ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে পানি উৎপাদন শুরু

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ১ নবেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উৎপাদন শুরু করেছে। এ প্রকল্পটি দিনে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের ক্ষমতা সম্পন্ন। গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় অবস্থিত চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম প্রকৌশলী ফজলুল্লাহ। তিনি বলেন, দিনে ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্পটি থেকে ১ নবেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ চালু করে ওয়াসা। তবে সক্ষমতার পুরোপুরি পানি এখনো উৎপাদন না করলেও ধীরে ধীরে পানির চাপ বাড়িয়ে ওয়াসার পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের কাজ করছে। প্রেসার বাড়ালেই ফেটে যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো পাইপলাইনগুলো। তবে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেইজ-২ ও বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের আওতায় নগরজুড়ে চলছে নতুন পাইপ বসানোর কাজ। প্রকৌশলী ফজলুল্লাহ বলেন, ফেইজ-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২০২০ সালের পর নগরীতে আর কোনো পাইপে লিকেজ থাকবে না। আমাদের আগের পাইপ ছিলো ‘বি’ টাইপের পিভিসি পাইপ। এসব পাইপে সমস্যা হবে বিবেচনা করে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেইজ-১ ও ফেইজ-২ এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের আওতায় নগরীর পুরো পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নতুন করে বসানো হচ্ছে। আর উন্নত মাসের এসব পাইপ বসানোর কারণে ভবিষ্যতে আর সমস্যা হবে না। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর আমরা প্রথম টানা তিনদিন ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছিলাম। কিন্তু এতে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানির পাইপ ফুটো হয়ে যাচ্ছে বলে পানির উৎপাদন ৯ থেকে ১২ কোটি লিটারে কমিয়ে আনা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার সরকার, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী ও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক জহুরুল হক প্রমুখ। উল্লেখ্য, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর পানি পরিশোধন করে প্রথম পর্যায়ে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১৪ কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল ২০০৬ সালে। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে যাওয়া প্রল্পটির কাজ ২০০৯ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পেছাতে পেছাতে গত মাসে শেষ হয়। ৩১১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় এই প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে চীনা দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ-২ এর অধীনে ৭১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাইপলাইন ও ৪২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সরবরাহ পাইপলাইন স’াপন করছে জাপানের কবোতা-মারুবিনি। প্যাকেজ-৩ এর আওতায় ১৪৫ কোটি টাকায় বায়েজীদ বোস্তামি সড়কে ২৬ হাজার ঘনমিটার ও ২ হাজার ২০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার দুটি জলাধার নির্মাণ, লালখান বাজার বাটালি হিলে ৮ হাজার ৫০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার জলাধারটি সংস্কার ও খুলশি বুষ্টার পাম্প স্টেশনটি সংস্কার করেছে কোরিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোলন করপোরেশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ