ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরাকানে মিয়ানমারের রক্ত স্নান বন্ধ করতে হবে -নেজামে ইসলাম পার্টি

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃবৃন্দ আরাকানে মিয়ানমারের বর্বরোচিত আক্রমণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নৃশংস হতাকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্ব জনমত অগ্রাহ্য করে অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী মিয়ারমার আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নগ্ন ও সর্বাত্মক হামলায় কোনো বিবেকবান মানুষ বিচলিত না হয়ে পারে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, পৃথিবীর তাবৎ মানবতাবাদী মানুষের মাতমের দীর্ঘশ্বাস, আত্মার আহাজারি, সমর্থনপুষ্ট নৈতিক সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু রোহিঙ্গা জনগণ। রোহিঙ্গাদের এই আহাজারি  প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের। সর্বোপরি এ আর্তনাদ  ন্যায়ের পথে সমগ্র উম্মাহর আর্তনাদ, মুসলিম মিল্লাত ও বিশে^র শান্তিকামী মানুষের আর্তনাদ।  রোহিঙ্গারা ইতিহাসের এক জ্বলন্ত ট্রাজেডি। নাগরিকত্বের অধিকার আদায়ের  লাগাতার ইতিহাস সমৃদ্ধ এক নিগৃহীত ও নিপীড়িত জাতির নাম রোহিঙ্গা।
গত শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতাকালে তারা এসব কথা বলেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ার, মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, মুফতি জিয়াউল হক মজুমদার, ছিদ্দিকুর রহমান বি.কম, মাওলানা হাফেজ আবদুল বাতেন, মাওলানা আবুল হাসান তালুকদার, মাওলানা মোঃ ইউসুফ, রবিউল আলম মজুমদার, মোঃ মনির হোসেন, মুহাম্মাদ নুরুজ্জামান, মোঃ আবদুল আজিজ, মোঃ শামিম উসমান, আতিকুর রহমান প্রমুখ।
  নেতৃবৃন্দ বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। আদমশুমারিতে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নাগরিকত্ব বহাল, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন থেকে  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  এব্যাপারে এগিয়ে আসতে জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান ও সার্কসহ সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক  সংস্থা ও সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান । মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে গণ্য করে তাদেরকে শুধু দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করেনি, বরং মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাাতন বৃদ্ধি করে, যাতে মুসলমানরা সেদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, যা আজো অব্যাহত আছে।
তাঁরা আরো বলেন, এককালের স্বাধীন-সার্বভৌম ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা বিশিষ্ট আরাকান প্রদেশে  রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাস বেশি। তাদের পূর্ব পুরুষরা হচ্ছে আরব, তা¤ু^কিয়াস, তুর্কী, ইরানী, পাঠান, কামানচিস, মোঘল, বাঙ্গালি এবং ইন্দো-মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত কিছু জনগোষ্ঠী।  তারা ৬ষ্ঠ  শতাব্দী থেকে আরাকানসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতে থাকে।  ২,৬১,৯৭০ বর্গমাইল এলাকা বিশিষ্ট মিয়ানমারের লোকসংখ্যা ৫২ মিলিয়ন। মুসলমানরা মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার এক ষষ্ঠমাংশ।  মুসলমানদের সংখ্যা  ৭-১০ মিলিয়ন। মিয়ানমারে মুসলিম, স্যান, চিন, কারেন, রাখাইন ও বারমনসহ ১৪০টি জাতিগত গোষ্ঠী রয়েছে।  তবে  মিয়ানমারে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে মুসলিম জনগণ মিয়ানমারের শহর-বন্দর-গ্রামে বসবাস করে আসছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ