ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে অভিযুক্ত দুই ভর্তিচ্ছুর পুনরায় পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক: ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষায় পরীক্ষা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার সকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে ভাইভা দিতে এলে তাদের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন- মেধা তালিকায় ৫ম স্থানে থাকা তাজরিন আহমেদ খান মেধা ও ৭৮তম নূর মাহফুজা দৃষ্টি (নিপু)। এই দুশিক্ষার্থী জালিয়াতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

ডিন অফিস সূত্র জানায়, এ দুই শিক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এলে জালিয়াতের অভিযুক্ত মেধাকে নতুন করে প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বলা হয়। শুধু বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতি বিষয়ে ২৫টি করে সর্বমোট ৫০টি প্রশ্ন দেয়া ছিল। প্রতি প্রশ্নের মান ১.২০ করে প্রশ্নের সর্বমোট মান ৬০ নম্বর। ওএমআর শিটে নেয়া উত্তরপত্র মূল্যায়নে দেখা যায় তাজরিন বাংলা বিষয়ে ১৭টি প্রশ্নের উত্তর ভরাট করেন। এর মধ্যে বাংলায় সঠিক হয় ৯টি, ভুল হয় ৮টি। প্রাপ্ত নম্বর ৮ দশমিক ৪। অথচ মূল ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় পান ২৭।

অন্যদিকে ইংরেজিতে ২৩টি প্রশ্নের উত্তর ভরাট করেন। এতে সঠিক হয় ১৫টি ও ভুল হয় ৭টি। প্রাপ্ত নম্বর ১৫ দশমিক ৬। অথচ মূল ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ২৪ পান।

ওদিকে আর এক অভিযুক্ত হচ্ছেন মেধা তালিকায় ৭৮তম অবস্থান অর্জনকারী তাজরিনের আত্মীয় নূর মাহফুজা দৃষ্টি (নিপু)। তাকেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু মেধা তালিকায় অবস্থান করলেও এই শিক্ষার্থী ফেল করেন। বাংলা অংশে ৩০ এর মধ্যে পান ৬ দশমিক ৬ ও ইংরেজি অংশে ৩০ এর মধ্যে পান ১১ দশমিক ৪।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জালিয়াত করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওদের মাধ্যমে পুরো চক্রকে আটক করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিনের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান ঢাবি ভিসি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে ও পরীক্ষা চলাকালীন অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মেলে জালিয়াতির অভিযোগে আটক শিক্ষার্থীদের মোবাইল থেকে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নয় লাখ টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে মেধা তালিকায় ৫ম স্থান অর্জন করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

পুনঃভর্তি পরীক্ষায় ফেল হওয়া শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ‘জালিয়াতি’র মাধ্যমে তৃতীয় হওয়া অয়ন কুমার দাস নামে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এর আগে অয়নসহ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে তাকে শনিবার ফের পরীক্ষায় বসতে হয়।

আগে ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হলেও পরবর্তীতে শুধুমাত্র বাংলা বিষয়ে তার পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু এ পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ৫ নম্বর পান তিনি। কিন্তু মূল ভর্তি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ২৭ নম্বর।

ডিন অফিস সূত্র জানায়, অয়নের ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর হচ্ছে-১২৯৬৩৬।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ