ঢাকা, শুক্রবার 9 December 2016 ২৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাদাম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি

খুলনা অফিস :  বাদাম বিক্রেতা থেকে মাদক সম্রাট শাহজাহান হাওলাদার এখন কোটিপতি বনে গেছে। মহানগরীতে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কয়েকবার গ্রেফতার হয়। দেশী-বিদেশী মদ, বিয়ার, জাল টাকা ও মূর্তিসহ শাজাহানের নিজস্ব বাহিনী গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। জামিনে বেরিয়েও আসে। এখন সে ধরাছোঁয়ার বাইরে। শাজাহানের রয়েছে ৩০ জন বেতনভুক্ত লাইনম্যান। একাধিক বিয়ে রয়েছে তার। দেশী-বিদেশী ও বিয়ারের পাশাপাশি সে এখন ইয়াবা ব্যবসায়ও সিদ্ধহস্ত। শাজাহানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি মাদক মামলা রয়েছে। অসাধু পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সে নির্বিঘেœ মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুমারীয়া জোলার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদার ওরফে মজিদ মিস্ত্রির (কাঠমিস্ত্রি) ছেলে শাজাহান হাওলাদার ওরফে সম্রাট শাজাহান ৮০ দশকে খুলনায় আসেন। তখন সে নগরীর নতুন বাজারের একটি মাছের দোকানে কর্মচারী। পরবর্তীতে সে নিজেই সাদা মাছ বিক্রি করতে শুরু করে। 

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, নগরীর কোর্ট এলাকায় ঘুরে ঘুরে সে বাদাম বিক্রি করতো। ২০০০ সালের পর অবৈধ মাদক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অল্পদিনে সে কোটিপতি বনে যায়। এ সময় তার গ্রামের বাড়ি মসজিদে দান করতে চেয়েছিল। কিন্তু কমিটি তার মদ বিক্রির টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহৃত হবে না বলে জানায়। এলাকায় তার বাবার নামে স্বঘোষিত মজিদ সরণী নামে একটি রাস্তা তার নিজের টাকায় নামকরণ করা হয়। গ্রামে রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত সড়কটিও টাইলস দিয়ে তৈরি করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ নবেম্বর সকাল ১১টায় নগরীর ক্লাব সংলগ্ন পুলিশ লাইনের সামনে থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মাদক সম্রাট শাজাহান হাওলাদারকে ১৮ বোতল মদসহ আটক করে। পরে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আর আটক করতে পারেনি।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার ৩০ থেকে ৪০ জন বেতনভুক্ত লাইনম্যান রয়েছে। ওই সব লাইনম্যানকে মোবাইলে ফোন করলেই নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে যায়। তার স্ত্রী ও সন্তান মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। এরপর থেকে সে মাদক বেচাকেনার রুট পরিবর্তন করে। সম্প্রতি সে এই মাদক ব্যবসাকে ডিজিটালাইজড করেছে। এখন ভোর থেকে তার মাদক চালান ও বেচাকেনা হয়। সন্ধ্যা বা রাতে মাদক সাপ্লাই খুব কম দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিকাশের মাধ্যমে আগে টাকা পাঠালে দ্রুত মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া তার অধীনে রয়েছে ১৫-২০ জন সুন্দরী নারী। এসব নারীদের স্ত্রী সাজিয়ে নগরীর অভিজাত এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে শাজাহান গড়ে তুলেছে মাদকের আড়ৎ। গোপন আস্থানা থেকে সে মদ সরবরাহ করে খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে। চট্টগ্রাম, মংলা বন্দর ও ঢাকা থেকে শাজাহানের মাদকের চালান আসে। এখন সে ইয়াবাও বিক্রি করছে। এ পর্যন্ত তার কয়েকজন স্ত্রীর সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে মুন্নী আক্তার, পারুল ও ফরিদা পারভিনের নাম উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ