ঢাকা, মঙ্গলবার 6 December 2016 ২২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চীনা রাষ্ট্রপতির সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার: চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। 

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি ‘সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশ বরাবরই প্রতিবেশি দেশসহ প্রতিটি রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে বিশ্বাসী। আর প্রতিবেশি দেশসমূহের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রাধিকার। ভারতের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানগত বাস্তবতার নিরিখে রচিত। অপরদিকে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও প্রকল্প সহযোগিতা এবং বাণিজ্য অর্থায়নসহ উন্নয়ন রাজনীতির বহুধাপ বিশিষ্ট ধারায় প্রবাহিত। ভারত এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তাই স্বতন্ত্র, স্বকীয় এবং উন্নয়নের পরিভাষায় একে অপরের পরিপূরক। এ প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্টের  সাম্প্রতিক সফরের কোনো নেতিবাচক প্রক্রিয়া কোথাও পড়বে বলে আমরা মনে করি না। 

সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, গত ১৪-১৫ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর বাংলাদেশ সফর ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ সফর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নের উজ্জল দৃষ্টান্ত যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার এ সফরকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে ২৭টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ভৌত-অবকাঠামো, সড়ক-সেতু, রেল ও জলপথে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত ও গভীরতর হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম, এ আউয়ালের আরেক প্রশ্নের উত্তরে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, প্রতিবেশির সাথে ইস্যু থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমাদেরও আছে। বাংলাদেশ পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সুপ্রতিবেশিসুলভ ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগুলো সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে। এর সুফল আমরা ইতিমধ্যে পাওয়া শুরু করেছি। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার সংখ্যা বিগত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমারে হ্রাস পেয়েছে। এটি শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার বিষয়ে ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় হতে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। 

পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং অভিন্ন মূল্যবোধের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক কাঠামোর আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বিত ও সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আমাদের মূল লক্ষ্য। এটা বাস্তবায়নের উদ্দেশে এ অঞ্চলের দেশসমূহের সঙ্গে ফরেন অফিস কনসালটেশন এর মত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে আমরা উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রম (বিবিআইএন) শুরু করেছি। গতানুগতিক ক্ষেত্র ছাড়াও নতুন নতুন এবং নন ট্রাডিশনাল ক্ষেত্রে সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যা মাত্র এক দশক আগেও অচিন্তনীয় ছিল। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশকে এই আদর্শে অনুপ্রাণিত ও সংগঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ