ঢাকা, সোমবার 5 December 2016 ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে ফিলিপাইন সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের আরও ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে এ অর্থ ফেরত আনা হবে। চুরি যাওয়া বাকি অর্থও ক্রমান্বয়ে ফেরত আনা হবে। এদিকে রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছে ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রী।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের দেড় কোটি ডলার ইতোমধ্যে ফেরত পাওয়া গেছে। এরপর ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরও ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার জব্দ করা হয়েছে। ফিলিপাইন সরকার এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। জব্দ করা ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেরত আনতে কোনো মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত দিতে ফিলিপাইন বাধ্য নয়- দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুরি যাওয়া অর্থ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে জমা রাখা হলেই- তা তাদের সম্পত্তি হয়ে যায় না। অর্থ ফেরত না দেয়ার  যুক্তি নেই। সেগুলো বাংলাদেশের অর্থ; এ অর্থ আমাদের প্রাপ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ফরাসউদ্দিন আহমদের নেতৃত্ব যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে- তা দেখতে চেয়েছে ফিলিপাইন সরকার। ওই প্রতিবেদনের অনুলিপি তাদের দেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। আর ফিলিপাইনের কোনো চিঠি পেলেও ওই দেশের সরকারের কাছে এ প্রতিবেদন দেয়া হবে না। কারণ এটি আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদন। এটি অন্যদের দিতে আমরা বাধ্য নয়।
এদিকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির তদন্তের ফলাফল চাইছে ফিলিপাইন। দেশটির অর্থমন্ত্রী কারলোস ডোমিনগুইজ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে’র কাছে রিজার্ভ চুরির তদন্তের ফলাফল জানতে চান ও বলেন ফিলিপাইন চুরি হওয়া অর্থ ফেরত দিতে সহায়তা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
ডোমিনগুয়েজ বলেন, ফিলিপাইনের আইন মোতাবেক বাংলাদেশের টাকা পুনরুদ্ধার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে টাকা উদ্ধার করার দিকে অগ্রসর হতে হবে। বাংলাদেশের উচিত ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের ফলাফল প্রদান করা।
ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর নেস্তোর এসপিনিলা বলেন, বাংলাদেশ তদন্তের পুরো ফলাফল দাখিল করলে চুরির টাকা উদ্ধার কাজ এগিয়ে যাবে। ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশের হয়ে আদালতে তাদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। বৈঠকের পর ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ তদন্তের ফলাফল ফিলিপাইনকে জানাতে স্বীকৃতি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ডোমিনগুয়েজ ও ফিলিপাইনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এই সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনকে ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানায়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ১ বিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে ও টাকা আরসিবিসি হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর জুয়ার আসরে চলে যায়। সূত্র: ব্øুমবার্গ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ