ঢাকা, সোমবার 5 December 2016 ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বেড়াতে পারেন কবিগুরুর আদি বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি

ভ্রমণ যাদের নেশা তাদের বলছি, জীবনে একবার হলেও বেড়িয়ে যাবেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদি বাড়ী ও শ্বশুরবাড়ী। যেখানে গেলে আপনার পরিচয় হবে ইতিহাসের সাথে। জানতে পারবেন বাংলা সাহিত্যাকাশের এ উজ্জ্বল নক্ষত্রের সম্পর্কে অনেক অজানা কথা।

নোবেল বিজয়ী অমর কবির আদি আত্মীয়তা ছড়িয়ে আছে খুলনা জেলাতে। রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ী খুলনার দক্ষিণডিহি। এখানে এলে দেখবেন, বাংলাসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ ভাস্কর্য, কবিপত্নীর আবক্ষ ভাস্কর্য, শ্বশুরবাড়ীর দ্বিতল ভবন।

এছাড়া রয়েছে সবুজ-শ্যামল ঘন বাগান, পান-বরজ ও নার্সারি। কিছু সময় হাতে নিয়ে ২৫ বৈশাখ বেড়িয়ে যেতে পারেন দক্ষিণডিহিতে।

প্রতিবছরের মতো কবির ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ বৈশাখ কবির স্মৃতিবিজড়িত খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি ও রূপসা উপজেলার পিঠাভোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। তিনদিনের এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যে কেউ ঘুরে যেতে পারেন রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগ। কেননা এই দক্ষিণডিহি গ্রামেই রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ী। পিঠাভোগে রয়েছে কবিগুরুর পূর্ব পুরুষের নিবাস।

ইতিমধ্যে কবির স্মৃতিধন্য এ দুই স্থানকে কবি প্রেমীদের মিলন মেলা ও অনুষ্ঠান উপলক্ষে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে।

যেভাবে যাবেন দক্ষিণডিহি : রবীন্দ্রনাথের ২২ বছর বয়সে বিয়ে হয় দক্ষিণডিহি গ্রামের বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে ভবতারিনী ওরফে মৃণালিনী দেবীর সাথে। দেশের যে কোনো স্থান থেকে খুলনা মহানগরীতে এসে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গেলে দক্ষিণডিহি গ্রাম। গ্রামের ঠিক মধ্যখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র-মৃণালিনীর স্মৃতিধন্য একটি দোতলা ভবন। এটাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত দক্ষিণডিহি। ফুল, ফল আর বিচিত্র গাছগাছালিতে ঠাসা সৌম্য-শান্ত গ্রাম দক্ষিণডিহি। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণডিহির সম্পর্ক নিবিড়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা সুন্দরী দেবী আর কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবীর জন্ম এ গ্রামেই। আর রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীও দক্ষিণডিহিরই মেয়ে। তার আরেক নাম ভবতারিণী। বিয়ের পর নাম রাখা হয় মৃণালিনী দেবী।

যৌবনে কবি কয়েকবার তার মায়ের সঙ্গে দক্ষিণডিহি গ্রামের মামাবাড়িতে এসেছিলেন। এখানে কবিগুরু ও কবিপতœীর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ২৫ বৈশাখ ও ২২ শ্রাবণ এখানে নানা আয়োজনে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী ও কবিপ্রয়াণ দিবস পালন করা হয়।

যেভাবে যাবেন পিঠাভোগ : খুলনা জেলার রূপসা নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুপ্রাচীন গ্রাম। নাম তার পিঠাভোগ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষের আদিনিবাস ছিল এই গ্রামের কুশারী বাড়ি। খুলনা মহানগরী থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে রূপসা উপজেলায় অবস্থিত এ  পিঠাভোগ গ্রামে।

খুলনা আঞ্চলিক প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের পরীক্ষামূলক সমীক্ষায় পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষের ভিটার ভিত্তিপ্রস্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে কবিগুরুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বছর এখানে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। খুলনা শহর থেকে খুব সহজেই যাওয়া যায় পিঠাভোগ গ্রামে।

আর্কাইভ