ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 December 2016 ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশা-নিরাশার দোলাচলে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন

আব্দুর রাজ্জাক রানা : (গত সংখ্যার পর)
মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ধ্বংসের পথে: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। দফায় দফায় কমপ্লেক্সটি নির্মাণে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হলেও ব্যবহারের উপযোগী এখনো হয়নি। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে আর শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মধ্যে। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের । বর্তমানে ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির মাঠ ঘাসের ক্ষেত। ঝোপ ঝাড়ে পরিপূর্ণ আশপাশের এলাকা। রয়েছে সাপের উপদ্রব। এরই মধ্যেই খুলনার উদীয়মান ক্রীড়াবিদ মেয়েরা প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি নির্মাণে শুরুতে বরাদ্দ ছিল ১৭ কোটি টাকা। পরে কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়ায় ২০ কোটি টাকা। কিন্তু ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এর বেহাল দশা। সেখানে প্রতিদিন চলছে ভলিবলের প্রশিক্ষণ। কিন্তু প্রশিক্ষণটি মাঠে না জঙ্গলে এইটা ভেবে বলতে হবে। মাঠে ঘাস, ঘাস খাচ্ছে গরু ছাগল। খেলার কোন জায়গা বরাদ্দ করে চি‎িহ্নত করা নেই। এর থেকে বড় কথা মাঠের মধ্যে রয়েছে সাপের বসবাস। এখানে কিভাবে প্রতিদিন এই মেয়েগুলো খেলাধুলা করছে? এই মেয়েরাই আবার বছর শেষে খুলনার জন্য বয়ে আনছে সম্মান নামের পদক। হাজারো গ-ি পেরিয়ে এই মেয়েরা তাদের পরিবারের সাথে, সমাজের সাথে যুদ্ধ করে মাঠে আসছে খেলতে এবং হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উত্তরে প্রায় ৯ একর (বড় ১৮ বিঘা) জমির ওপরে গড়ে উঠেছে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। ২০১১ সালে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনায় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজের মধ্যে ছিল ভবন সম্প্রসারণ, সীমানা প্রাচীর, জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ। দুই বছর মেয়াদে এই নির্মাণ কাজ ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পরে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে গেলো বছরের মাঝামাঝি কাজ শেষ হয়। একই সাথে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দারিয়েছে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এইসব অবকাঠামো একবারের জন্যও ব্যবহার করতে পারে নাই কোন খেলোয়ার। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর আগেই ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পরেছে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুলের জন্য দুটি পৃথক ভবন মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স এ নির্মাণ করা হয়েছে। সুইমিং পুল আছে কিন্তু পানি নেই। তিন মাস যাবৎ সাবষ্টেশন নষ্ট হয়ে আছে এজন্যই পানি এবং বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ। জিমনেসিয়াম নামে একটা ভবন সেখানে আছে কিন্তু আদৌ খেলোয়াড়রা ব্যবহার করতে পারবে কি না এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জানা গেছে, গত বছরে ভবনের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এক বছরেই কোন ব্যবহার ছাড়াই ভবনে একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। কারণটা কি? কবে নাগাদ কিভাবে এটি ঠিক হবে, মাঠ সহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট কবে ব্যবহারের উপযোগী হবে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ হলেও তা থেকে খুলনার কোন মহিলা খেলোয়াড় বা অন্য কেউ এর সুফল পাচ্ছে না। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মোট ২৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারী দায়িত্বে রয়েছেন। তাহলে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠসহ ভবনগুলো এতো অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন কেন? লোকবলের অভাব না কি দায়িত্বের অভাব?
সেখানে খুলনা বিভাগীয় টিমের মেয়েরা প্রতিদিন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে সোহেলী, রানু, বেবী, তাহমিনা আরো অনেকে। খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের ভলিবল খেলোয়াড় রানুর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এখানে প্রায় ৭/৮ বছর যাবৎ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। যখন মহিলা কমপ্লেক্সের ভেতরে শুধু একটা অফিস কাম হোস্টেল ভবন ছিলো, সীমানা ঘেরা ছিলো বাস কাঠের বেড়া দিয়ে। তারা এইভাবেই কষ্ট করে প্রতিদিন খুলনা টুটপাড়া সরকার পাড়া থেকে সোনাডাঙ্গা আসে শুধু মাঠকে ভালোবাসার জন্য। যদিও রিকশা ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু টিফিনের কোন ব্যবস্থা নেই। অনেক বছর পরে জিমনেসিয়াম করেছে কিন্তু আমরা খেলোয়াড়রা এখনো একটি বারের জন্য জিমনেসিয়ামে প্রশিক্ষণ নিতে পারিনি তাহলে কাদের জন্য এই জিমনেসিয়াম তৈরি করা হয়েছে? দীর্ঘদিন কষ্ট সহ্য করেও খুলনার মেয়েরা খুলনা বিভাগের জন্য অনেক কৃতিত্ব বয়ে এনেছে।
জিমনেসিয়ামে কনফারেন্স রুমে কনফারেন্স টেবিল সহ ৮/১০ টি চেয়ার এবং একটি ওয়ারড্রোব রয়েছে। কিছু ফ্যানও আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব। জিম রুম একটি সেখানে শরীর চর্চার কিছু মেশিন রয়েছে কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। নোংরা এবং অযন্তে জিনিসগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্যালারীর জন্য অনেকটা জায়গা রাখা হয়েছে কিন্ত ছিট পা প্লাস্টারের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। প্রায় ৪/৫ মাস আগে বৈশাখী ঝড়ে জিমনেসিয়ামের কিছু কিছু গ্লাস ভেঙে গেছে কিন্তু সেগুলো এখনো পর্যন্ত সেভাবেই পরে আছে। ২৩ লাখ টাকায় কেনা একটি রোলার ও ঘাস কাটার মেশিন রয়েছে কিন্তু বিগত ৮/৯ বছর যাবৎ অকেজো হয়ে পরে আছে। এভাবেই মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যান্য ইকুয়েভমেন্ট যতœ ও পরিষ্কারের অভাবে বিকল হয়ে পরছে। সেই শুরু থেকে একটি খুবই সাধারন গেইট রয়েছে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। যে কেউ লাফ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে অনায়াশে।  যেহেতু সেখানে মেয়েরা প্রশিক্ষণ নেয় সেহেতু তাদের জন্য এটি অ সুরক্ষিত স্থল। একটি মাত্র দারোয়ান রয়েছে মেইন গেটে।
মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ভলিবলের কোচ এসএম রেজাউল করিম জানান, তিনি সপ্তাহে পাঁচদিন মেয়েদের ভলিবল প্রশিক্ষণ করান। অনেক জায়গা থাকলেও প্রশিক্ষণ করার মতো মাঠের অবস্থা নেই। মাঠে ঘাস ও লতাপাতার বিচরণ, সাপের ভয়ে থাকতে হয় প্রতিটি সময়। এভাবে প্রশিক্ষণ করতে উৎসাহি হচ্ছে না নতুন খেলোয়াড়রা তাতে করে সামনে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলাগুলোতে তাদের সেরাটা দিতে পারবে না। দুইজন মাঠকর্মী থাকলেও মাঠের পরিচর্যার অভাব রয়েছে তাতে করে মাঠ জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে দিনের পর দিন। পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রীর অভাব।  আমি ব্যক্তিগত ভাবে ভলিবলের কিছু বল এনে মেয়েদের প্রশিক্ষণ করাচ্ছি।
খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বেগম ফেরদৌসি আলী বলেন, মহিলা কমপ্লেক্স নিয়ে আমরাও ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমপ্লেক্সের কার্যক্রম ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল এর আওতায়। ভবনের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে বেশ কয়েকবার লিখিত ভাবে ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলকে জানানো হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন পদক্ষেপ নেননি।
বিকেএসপি এক অনন্য চুড়ায়: জাতীয় ফুটবলের দুর্দিন কোনমতেই যেন কাটছে না। সাব গেমসে পরাজয়ের বৃত্ত  থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। ঘরোয়া ফুটবলেও দর্শক স্বল্পতা, সেই সাথে পরাজয়ে র‌্যাংকিং পিছিয়েছে  পেছনের সারিতে।
তবে এরই মধ্যে খুলনা বিকেএসপি (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) সৃষ্টি করেছে অনন্য এক কৃতিত্ব। সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৪ সুব্রত মুখার্জী কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। আর ১৬ জনের টিমের ১৫ জন কিশোরই ছিলো খুলনা বিকেএসপি’র। বর্তমানে খুলনায় বিকেএসপি’র এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (আফিল গেট) মোট ৪৫ জন কিশোর প্রায় এক বছর ধরে ফুটবলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বয়স ভিত্তিক এই টিমকে বিশেষ ব্যবস্থায় সকাল-বিকেল প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে চলছে পুঁথিগত পাঠদান।
‘সকালে মাঠে দেড় ঘণ্টার প্রশিক্ষণ, তারপর ৪৫ মিনিটের বিরতি, সকালের নাস্তা। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু স্কুলের কার্যক্রম। বিকেলে ছুটির পর আবারো মাঠে ছোটাছুটি’-কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলায় এভাবে কিশোর ফুটবলারদের গড়ে তোলা হচ্ছে খুলনা বিকেএসপিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা  গেছে, ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণের পর এখানে খ-কালীন-এক মাস/দুই মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। ২০১২ সাল থেকে খুলনায় শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বছরব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে স্কুল কার্যক্রমে এখানে ছয়জন নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছেন গেম ভিত্তিক প্রশিক্ষক। ফুটবল ছাড়াও খুলনা বিকেএসপিতে ক্রিকেট, ইনডোর জিমনেশিয়াম-তাইকান্তো, টেবিল টেনিস, জুডো প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। একসাথে একশ’ প্রশিক্ষণার্থী হোস্টেল সুবিধাসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।  খুলনা বিএকেএসপি’র প্রশাসনিক শাখার প্রধান মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ক্রীড়া শিক্ষার এক অদ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম বিকেএসপি। এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কিশোর-তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানসম্মত পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকেএসপি ফুটবলের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য টেস্ট ম্যাচ, ওয়ানডে ও টুয়েন্টি টুয়েন্টি’র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেলোয়াড় প্রস্তুতে সক্ষম হয়েছে। সাকিব ও মুশফিক বিকেএসপি’র ‘প্রোডাক্ট’। তাদের পথ ধরেই এসেছে সৌম্য সরকার, মো. নাসির, লিটন দাস, মিঠুন আলী, এনামুল হক বিজয়, আব্দুর রাজ্জাকসহ আরো অনেকে। তিনি বলেন, প্রতিবছরের ডিসেম্বর থেকে বিকেএসপিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে খুলনায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। সারাদেশ থেকে ভর্তির আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিভাবান নির্দিষ্ট একটি টিমকে খুলনায় পাঠানো হয়।
জানা গেছে, বিকেএসপিতে মোট ১৭টি গেমে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। ১৯৮৭ সালে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে মোট ৩৬ জন ক্রিকেট প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে বিকেএসপিতে ক্রিকেট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় মানসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাদি ছিল সীমিত। কিন্তু ধীরে ধীরে উন্নতির সাথে ক্রিকেট বিভাগের ফলাফল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টি করেছে। বিকেএসপির সূচনা হতে আজ বিকেএসপির ক্রিকেটে সুবিধাদি ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, খুলনা বিকেএসপিতে অবকাঠামোগত সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও। এখানে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এ অঞ্চলের প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের এখানে ভর্তির বাড়তি সুবিধা নেই। ইনডোর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও নেই সাঁতারের জন্য সুইমিং পুলের ব্যবস্থা। এছাড়া খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের এই প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোন কোস্টার বা মিনিবাস নেই। ফলে কোথাও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাইরে থেকে বাস ভাড়া করে নিয়ে যেতে হয়। এতে প্রতিবারই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, খেলোয়াড় তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি সারাবছর ধরে পরিশ্রম করলেও ক্রিকেটের মতো ফুটবলে সাফল্য ধরা দেয়নি। আর এজন্য জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে জানান এখানকার প্রশিক্ষক-কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ফুটবলকে এগিয়ে নিতে তৃণমূলে বয়স ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তৈরি করতে হবে দেশজুড়ে ফুটবলের জাগরণ। আর এটা করতে পারলেই ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও সাড়া ফেলতে পারবে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতাত্তোর খুলনায় ফুটবলে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা হলেন-জহির, জহুর, লতিফ, ফারুক, বড় আনোয়ার, গাজী, কাওছার, বড় মুনসুর, ছোট আনোয়ার, আকরাম, রঘুনাথ, ভিরু,  ভীম, অনুরুদ্ধ, হাফিজ, হালিম, লুৎফর, শেখ মো. আসলাম, সালাম মুর্শেদী, টিপু, নাসির, শহিদুল ইসলাম লালু, সাথি, লোভন, মামুন জোয়ার্দার, রিজভী করীম রুমী, জসিম উদ্দিন জোসি, চঞ্চল, প্রাণতোষ, প্রশান্ত, রিক্ত, উজ্জ্বল, বড় জাহাঙ্গীর, ছোট জাহাঙ্গীর, নিত্য, কিঙ্কু, পলাশ, মুনসুর টুটাম, রাজ, ছোট বাবু, আতা, বায়েজীদ, অমিত প্রমুখ।
ক্রিকেটে আব্দুস সাত্তার কচি, বাদশা, জাহাঙ্গীর, সাজ্জাদুল ইসলাম সেতু, মাঞ্জারুল ইসলাম রানা, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আব্দুর রাজ্জাক রাজ, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, জিয়াউর রহমান জনি, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহানুর রহমান সোহান, তুষার ইমরান, সৈয়দ রাসেল, মঞ্জুরুল ইসলাম, শেখ আবুল হাসান রাজু প্রমুখ। মহিলা ক্রিকেটে সালমা খাতুন, আয়েশা, রুমানা, জাহানারা উল্লেখযোগ্য। পুরুষ ভলিবলে এক সময় খুলনা নেতৃত্ব দিয়েছেন। যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা হলেন-আইয়াজ খান, ইকবাল, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল গফ্ফার, মুকুল, জোবায়ের হোসেন, ডলার, জহির, সাইফুল ইসলাম, মুক্তা, হাবলু, আসলাম হোসেন, টিটো এবং মহিলা ভলিবলে ৯০ দশকে ইভা ও টুম্পাসহ ১২ জনই ছিল খুলনার। একই সঙ্গে তারা হ্যান্ডবলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এক সময় জাতীয় ব্যাট মিল্টনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আপন দুই ভাই। তারা হলেন-আবুল কাশেম ও আবুল হাশেম। ভার উত্তোলন ও শরীর গঠন প্রতিযোগিতায় এক নাগাড়ে কয়েক বারের চ্যাম্পিয়ন ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া নিমাইয়ের নেতৃত্বে কুস্তি দল বেশ কয়েকবার শিরোপা অর্জন করেছেন। সর্বশেষ মেহেদী হাসান মিরাজ এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন বিস্ফোরণ। মাটির ছেলে মিরাজই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনার ছেলে। যাঁর হাত ধরে আগামীতে অগণিত সোনালি সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে এখন এই ক্রিকেট-মানচিত্র! (সমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ