ঢাকা, মঙ্গলবার 6 December 2016 ২২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে পৃথক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে পৃথক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন- আমানুল্লাহ মিয়াজী (৫৭) ও রুকু আহমেদ (২৫)। গত রোববার রাতে ও দুপুরে এই ঘটনা দু‘টি ঘটেছে। 

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৮টার দিকে কাওরান বাজার এফডিসিসংলগ্ন রেল গেটে ট্রেনে কাটা পড়ে আমানুল্লাহ মিয়াজী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাশেদ রানা জানান, রাতে রেল লাইন অতিক্রম করার সময় ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে তার মেয়ে ডা. নওরিন বাবার লাশ সনাক্ত করেন।

তার মেয়ের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তারা ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় থাকেন। তেজগাঁওয়ে উত্তরা মটরস লিমিটেডএর এজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন তার বাবা। এএসআই রাশেদ জানায় পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় রুকু আহমেদ নামের এক হকার নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে।

তার সহকর্মী মইনউদ্দিন জানান, রুকু সায়দাবাদ এলাকায় ফেরি করে পানি, জুস বিক্রি করত। দুপুরে বাসে পানি বিক্রি করার সময় সুরমা পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহি বাস তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে দুপুর দুইটার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

স্থানীয়রা বাসটিকে আটক করে। মৃত রুকু কুমিল্লা জেলার মুরাদ নগর উপজেলার আব্দুল খালেকের ছেলে। বর্তমানে সে সায়দাবাদ ওয়াসা রোডের একটি মেসে থাকত। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় ৫ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক: আশুলিয়া ও রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি অস্ত্রসহ ৫ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের আটক করা হয়। গতকাল সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব একথা জানিয়েছে।

আটককৃতরা হলো, রুবেল শেখ (২৪), সোহেল মোল্লা (২৪), বাহেস শেখ (৩২), আব্বাস মিয়া (২৫) ও আরিফুল ইসলাম আরিফ ওরফে পানি আরিফ (২৫)। তাদের কাছ থেকে চারটি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১ এর সিইও তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, আশুলিয়ার ল্যান্ডিং পয়েন্টে র‌্যাব-১ চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় নীল রঙের একটি পিকআপ দ্রুত পালিয়ে যায়। র‌্যাবের গাড়ি তাদের ধাওয়া করে উত্তরার আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে আটক করে। পিকআপ থেকে রুবেল, সোহেল আর বাহেসকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে গাড়ির বাম পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে টেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় চারটি বিদেশি পিস্তল, ৩৮ রাউন্ড গুলি ও ৮টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, অস্ত্রের এ চালান উত্তর বাড্ডার কাঁচাবাজর এলাকার তারেক আহমেদ অনি এবং তাদের সহযোগী আব্বাস আহমেদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। পরে রাতে আটককৃতদের নিয়ে বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ও পানি আরিফকে গ্রেফতার করে। তবে এ ঘটনার মূল হোতা অনি ও তার সহযোগী বাদশা পালিয়ে যায়। পরে পানি আরিফের বাসা তল্লাশি করে আরও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করে র‌্যাব। 

র‌্যাব জানান, অনি উত্তর বাড্ডার স্বচ্ছল পরিবারর সন্তান। সে ঢাকার মানারত স্কুলের ছাত্র ছিল। সে পেশায় একজন ডিজে (ডিস্ক জকি)। ডিজে হওয়ার সুবাদে সে মাদকাসক্ত হয়ে একসময় নিজেই মাদক ব্যবসা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে বাড্ডা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় অনি। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর আশাপাশের এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে। মূলত অস্ত্রে চালান এনে পানি আরিফের বাসায় লুকিয়ে রাখতো তারা। অনির দলের আরও ১৫-২০ জন আছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ