ঢাকা, শুক্রবার 9 December 2016 ২৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: ডাক্তার, নার্স, আয়া, নাইট গার্ড সবাই মিলে ১২/১৩জন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। চার সন্ত্রাসী দ্বিতীয় তলায় উঠে অস্ত্রের মুখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে বেডে ভর্তিরত মায়ের সাথে থাকা ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় অপহরণের কিছুক্ষণের মধ্যে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে ঐ স্কুল ছাত্রীকে সন্ত্রাসীরা গণ ধর্ষণ করে তার ইজ্জত লুটে নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এঘটনায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। 

গত মঙ্গলবার হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১নং বেডে কথা হয় ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেনুয়ারা বেগম (৩৫) এর সাথে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আমার মেয়ে জ্যোৎ¯œা আক্তার সোমবার সন্ধায় তার পিতার সাথে অসুস্থ মাকে দেখতে আসে হাসপাতালে। ঘরে কেউ না থাকার কারণে স্বামী কলিম উল্লাহ (৪০) সোমবার রাতে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব সোনারপাড়া গ্রামের বাড়ি চলে যায় হাসপাতালে মেয়েকে রেখে। তিনি আরো বলেন, সোমবার রাতে ওয়ার্ড থেকে পার্শ্ববর্তী বাথরুমে যাওয়ার সময় হাসপাতাল করিডোর থেকে তার মেয়েকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। 

এঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের রোগীরা চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও নাইট গার্ডরা হাসপাতালের উত্তর পাশের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন কবরস্থান থেকে রাত ১টার দিকে বিবস্ত্র অবস্থায় ঐ কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে বলে স্থানীয় উদ্ধারকারী নজরুল সহ কয়েকজন জানায়। ঐ কিশোরীর পিতা কলিম উল্লাহ বলেন, একটি সরকারি হাসপাতালে সব কিছু থাকার পরও কি করে সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের ২তলায় উঠে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ ঘটালো এবং এর আদৌ সুষ্ঠু বিচার পাব কিনা জানিনা। সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের বেডে এসে আমার স্ত্রীকে এই ঘটনায় কোন ধরনের বাড়াবাড়ি করলে শেষ করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। এ কারণে মেয়েকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসি। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে আসি। 

ঐ রাতে উখিয়া হাসপাতালে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার আরিফা মেহের রুমী হাসপাতাল থেকে কিশোরী উঠিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন থাকায় হাসপাতালের কোয়াটার ছেড়ে কক্সবাজার আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে কয়েক দফা পুলিশী অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কোন অভিযোগ না আসলেও অতি দ্রুত সন্ত্রাসীদের আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাক্তার মিজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ কিশোরী পরিবারকে যাবতীয় সহযোগীতা প্রদান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ