ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অযন্ত-অবহেলা ও অদূরদর্শিতায় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বলধা গার্ডেন আজ বিপন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী ও প্রকৃতিপ্রেমী লেখকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বহুবিধ কারণে ঐতিহ্যবাহী বলধা গার্ডেন আজ বিপন্ন। অযতœ-অবহেলা ও অদূরদর্শিতায় পুরান ঢাকার ওয়ারিতে অবস্থিত এ বাগানের দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদগুলোকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানের চারপাশের অনেক সুউচ্চ স্থাপনার ছায়া ও স্যুয়ারেজের ময়লা পানিতে সেখানকার উদ্ভিদবৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই বাগান ধ্বংস হবে।
গতকাল শনিবার সকালে কলাবাগানস্থ নিজস্ব মিলনায়তনে বেসরকারি পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত “সংকটাপন্ন বলধা গার্ডেন, বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণে করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনারে তারা এ উদ্বেগের কথা জানান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজের সভাপতিত্বে সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদ্যান তত্ত্ববিদ ও গবেষক মোকারম হোসেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, স্টেট ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের প্রধান সাজ্জাদুর রসিদ, মর্ডান ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানত, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, পবা’র সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ প্রমুখ।
উদ্ভিদ তত্ত্ববিদ ও গবেষক মোকারম হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, ১০০ বছরের ব্যবধানে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে বাগানটির জৌলুস আর কমতে থাকে বাগানের সমৃদ্ধ উদ্ভিদপ্রজাতির সংগ্রহ। একারণে মূল গাছগুলো অক্ষত রেখে এবং বর্তমান বাগানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে চারাকলমের মাধ্যমে বাগানের গাছগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বলধা গার্ডেনের আদলে আরেকটি বাগান তৈরি করা উচিত। তাহলে বাগানটি নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, দেশের কোনো সুবিধাজনক স্থানে এ বাগানের সকল উদ্ভিদপ্রজাতি নিয়ে হুবহু আরেকটি বাগান তৈরি করে দেশের শত বছরের ঐহিত্য এই বাগানটি রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে ঢাকার অদূরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বা এ সংলগ্ন এলাকা। আর এ কাজে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
বলধা গার্ডেন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এর বর্তমান হতশ্রী রূপ দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায় বাগানটি লোকবল ও অর্থ সংকটে ভুগছে। বাগানের সর্বত্র অযত্নের ছাপ। সংরক্ষিত সাইকি অংশের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। স্বল্প সংখ্যক মালি নিয়ে শুধু গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চারপাশের উঁচু দালানে প্রায় ঢাকা পড়েছে বাগানটি। দিনের আলোয়ও পেছনের দিকটা বেশ অন্ধকার। সিবিলি অংশে সারাদিনই দর্শনার্থীদের ভিড়। এই দর্শনার্থীরা মূলত অন্য মতলবে এখানে আসেন। অপ্রয়োজনীয় মানুষের বিক্ষিপ্ত পদচারণা বাগানের গাছগুলোকে বিপন্নতর করে তুলছে। প্রশ্ন হলো, বলধা গার্ডেনের মতো এমন স্পর্শকাতর একটি স্থাপনা কেন টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।
তারা আরো বলেন, রাজধানীর এক সময়ের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র বলধা গার্ডেনের সামাজিকতা ও সবুজের ছায়াবিস্তৃত মনোরম পরিবেশ হননের পেছনে প্রশাসনের দুর্নীতি ও অবহেলাই দায়ী। দিনের পর দিন চোখের সামনে অসামাজিক কর্মকা- হচ্ছে অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব থাকাসহ কর্তপক্ষের অবহেলা পার্কটির পরিবেশকে নাজুক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। বলধা গার্ডেন আবারও সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পাক ও বিপন্ন উদ্ভিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ