ঢাকা, সোমবার 5 December 2016 ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অযত্ন ও অবহেলায় মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্পের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে

‘মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প’টি শেষ হয়েছে বছর তিনেক আগে। এরপর থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের হর্টিকালচার সেন্টারের দোতলায় অবস্থিত ‘টিস্যু কালচার এন্ড মাশরুম ল্যাবরেটরি’। ছাদের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ল্যাবরেটরির মধ্যে পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। অকেজো রয়েছে দু’টি এয়ারকন্ডিশনড যন্ত্র। অযত্ন ও অবহেলার কারণে প্রকল্পে ব্যবহৃত লাখ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতির অধিকাংশের দুরবস্থা। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের প্রকল্পে খুলনা, বাগেরহাট, ফকিরহাট, শ্যামনগর ও যশোর এলাকার প্রায় দেড় হাজার চাষী সফলভাবে মাশরুম চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। 

সরেজমিন ল্যাবরেটরিতে মাশরুমের প্যাকেট জীবাণুমুক্তকরণ কাজে ব্যবহৃত দু’টি অটোক্লেপ মেশিন, দু’টি লেমিনার এয়ারফ্লো মেশিন, একটি মিক্সার এবং এসিগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর থেকে ল্যাবরেটরি তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দুরবস্থা ও কক্ষের অবস্থা নাজুক। এভাবে লাখ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি নষ্টের পথে। এর মধ্যে লাখ টাকা মূল্যের একটি লেমিনার মেশিন ও দু’টি এসি ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। মেঝেতে পড়ে রয়েছে মেশিনগুলো ও কয়েকটি ফ্যান। 

নগরীর বাইতিপাড়ার গৃহবধূ ও মাশরুম চাষী তৃপ্তি হালদার জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি মাশরুমের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০০৮ সালে দৌলপুুরের হর্টিকালচার থেকে মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসায় প্রসার বাড়ে। হর্টিকালচার থেকে মাশরুমের বীজ ৮ টাকা দরে বিক্রি করত। কিন্তু প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় এখন তারা বীজ দিতে পারছে না। যার কারণে ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তৃপ্তি হালদার বলেন, তিনি খুলনার বিভিন্ন হোটেলসহ ঢাকায় মাশরুম সরবরাহ করতেন। বীজের অভাবে ব্যবসা এখন মন্দা। হর্টিকালচার থেকে বীজ সরবরাহ করলে ব্যবসায় অনেক সুবিধা হবে। 

নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা ও মাশরুম চাষী কাজী নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘মাশরুমের বীজের অভাবে এখন ব্যবসা বন্ধ। হর্টিকালচার থেকে বীজ দেয়া বন্ধ হওয়ার পর থেকে ব্যবসায় অবনতি শুরু হয়েছে। তাই আমি বীজ উৎপাদন করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি। খুব দ্রুত বীজ উৎপাদন শুরু করব। তবে হর্টিকালচার থেকে বীজ দিলে আমাদের ব্যবসায় খরচ কমবে ও লাভ বেশি হবে’। 

সহকারী মাশরুম উন্নয়ন কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র সরকার বলেন, ল্যাবের একটি লেমিনার এয়ারফ্লো মেশিন অকেজো। প্রকল্প থেকে লেমিনার এয়ারফ্লো, অটোক্লেপ ও মিক্সার মেশিন দেয়া হয়েছিল। তবে এসি আগেই ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ ও কক্ষের দুরাবস্থার ব্যাপারে তিনি জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম না থাকায় এ দুরবস্থা। প্রকল্প চালু হলে পুনরায় সব আগের মতো হয়ে যাবে। 

দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যেসব মেশিন নষ্ট হয়েছে সেগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়নি। ভবন মেরামত ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৫শ’ চাষী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের মাঝে পুনরায় বীজ সরবরাহের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ