হারবাড়িয়া টহল ফাঁড়িতে বনবিভাগের রাখা হয়েছে। এ দিকে এখন সুন্দরবনের পর্যটন মওসুম। সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার রাতে বন বিভাগ পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জ’র সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মেহেদীজ্জামানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-চাদপাই স্টেশন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ও হাড়বাড়িয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। কমিটিকে আগুন লাগার কারণ নির্ণয় করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া লঞ্চটি বনের মধ্যে অবস্থানকালে ভ্রমণ নীতিমালা ভঙ্গ করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই লঞ্চের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে বন বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাড়বাড়িয়া ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন খালে নোঙ্গর করে থাকা পর্যটকবাহী লঞ্চ এম,ভি ফেলিকন-১ এ আকস্মিক অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লঞ্চটির পেছনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চ জুড়ে। এ সময় লঞ্চে থাকা ২৬ পর্যটক ও স্টাফরা দ্রুত হাড়বাড়িয়া ঘাটের পন্টুনে নেমে আশ্রয় নেয়। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে কোস্টগার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সুফিয়ান, মংলা থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লঞ্চের জেনাটারের সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ দিকে অগ্নিকা্ন্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যুর লঞ্চটি বনবিভাগের হারবাড়িয়া টহল ফাঁড়িতে বনবিভাগের রাখা হয়েছে।
বনবিভাগের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, শুক্রবার সকালে পেলিকন-১ নামের ট্যুর লঞ্চটি ২৬ জন দেশীয় পর্যটকের পাস নিয়ে বনের গহীন অংশে প্রবেশ করে। পর্যটকবাহী এ লঞ্চটিকে শুধু মাত্র ২৪ ঘণ্টা বনের ভেতর অবস্থানের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। অগ্নিকান্ডের পর উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বেশ কয়েকজন পর্যটক আংশিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া হাড়বাড়িয়া টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, পুরো লঞ্চটি জুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে। তবে লঞ্চের পর্যটক ও স্টাফরা নিরাপদে হাড়বাড়িয়া ফরেস্ট অফিসে নিরাপদে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ