ঢাকা, বুধবার 7 December 2016 ২৩ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ জায়গা মানেই রোমান্টিক শহর

জাফর ইকবাল : দেশ ভ্রমণ বা সুন্দর একটি জায়গায় ঘুরতে কার না ইচ্ছে করে। সেই সুন্দর জায়গায় যদি পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে হয় তাহলে মজাটাই আলাদা। প্রেমপিয়াসী মানুষ তার পছন্দের মানুষটিকে সবসময়ই চায় খুশি করতে। তাই ঘুরতে যায় পৃথিবীর বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর স্থানে। আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এমন রোমান্টিক কিছু জায়গায়। প্রাকৃতিক ও সামাজিকভাবে গোছানো এবং নিরাপদ তেমনই কয়েকটি শহরকে রোমান্টিক শহর বলেই জানে সবাই। জেনে নিন আপনিও-
প্যারিস, ফ্রান্স: পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক শহর কোনটি? এমন প্রশ্নের জবাবে সবাই একবাক্যে মেনে নেবেন যে শহরটিকে; তার নাম প্যারিস। ফ্রান্সের প্যারিস নগরীকে বলা হয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল। এই নগরীকে দেখে প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। যারা একবার ফ্রান্সে বেড়াতে গিয়েছেন আর পা পড়েনি প্যারিসে, তা যেন হওয়ার নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক শহরটির নাম তাই প্যারিস। প্যারিসের মতো গোছানো শহর খুব কমই রয়েছে। পর্যটকদের প্রিয় এই শহরটি নতুন প্রেমিক-প্রেমিকা ও নবদম্পতিদের সময় কাটানোর জন্য বিখ্যাত। পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ বাতাসে ঘুরে বেড়ানো মানুষের মনে মুহূর্তেই আনন্দের জোয়ার ওঠে এই শহরে এসে।
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া: সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় ভীড় লেগেই আছে সিডিনিতে। নজরকাড়া সমুদ্র  সৈকত, অপেরা হাউজ এবং খোলামেলা পরিবেশ পর্যটকদের ভালোবাসাকে আরও রঙিন করে তোলে।
কিটো, জাপান: জাপানের কিটো শহরটি অত্যন্ত শান্ত এবং মনোরম। এটি একটি ঐতিহাসিক শহরও। বসন্তকালে এই শহরে ফোটে চেরি ফুল। সে ফুলের সৌরভ এবং সৌন্দর্য্যে পর্যটকরা মাতাল অনুভূতি লাভ করে এবং একে-অপরের ভালোবাসায় বিলীন হতে চায়। মধু চন্দ্রিমায় অনেকেই এই শহরটাকেই বেছে নেন। এ ছাড়াও শহর জুড়ে রয়েছে অসংখ্য রোমান্টিক স্থান, যেখানে সময় কাটিয়ে জুটিরা সারা জীবনই তা মনে গেঁথে রাখে।
ব্রুজেস, বেলজিয়াম: এ শহরে গেলে নৌকায় চড়ে না এমন জুটি খুঁজে পাওয়াই ভার। প্রচুর পরিমাণে পর্যটক সমাগম হয় এখানে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও এ শহরে রয়েছে অনেক লেক। লেকের দু’ধারে রয়েছে সুশৃঙ্খল গাছপালা। প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ এখানে অন্তঃস্থলের ভালোবাসাকে টেনে বের করে আনে। প্রিয়জনকে নিয়ে আরেকটু ভালো সময় কাটাতে নির্দিধায় ব্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া যায়। প্রাচীন এই শহরটি ক’দিনেই আপন বানিয়ে ফেলে পর্যটকদের।
ডুব্রভনিক, ক্রোয়েশিয়া: উনিশ শতকের নানা স্থাপত্যে সমৃদ্ধ এই শহর। সমুদ্রের সঙ্গেও এ শহরের দারুণ মিতালি। নিমিষেই মিতালি করে ফেলে এ শহরে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের সঙ্গেও। স্থাপত্বের আলাদা বৈশিষ্টপূর্ণতা নতুনত্বের স্বাদ দেয়। রোমান্সের জন্য যা কি না অত্যাবশ্যকীয়।
ফ্লোরেন্স, ইতালি: বহু বছরের পুরনো স্থাপত্ব এবং পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রকর্মের জন্য ইতালির ফ্লোরেন্স শহরটি বিখ্যাত। ছবির মতোই এ শহরটি সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর। শিল্পের প্রতি যদি আপনি একটু মনোযোগী হয়ে থাকেন তবে এ শহরটি আপনাকে ছাড়তেই চাইবে না। আর শিল্প সমৃদ্ধ শহর মানেইতো রোমান্সের ছড়াছড়ি।
ওয়েলিংটন, নিউজিল্যন্ড: নিউজিল্যান্ড দেশটির পুরোটাই সৌন্দর্যের লীলাভূমি। তবে ওয়েলিংটন স্থান করে নিয়েছে রোমান্টিক শহরের তালিকায়। কারণ এখানে রয়েছে দারুণ সমুদ্র বন্দর। এ ছাড়াও সারা শহরটিতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বোটানিক্যাল গার্ডেন। সুন্দর প্রকৃতি এবং প্রাণীবৈচিত্র্য সেখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
লিসবন, পর্তুগাল: লিসবন শহরকে বলা হয় শিল্পী আর লেখকদের তীর্থভূমি। এ শহরে জমায়েত হয় পৃথিবীর বিখ্যাত সব লেখক ও অভিনয়শিল্পী। প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যমন্ডিত এই শহর চোখ জুড়িয়ে দেয় পর্যটকদের। এই শহরের চারপাশ দেখলে অনেকেই ভাববেন এ যেন কোনো চিত্রশিল্পীর মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা কোনো নগরী। এত সুন্দর শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। বিশুদ্ধ বাতাস, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আর নিরাপদ শহর এটি। এখানকার রাস্তাগুলোতে হাঁটলে নজর কাড়ে রাস্তার দু’ধারে সীমান্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্য। এই শহরের লাবণ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অনেকেই বলে থাকেন লিসবন গুপ্তরহস্যের শহর।
ভেনিস, ইতালি: ভেনিসকে বলা হয় ভাসমান শহর। কারণ সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্রতিদিনই ডুবে যায় এ শহর। তখন মানুষের যানবাহন হয়ে যায় ছোট ছোট নৌকা! ইতালির এই শহরটির মতো নান্দনিক শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। পুরো শহরটির বুকচিরে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের প্রবাহ। পরিষ্কার জলের এই লেকগুলো এতটাই স্বচ্ছ যেন গা- ঘেঁষে মাথা উঁচু করে থাকা দালানগুলোর প্রতিবিম্ব আর আকাশে ছুটে চলা মেঘ যেন নেমে এসেছে পানিতে। এই শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকা। এসব নৌকায় করে আপনি চলতে পারবেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। এই শহরে নেই কোলাহল, নেই যান্ত্রিক ব্যস্ততা। শুধু প্রশান্তি যেন বিছিয়ে আছে পুরো শহরটিতে। পর্যটকদের দারুণ পছন্দের এই শহরটি পদচারণায় মুখর থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। ক্যানেলগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দালানগুলোর নান্দনিক কারুকার্জ এই শহরটিকে করেছে আরও মনোমুগ্ধকর। এই শহরের সৌন্দর্যের রহস্য ভেদ করতে বেড়িয়ে দেখতে হবে নিজেকেই! প্রেমময় এমন শহর যেন দ্বিতীয়টি আর নেই।
লন্ডন, ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডের মুকুট বলা হয় লন্ডন শহরটিকে। এই শহরটিও বেশ গোছানো ও পরিকল্পনামাফিক গড়ে ওঠার কারণে এই শহরের পরিবেশ পৃথিবীর রোমান্টিক সিটি হিসেবে গণ্য করেছে। পৃথিবীর বসবাসযোগ্য, সুস্থ নগরী হিসেবে লন্ডনের তুলনা লন্ডনই হতে পারে। সুপ্রশস্ত রাস্তা, সুন্দর বসবাসের বাড়ি, আইনশৃঙ্খলার নির্ভরযোগ্য পরিবেশ- সবমিলিয়ে লন্ডন হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মেট্টোপলিটন সিটি। নাগরিক কোলাহল থাকলেও এ শহরকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে করেন প্রেমপিয়াসীরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই শহরে এসে ভিড় করেন সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর জন্য। সবুজে ঢাকা নগরী লন্ডনে রয়েছে আধুনিকতার সর্বোচ্চ ছোঁয়া। এখানকার নাইটক্লাবগুলো জমে ওঠে রাতের বেলা। রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন সংস্কৃতির সুস্বাদু ও বিখ্যাত খাবার। রাতের বেলা ঘুমানোর জন্য রয়েছে আরামদায়ক আবাসন। আপনার প্রিয় মানুষেদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এসব শহর থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ