ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১০ টাকা কেজি চালের কর্মসূচিকে সরকারি দলের লোকজনই বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে

 স্টাফ রিপোর্টার : হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি চালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে সরকারি দলের লোকজনই বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে বলে স্বীকার করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১০ টাকা কেজি চালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। একটি স্বার্থন্বেষী মহল, সেগুলো কিন্তু আমাদের দলেরই। অস্বীকার করবো না, সেই ডিলাররা নিশ্চয়ই সরকারি দলের ডিলার।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক অধিকার ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি দলের চেয়ারম্যান-মেম্বার তারা কর্মসূচিটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল। সাংবাদিকরা অনিয়ম চিত্র পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরেছেন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। শতাধিক ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করেছি, কার্ড বাতিল করেছি। এ কর্মসূচিটাকে একটা সুষ্ঠু পর্যায়ে আমরা নিয়ে এসেছি। আগামী মার্চে আবার খাদ্য বিতরণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।  
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লুই কানের নকশা নিয়ে কথা হচ্ছে। লুই কানের নকশা আমরা ফেরত এনেছি কারো মাজার এখন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য নয়। সংসদ ভবন এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন জনের মাজার হয়েছে, সবুর খানের কবর। শাহ আজিজের কবর, মশিউর রহমান সাহেবের কবর, অনেকের কবর সেখানে রয়েছে। জিয়াউর রহমানের কবরও সেখানে আছে। আমরা লুই কানের নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য যা যা করার, যে সমস্ত কবর উঠানোর সেখানে সব উঠানো হবে। সেখানে শুধু জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর জন্য আমরা লুই কানের নকশা ফিরিয়ে আনিনি। এ নকশা এনেছি তা বাস্তবায়ন করা জন্য। সেই কাজটা আমরা করছি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে খাটো করার জন্য আমরা এই পলিসি করছি এ ষড়যন্ত্র করছি সেটা ঠিক নয়। জিয়াউর রহমানের স্থান যেখানে থাকার সেখানেই থাকবে। ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে, ইতিহাসের সবচাইতে জঘন্য চরিত্র হিসেবে, খুনী চরিত্র হিসেবে জিয়াউর রহমানের স্থান ইতিহাসে হবে। ইতিহাস থেকে তার নাম আমরা মুছে ফেলতে চাই না।
কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি কোন ধরণের প্রতিহিংসা চারিতার্থ করার জন্য বর্তমান সরকার কোন কাজ করছে না উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন,  অনেকে বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের প্রতি প্রতিহিংসা বশত মামলা মোকদ্দমা ইত্যাদি চলছে। এগুলো ঠিক না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। আমরা বিশ্বাস করি আইন একজন সাধারণ কর্মীর ব্যাপারে যেভাবে প্রযোজ্য, একজন নেতা বা নেত্রীর ক্ষেত্রেও ততটুকু প্রযোজ্য।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে দুর্নীতির অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়া অভিযুক্ত, তার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসছে। আদালত যে রায় দেবে সেই রায় আমরা মেনে নেব। আমরা বিশ্বাস করি প্রত্যেকে সেই রায় মেনে নেবেন। কোন প্রতিহিংসা চারিতার্থ করার জন্য খালেদা জিয়ার বিচার হচ্ছে না। প্রকাশ্য আদালতে বিচার হচ্ছে, স্বচ্ছ বিচার হচ্ছে।
কামরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা না করে উপায় নেই। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের স্যালুট জানান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্লান্তিকালে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকরা গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। একটা সময় ছিল যখন সাংবাদিকদের কলাম রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতো। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিক মানিক মিয়া, জহুর আহমদ চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন।
তবে বর্তমান সময়ের সাংবাদিকদের সমালোচনা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকার সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে স্বাধীনতা দিয়েছে বলেই নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে নেতিবাচকের চেয়ে বেশি বেশি ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করতেও আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ