ঢাকা, সোমবার 5 December 2016 ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দরপতনের পর দাম বেড়েছে চাষীর মুখে হাসি

সরওয়ার কামাল (মহেশখালী) ২ ডিসেম্বর: অবশেষে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পান চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে পান বাজারে এই এলাকার উৎপাদিত বিখ্যাত মিষ্টি পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষীদের মাঝে এই উৎসাহ আমেজ দেখা দেয়। তবে পান চাষ করার শুরুতেই অতি বৃষ্টি কারণে পানের বরজ নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখিন হলেও পানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় তা কাঠিয়ে উঠেছে এ এলাকার পান চাষীরা। জানা গেছে, কয়েক যুগ ধরে উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোটমহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ির ঢালু ও আবাধি কৃষি জমিতে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় পান চাষীরা। পাহাড়ি এলাকায় পান চাষ দুই/তিন বছর হলেও কৃষি জমিতে পান চাষ মাত্র ৬ মাস। কৃষি জমিতে পান চাষ অক্টোবর/নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে তা মে মাসে শেষ হয়। আর পাহাড়ি এলাকায় পান চাষ যে কোন সময়ে করা যায় বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। পানের বরজ থেকে পান তুলে নিয়ে চাষীরা স্থানীয় হাট বাজারে নিয়ে তা বিক্রি করছে। উপজেলার গোরকঘাটা, বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজার, হোয়ানক ইউনিয়নের টাইম বাজার, পানিরছড়া বাজার, কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালারমারছড়া বাজার, জনতাবাজার ও শাপলাপুর বাজারে পানের বাজার বসে। সপ্তাহে দুই দিন এসব পান বাজারের পান বিক্রি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পানের হাট জনতাবাজার গিয়ে দেখা যায়, পান বেচা-কেনা করতে শতাধিক চাষী পান নিয়ে বাজারে বসে। আর চট্টগ্রাম, বাঁশখালি, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পান ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে পান কিনে নিচ্ছে। পরে এসব পান ট্রাক ভর্তি করে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। বাঁশখালী থেকে আসা পান ব্যবসায়ী রুহুল কাদের জানান, সপ্তাহ দুই দিন মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের হাট বসে। আর এসব পানের হাট থেকে চাষীদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই সব পান গুলো চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে পানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় মহেশখালীর পান চাষীরা খুশি বলে তিনি জানিয়েছেন। শাপলাপুর ইউনিয়নের জেমঘাট এলাকার পানচাষী আবুল কালাম (৪৫) বলেন, এক মাসে আগে পানের বাজারে পানের মূল্যে ধস নামেন। এ কারণে এ বছর পান চাষে লাভতো দূরের কথা লোকসান গুনতে হবে বলে মনে করেছিলাম। কিন্তু দুই সপ্তাহে বাজারে পানের মূল্য এক দাপে অনেক বেড়ে যায়। গত মাসে এক বিরা পানের দাম ছিল মাত্র ৭০ টাকা। এখন সেই পান এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিরা ২২০ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত। ফলে পানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা অনেক লাভবান বলে তিনি জানান। কালারমারছড়া ইউনিয়নের ঝাপুয়া এলাকার পান চাষী আব্দুল নবী(৪৫), রহিম উল্লাহ (৪৩) ও মনির হোসেন (৫০) জানান, কৃষি জমিতে অক্টোবর মাসে পান চাষ করার শুরুতেই অতি বৃষ্টির কারণে পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়। এতে পান চাষীরা একটি পানের বরজে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখিন হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান কাঠিয়ে উঠায় চাষীদের মুখে হাঁসি ফুঠে। শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সাইয়েদুল আলম সায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, একটি পানের বরজ তৈরি করতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। গত মাসে পান বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে চাষীরা অনেকটা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে পানের বাজারে পানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাষীদের মাঝে উৎসাহ আমেজ দেখা দেয়। শাপলাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাইছার উদ্দিন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে পানের বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে পান চাষীরা। এতে ছোট-বড় মিলে এক বিরা পান ৮০ টাকা থেকে শুরু করে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত পানের হাটে তা বিক্রি হচ্ছে। ফলে পান চাষীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে ১৫শ’ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে বিল বরজ দেড়শ’ হেক্টর ও পাহাড়ি বরজ ১৩শ’ ৫০ হেক্টর। প্রতি হেক্টর জমিতে ৬টি পানের বরজ করা যায়। আর পানের বরজের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। পানচাষীদের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার।  এক হেক্টর জমিতে পান চাষ করতে চাষীদের খরচ লাগে  ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বছরে প্রতি হেক্টর জমিতে ১শ’ ৭ মে.টন পান উৎপাদন হয়। প্রতি হেক্টরে পান বিক্রি হয় প্রায় ১৬ লাখ ১২ হাজার ৫শ টাকা। এতে চাষীরা খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হন প্রতি হেক্টরে প্রায় ৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। প্রতি বছর মহেশখালী থেকে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫শ’ মে.টন পান বাইরে রপ্তানি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ