ঢাকা, সোমবার 5 December 2016 ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবা অপ্রতুল

তিন বছরে খুলনা সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবার মান বাড়েনি, বরং বেড়েছে জনদুর্ভোগ। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র কাউন্সিলররা দায়িত্ব নিলেও সেবার অবস্থার খুব বেশি উন্নত হয়নি। ২০১৩ সালের ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত হয়েছিল খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচন। সম্প্রতি নির্বাচনের তিন বছর পূর্ণ হলো। অথচ এখনও নগরীর সড়কগুলোর দু’পাশে  চোখে পড়ে আবর্জনার স্তূপ। বাতি জ্বলে না ছোট সড়কগুলোয়। জলাবদ্ধতা সংকট আরও প্রকট হয়েছে চলতি মওসুম। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে পড়ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষের  শোবার ঘরে। এসব নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ নগরীর মানুষ। 

কেসিসি সূত্র জানায়, গত ৩ বছরের মধ্যে এবারই আর্থিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি। বিগত ৩ বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে কেসিসিতে বরাদ্দ এসেছে সবচেয়ে বেশি। সরকারি অর্থায়নে চলা প্রকল্পের টাকা এসেছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। বিদেশী বরাদ্দও এসেছে অনেক। কিন্তু এতো টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পরও নাগরিক সেবা খুব একটা বাড়েনি। 

কেসিসির প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কে এম মুশতাক আহমেদ জানান, চলতি বছর কেসিসিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ এসেছে ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা’ ছিল মাত্র ৮ কোটি টাকা। এর আগের বছর ছিল ৭ কোটি টাকা। সরকারি অর্থে চলা দুটি প্রকল্পে কেসিসির বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে দুই প্রকল্পে ৪৮ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। চলতি মাসে আরও ২৫ কোটি টাকা ছাড়ের আশা করছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিদেশী অর্থে চলা প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৯৪ কোটি টাকা। গতবছরে পাওয়া গিয়েছিল ৭৮ কোটি টাকা।

টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু জলাবদ্ধতা কমেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ৩ বছরে ৬২ কোটি  টাকা খরচ করেছে কেসিসি। নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই টাকা দিয়ে দু’টি নদী ও ১১টি খাল খনন করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এখন তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর রাস্তাঘাট। পানি ঢুকে পড়ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের শোবার ঘরেও।

নগরীর খানজাহান আলী সড়কের শান্তিধাম মোড়ের বাদশা মেমোরিয়াল ক্লিনিক মোড় এবং পিটিআই মোড়, শেরে বাংলা সড়কের নিরালা মোড়, কেডিএ এভিনিউয়ের শেখপাড়া মোড়ে গেলে চোখে পড়ে আবর্জনার স্তূপ। আবর্জনার কারণে সড়কের এই স্থান দিয়ে চলাই দায় নগরবাসীর। অসংখ্যবার সড়ক থেকে আবর্জনা অপসারণের দাবি জানানো হলেও কাক্সিক্ষত পদক্ষেপ নেয়নি কেসিসি। 

প্রকল্পের অনুমোদন নেই  গত ৩ বছরে কেসিসি’র পক্ষ থেকে ৭টি প্রকল্প পাঠানো হয়। এর মধ্যে একটি প্রকল্পেরও অনুমোদন মেলেনি। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরাতন রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প দু’টি অতি জরুরি। এই প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় নগরীর রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করা যাচ্ছে না। 

কেসিসি’র প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবিরুল জব্বার জানান, গত তিন বছরে তারা নতুন ৭টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৪টি প্রকল্প সবুজপাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি।

বরখাস্ত মেয়র ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র জটিলতা:  ২০১৩ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৮১ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালত এই বরখাস্তাদেশ বেআইনী ঘোষণা করলেও পদ ফিরে পাননি তিনি। এই ৮ মাস ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল মেয়র-১ আনিসুর রহমান বিশ্বাস।

সূত্র জানায়, মেয়র মনিরুজ্জামান মনি স্বপদে থাকাকালীন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ওই সময় সড়ক তৈরি করলে তার সঙ্গে ড্রেন তৈরি বাধ্যতামূলক ছিল। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির টাকাও এই খাতে খরচ করা হতো। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত মেয়রের অগ্রাধিকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১০ কোটি টাকাই তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খরচ করেছেন। এ নিয়ে কাউন্সিলরদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া নগরীর রাস্তাঘাট যখন পানির নিচে তখন জলাবদ্ধতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন মালামাল ক্রয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না অনেকেই।

তবে কেসিসির সার্বিক অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, চলতি বছর পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই দু’টি প্রকল্প অনুমোদন পাবে। এখন কেসিসিতে কোনো আর্থিক সংকট নেই। তিনি বলেন, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১১টি খাল খনন করা গেছে। কিন্তু অন্য খাল ও ড্রেন ঠিক করা যায়নি।  

এজন্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে শিগগিরই নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। তখন রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা কেটে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ