ঢাকা, মঙ্গলবার 6 December 2016 ২২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর মূল টার্গেট জিয়াউর রহমানের মাজার সরানো

বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : লুই আই কানের মূল নকশা বাস্তবায়নের নামে প্রধানমন্ত্রীর মূল টার্গেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার। তাই মূল নকশা বাস্তবায়নের নামে মাজার সরানোর নীলনকশা করছেন। লুই আই কানের নকশা নিয়ে সরকারের দৌড়ঝাঁপ প্রধানমন্ত্রীর হিংসাশ্রয়ী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জিয়ার মাজার কমপ্লেক্স উচ্ছেদ করা। কিন্তু জনগণ ভোটারবিহীন সরকারের এই নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আউয়াল খান, মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে এক অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে চান। তিনি রক্তপাত ছাড়া স্থির থাকতে পারেন না। দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ-বিভাজনই যেন তার রাজনৈতিক কর্মসূচি। মেরুকরণের বিপদজ্জনক খেলায় গোটা জাতিকে তিনি ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে দিয়েছেন। রিজভী আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন- লুই আই কানের মূল নকশা বাস্তবায়ন কখনও সম্ভব নয়। বিএনপি মনে করে ভোটারবিহীন সরকার যে নকশা আনার চেষ্টা করছে সেটা আসল কি না সে ব্যাপারে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাই শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার সরানোর সকল ষড়যন্ত্র জাতীয়তাবাদী শক্তি রুখে দেবে। এমনকি মাজার নিয়ে ষড়যন্ত্রে সরকার নিজেদের পতনে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করবে। 

গুম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভোটারবিহীন সরকারের মন্ত্রী। ভোটারবিহীন সরকারের নীতিমালার বাইরে কথা বলবেন না। তাই গুম-খুন নিয়ে তুচ্ছ ও তামাশা করছেন। কারণ এই সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে গুম-খুন। তারা যদি জনসমর্থিত হতো তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণ যাকে চায় তাকে ক্ষমতা দিতো। 

নাসিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দল যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে সেটির দায়িত্ব যেমন নির্বাচন কমিশনের, তেমনি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শাসকদল নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই যাতে দখলের প্র্যাকটিস শুরু না করে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া। 

আওয়ামী লীগ সরকারই ওই নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই মূল নকশাবহির্ভূত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভবন নির্মাণ করেছে। তিনি বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় এই নকশার বাইরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যামভবন, সংসদ ভবনের চারদিকে লোহার সীমানাপ্রাচীর, মানিক মিয়া এভিনিউতে আইল্যান্ড, র‌্যাবের কার্যালয়, স্কুলসহ আরো অনেক স্থাপনা তৈরি হয়েছে। মেট্টো রেল প্রকল্পও নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের করা এই নকশা নিয়ে সরকার কেন টানাটানি করছে তা দেশবাসীর অজানা নয়। মূল নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের নামে সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে মাজার কমপ্লেক্স এখান থেকে উচ্ছেদ করা। পাকিস্তানের নাম শুনলেই বর্তমান সরকারের গা রি রি করে ওঠলেও দেশটির জাতীয় পতাকার আদলে জাতীয় সংসদ নিয়ে কথা বলে না কেন সে প্রশ্ন রাখেন রিজভী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ