ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গঙ্গামতি যেন লাল কার্পেট বিছানো সৈকত

অনলাইন ডেস্ক : বরগুনার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সমান্তরালে গঙ্গামতি সৈকত। এখান থেকেই মূলত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। গঙ্গামতি সৈকতকে লাল কার্পেটের সৈকত বলা হয়। সৈকত জুড়ে ছোট ছোট লাল কাঁকড়ার সমারোহ, ছুটোছুটি। বালুতটে কাঁকড়ার লুকোচুরি দূর থেকে দেখলে মনে হবে পর্যটকদের অভ্যর্থনার জন্য সৈকত জুড়ে লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখা হয়েছে। 

গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন ¯পট। জোয়ারের সময় কুয়াকাটা সৈকত পানিতে তলিয়ে থাকায় গঙ্গামতি সৈকতে পর্যটকদের পদচারণা বাড়ছে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ ছাড়াও বিস্তীর্ণ সৈকতে লাল কাঁকড়ার খেলা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। শীতের শুরুতেই এই সৈকতে অতিথি পাখি আসা শুরু করেছে ।

কলাপাড়ার উপজেলা শহরের আন্ধারমানিক নদীর বালিয়াতলী স্টেশনের একটি মাত্র খেয়া পাড় হয়ে সড়ক পথে গঙ্গামতি সৈকতে পৌঁছতে মাত্র এক ঘন্টা সময় লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে কুয়াকাটার এ বিকল্প সড়ক পথে গঙ্গামতি সৈকত ঘুরে পর্যটকরা কুয়াকাটায় রাত্রিযাপন করতে পারেন। 

কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থান। প্রায় তিন হাজার একরেরও বেশি খাস জমি নিয়ে বিশাল সমুদ্রের বেলাভূমি। মাইলের পর মাইল বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য যেন সাজিয়ে রাখা। এ বনাঞ্চলে বিরল প্রজাতির পাখিসহ চোখে পড়বে বন্য শুকর, কাঠ বিড়ালী, শিয়াল ও বানর। কুয়াকাটা সৈকত থেকে গঙ্গামতি সৈকতের দূরত্ব মাত্র ৭ মিলোমিটার। এখানে গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকল ঋতুই পাখিদের কলরবে মুখরিত থাকে। সৈকতে সারি সারি জেলে নৌকার বহর। গঙ্গামতি সৈকতের কাছেই মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে শত বছরের পুরানো এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। এখানে ঘুরতে এলে উপভোগ করা যায় রাখাইন সংস্কৃতি। এ পাড়ায় রয়েছে রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষায় শেখার জন্য রয়েছে নিজ সংস্কৃতির স্কুল। 

পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, কুয়াকাটা সৈকতের চেয়েও এ গঙ্গামতি সৈকতের প্রস্থ বেশি। এ সৈকতকে ঘিরে শত কোটি টাকার প্রকল্পে লগ্নি করেছে বিভিন্ন হাউজিং কো¤পানী ও ব্যক্তিমালিকানার প্রতিষ্ঠান। হোটেল-মোটেল নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে। কয়েক বছরের মধ্যেই গঙ্গামতি সৈকত হয়ে উঠবে এক আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। সূত্র: বাসস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ