ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অতিরিক্তি বিল আদায়ে ফুঁসে উঠছে ডিপিডিসির ১০ লাখ ৪২ হাজার গ্রাহক

কামাল উদ্দিন সুমন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার নয়ামাটি এলাকার হাজী শাহাজাহান। ডিপিডিসিরএ গ্রাহকের গত সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের ইউনিট বাবদ তার বিল হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা। লোড হিসেবে এর সঙ্গে আরো ২ হাজার ৫০০ টাকা জুড়ে দিয়েছে ডিপিডিসি। এভাবে যার যত টাকা বিল এসেছে,  তাকে তার দ্বিগুণ বিল দেয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। কার কাছে অভিযোগ করবেন তিনি তা ও খুঁজে পান না। হাজী শাহজানের মতো ডিপিডিসি লাখ লাখ গ্রাহকের নিকট থেকে ডিমান্ড লোড বৃদ্ধির নামে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে। এতে  করে ফুসে উঠেছে ডিপিপিসির ১০ লাখ ৪৪ হাজার গ্রাহক।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,  ডিমান্ড লোড বৃদ্ধির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় করছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি)। অতিরিক্ত এ বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোম্পানিটির আওতাধীন শ্যামপুরসহ বিভিন্ন জোনের লাখ লাখ গ্রাহক। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন তারা।
গত নবেম্বর মাসের শেষ দিকে ডিপিডিসি চেয়ারম্যান বরাবর গ্রাহকদের পাঠানো এক স্মারকলিপিতে বলা হয়,  ডিপিডিসি শ্যামপুর,  কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গিরচর এবং মোহাম্মদপুর জোনের আওতাধীন গ্রাহকরা নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে লোড বৃদ্ধি দেখিয়ে প্রতিটি মিটারে ডিমান্ড বিল ১ হাজার টাকার পরিবর্তে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অতিরিক্ত এ অর্থ গত মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে ডিপিডিসির হিসাবে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিটি হঠাৎ করে নিয়মিত বিলের দ্বিগুণ অর্থ দাবি করায় বিপাকে পড়েছেন শ্যামপুর জোনের গ্রাহকরা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে আবেদন করেন তারা। পাশাপাশি গত ২৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ  প্রতিমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করেন গ্রাহকরা। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া না পেয়ে ১৩ নবেম্বর ডিপিডিসির চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। পরে ১৭ নবেম্বর শ্যামপুর এলাকার গ্রাহক প্রতিনিধিদের একটি দল ডিপিডিসির পরিচালকের (অপারেশন) সঙ্গে একটি বৈঠকও করেন।
সূত্র জানায়, সাধারণত নতুন সংযোগ দেয়ার সময় গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইউনিট বরাদ্দ রাখা হয়, যা ডিমান্ড লোড নামে পরিচিত। কিন্তু বরাদ্দ দেয়া ইউনিটের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হলে বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।
তবে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ডিপিডিসির শ্যামপুর জোনের লোকসান কমিয়ে আনতে ভোক্তাদের কাছ থেকে ব্যবহারের চেয়ে বেশি বিল আদায় করছে কোম্পানিটি।
জানা গেছে,  গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ডিমান্ড লোড পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) অনুমতি জরুরি। অনুমতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত বিল নেয়ার বিধান নেই। তবে শ্যামপুর জোনের গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়ে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি বলে বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুল হক।
 তিনি বলেন,  ডিপিডিসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কমিশন পেয়েছে। চাপ বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে ডিপিডিসির কোনো এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) এটিএম হারুন-অর-রশিদ বলেন,  শ্যামপুরের অনেক গ্রাহক সংযোগ নেয়ার সময় যে লোডের কথা বলেছিলেন,  এখন তার চেয়ে অনেক বেশি লোড ব্যবহার করছেন,  যে কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) আমাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তবে গ্রাহকদের অনুরোধে এ লোড বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আর যারা এরই মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিয়েছেন,  তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে কোম্পানির নির্দেশ অনুযায়ী টাকা জমা না দেয়ার কারণে শ্যামপুর জোনের অনেক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার যারা অতিরিক্ত বিল দেয়ার বিষয়ে দ্বিমত ও প্রতিবাদ করছেন,  তাদেরও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়,  নারায়ণগঞ্জ,  কেরানীগঞ্জ,  কামরাঙ্গীরচর,  মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে ডিপিডিসি। ২০০৫ সালে পিডিবির অধীনে আলাদাভাবে কার্যক্রম শুরু করে এ কোম্পানি। বর্তমানে ডিপিডিসির মোট গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখ ৪২ হাজার। এদিকে সম্প্রতি ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিতে (ডিপিডিসি) এক সাথে ১৯জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলী করা হয়েছে। সোমবার ডিপিডিসি থেকে এই বদলী আদেশ দেয়া হয়। ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  সেবা বাড়ানো এবং কাজে গতি আনতে কর্মকর্তাদের বদলী করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদকে কোম্পানি সচিবালয় থেকে বদলী করা হয়েছে পোস্তগোলায়। মো. মহিউল আলমকে রমনা থেকে দেয়া হয়েছে আজিমপুরে,  মো. জাহাঙ্গীর আলমকে কাকরাইল থেকে রাজারবাগে,  মোহাম্মদ সাইফুল আমিনকে রাজারবাগ থেকে স্বামীবাগে,  মোহাম্মদ কামরুজ্জামান শামীমকে মিটারিং সাউথ থেকে বাংলাবাজারে,  হরিচাঁদ হালদারকে প্রকল্প পরিচালক (ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক অফ নর্থ এন্ড সাউথ জোন),  শেখ মো. জিয়াউল হাসানকে প্রশিক্ষণ বিভাগ থেকে মতিঝিলে,  অচ্যুত রঞ্জন রায়কে পোস্তগোলা থেকে স্টোর ম্যানেজমেন্ট,  মো. হানিফ উদ্দিনকে আজিমপুর থেকে কাকরাইলে,  মো. রুহুল আমিন ফকিরকে প্রকল্প পরিচালক থেকে ফতুল্লা,  প্রবীর চন্দ্র তালুকদারকে বাংলাবাজার থেকে রমনায় বদলী করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ