ঢাকা, শনিবার 10 December 2016 ২৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুসলিম শল্যচিকিৎসাবিদ : আবুল কাশেম আল-যাহরাবী

মুজতাবা রিজা আহমাদ : চিকিৎসা ও ভেষজতত্ত্বে আরবীয়দের তথা মুসলমানদের দান অকুণ্ঠভাবে স্বীকৃত হলেও অনে ইউরোপীয় লেখক শল্যচিকিৎসা বিষয়ে মুসলমানদের পারর্শিতা সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করেছেন। কিন্তু তাঁদের এ সন্দেহ কতখানি অমূলক ও অসার তা প্রমাণিত হয়েছে কর্ডোভার বিখ্যাত সার্জন শল্যচিকিৎসাবিদ আবুল কাশেম আল-যাহরাবীর শ্রেষ্ঠ অবাদন ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে। মুসলমানগণ শল্যচিকিৎসায় কী পরিমাণ পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন এ গ্রন্থখানাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইউরোপে শল্যচিকিৎসাবিদ্যার ভিত্তি স্থাপিত হয় এ গ্রন্থের মাধ্যমেই।
আবুল কাসেমের পূর্ণ নাম “Abul Quasem Khalaf ibn Abbas al-Zahrawi”। তিনি স্পেনের শ্রেষ্ঠ নগরী কর্ডোভার শহরতলীর প্রধান অংশ আয-যাহরায়, কারো মতে ‘মদীনাতুয যাহরায় ৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। স্পেনের তৃতীয় খলিকা আবদুল রহমান (৯১২-৯৬০ খৃ.) তার প্রিয়তমা মহীয়ষী সুন্দরী যাহ্রার ইচ্ছানুসারে এই অপূর্ব নগরী নির্মাণ করেন। আবুল কাসেম এই নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিধায় তার নামের সাথে আল-যাহরাবী গ্রহণ করেছিলেন। ইউরোপে তিনি আল-বুকাসিস (অষনঁপধংরং), বুকাসিস (ইঁপধংরং) এবং আল-যাহারভিয়াস (অষুধযধৎারড়ঁং) নামে পরিচিত। তিনিই সর্বপ্রথম শল্যবিদ্যা প্রচলন করেন। ঐতিহাসিক হিট্টির মতে, “স্পেনের আরব চিকিৎসাবিদদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শল্যবিদ।” তার পিতা-মাতাও ছিলেন স্পেনের অধিবাসী।
আবুল কাসেম কর্ডোভার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং শিক্ষা সমাপনান্তে যাহরায় চিকিৎসা পেশা শুরু করেন। প্রথম থেকেই তিনি শল্যচিকিৎসায় আশ্চর্যজনক সফলতা লাভ করেন। ফলে, অতিদ্রুত সর্বত্র তার সুনাম, সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সফলতার স্বাক্ষর হিসেবে খলিফা আবদুর রহমান ও খলীফা আবুল হাকাম এ দু’জনেরই তিনি দরবারী চিকিৎসক নিযুক্ত হন। তিনি কর্ডোভার বিখ্যাত হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকও নিযুক্ত হন। তিনি তথাকার শল্যচিকিৎসা বিভাগের প্রভূত সংস্কার ও উন্নতি সাধন করেন। শেষ জীবনে আবুল কাসেম সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে চিকিৎসাগ্রন্থ প্রণয়নে মনোনিবেশ করেন। তিনি যাহরা নগরীতে সম্ভবত ১০১৩ খ্রিস্টাব্দে ইন্তিকাল করেন।
আবুল কাসেম আল-যাহ্রাবী পদার্থ, রসায়ন ও চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর ২০ খানা গ্রন্থ রচনা করেন। ১১ তবে পদার্থ ও রসায়নের উপর রচিত গ্রন্থ তাকে শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে পৌঁছাতে সক্ষম হয় নি। একমাত্র চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থগুলোই তাকে সে যুগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে মর্যাদা দান করেছে। তাছাড়া তার পদার্থ ও রসায়ন সংক্রান্ত গ্রন্থাবলী সম্পর্কে আলোচনা তেমন পাওযা যায় না। সংগত কারণেই তার চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর চিকিৎসাবিষয়ক যে গ্রন্থখানা তাকে শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারে সমাসীন করেছে সে গ্রন্থের নাম হলো : ‘কিতাবুত তাসরীফ লিমান আজিযা আনিত তালীফ। গ্রন্থখানা প্রদানত দু’খ-ে- শিক্ষাগত (ঊফঁপধঃরড়হধষ) ও কার্যকরী (ঊভভবপঃরাব) এবং ৩০টি অধ্যায়ে বিস্তৃত। প্রথম খ-ে এনাটমী (অহধঃড়সু), ফিজিওলজী (চযরংরড়ষড়মু) ও ডায়াটেটিকস (উরবঃবঃরপং)১২ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় খ-ে বিশেষত সার্জারী (ঝঁৎমবৎু) সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটিকে অধ্যাপক সারটন ‘গবফরপধষ ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ’ নামে অভিহিত করেছেন। এর চিকিৎসার অংশের চেয়ে সার্জারীর অংশ সর্বদিক দিয়ে উন্নত ও মৌলিকতার পরিচায়ক হলেও চিকিৎসার অংশেও মৌলিকতার অভাব নেই। ঔষধ তৈরি করতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অনুসরণে পতন (উরংঃরষষধঃরড়হ) ও ঊর্ধ্বপাতন (ঝঁনষবসধঃরড়হ) প্রথা প্রয়োগ করেছেন।১৩
এসব দিক দিয়েই গ্রন্থখানাকে অভিনব বলা চলে। দ্বিতীয় খ- অর্থাৎ কার্যকরী বা সার্জারী অংশে রয়েছে অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্যবলী, যার বর্ণনা নি¤েœ তুলে ধরা হলো :
শল্যচিকিৎসা প্রণালীর বিবরণ
দ্বিতীয় খ-ে যাহ্রাবী শল্যচিকিৎসার প্রণালী এবং উপযুক্ত অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে অতি আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত চমৎকার বিবরণ তুলে ধরেছেন। শল্যচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বহু অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি তিনি নিজেই প্রস্তুত করেছিরেন এবং সেসবের চিত্রসম্বলিত উদাহরণও তিনি ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থে সন্বিবেশ করেছিলেন। সচিত্র যন্ত্রপাতির উল্লেখ এ গ্রন্থের বিশিষ্টতার অন্যতম প্রধান দি। ড. এম আবদুল কাদের লিখেছেন : ‘আরব নবজাগরনের পূর্বের অল্প কয়েকটি চিত্র পাওয়া গেছে সত্য, কিন্তু আবুল কাসেমের পূর্বে অস্ত্রোপচার যন্ত্রের চিত্রাংকনের কোন বিধিবদ্ধ চেষ্টা হয়নি। মধ্য যুগের অধিকাংশ চিত্র তার গ্রন্থ হতেই গৃহীত।”১৪
তিনি নাকের ছিদ্রে ঔষধ দেয়ার, দাঁত তোলার, দাঁতের গোড়া সাফ বা স্ক্রেপিং করার, দাঁতের গোড়ার গোশ্ত কাটার, চোখের ছানি অপারেশন করার, অন্ধ চোখ চিকিৎসা করার, চোখের পলকের গোশত কাটার, শরীরের যেকোন অংশের বর্ধিত গোশ্ত বেঁচে ফেলার, তীর বের করার, মূত্রনালীর পাথর বের করার, ভাঙা হাড় বের করার, জরায়ূর মুখ প্রশস্ত করার, জরায়ূ থেকে গোশত বের করার, মৃত ভ্রুণকে বের করার দু’রকম যন্ত্র, মৃত ভ্রুণের অংগচ্ছেদ করার যন্ত্র এবং সাধারণ অন্ত্রচিকিৎসার কয়েকরকম যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেন।
এছাড়া তপ্ত লোহায় দগ্ধ করা, অন্ত্রের মধ্যেই পাথুরী ভেঙে গুঁড়ো করে ফেলা এবং অঙ্গচ্ছেদ ও শরীর ব্যবচ্ছেদের বিজ্ঞানসম্মত উৎকৃষ্ট প্রণালী সম্বন্ধেও যাহরাবীর ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগে আলোচিত রয়েছে। ১৫ এভাগে তিনি ধাত্রীবিদ্যা সম্বন্ধে আলাদা একটি অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন এবং এ সম্বন্ধে বহু আবশ্যকীয় শিক্ষা ও ব্যবস্থার কথাও তিনি আলোচনা করেছেন। অস্বাভাবিক উপায়ে গর্ভপাত করার দরকার হলে কিি কি কৌশল অবলম্বন করা উচিত এবং কি অবস্থায় তা করণীয় এ বিষয়গুলোও তার গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
ঐতিহাসিকদের মতে যাহরাবীই সর্বপ্রথম আরব বৈজ্ঞানিক যিনি ইউরোপে বৈজ্ঞানিক প্রথায় সার্জারীর প্রচলন এবং এর বিশদ বিবরণ প্রচার করেন।১৬ সার্জারী খ-ের বিশেষত্ব হলোÑ এর মধ্যে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ কোন আলোচনা করা হয়নি, ফলে এটা এমনিতেই পরিপূর্ণ বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ খ-টি পৃথকভাবে চিত্রাদিসহ প্রকাশিত হয়। ডা. ক্যাম্পবেলের মতে, “এ হলো এ বিষয়ের সর্বপ্রথম স্বাধীন সচিত্রগ্রন্থ” (ঞযব ভরৎংঃ রহফবঢ়বহফবহঃ রষষঁংঃৎধঃবফ নড়ড়শ ড়হ ঃযব ংঁনলবপঃ১৭।)
জিরাল্ড কর্তৃক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ
‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থের সার্জারী খ-টি জিরাল্ড ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ কর মূল আরবীসহ প্রকাশ করেন। ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করে গ্রন্থটির নাম দেন ‘উব ঈযরৎঁৎমরধ ’। এটি সালার্নো (ঝধষবৎড়হ) এবং মন্টেপেলিয়ার (গড়হঃবঢ়বষষরধৎ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।১৮ এ গ্রন্থে ২০০ প্রকার সার্জারীর যন্ত্রপাতির নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত হত। গ্রন্থখানা ইউরোপে কি পরিমাণ মর্যাদা লাভ করেছে তা বোঝা যায় এর বার বার অনুবাদ থেকেই। ডা. ক্যাম্পবেলের মতে, গ্রন্থখানা পর পর পাঁচবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।
ইউরোপে এ গ্রন্থের প্রভাব
ইউরোপে এর প্রভাব সম্বন্ধে কিছুটা আভাস পাওয়া যায় পরবর্তীকালে ইউরোপীয় চিকিৎসারিবদদের গ্রন্থে এর উল্লেখ থেকেই। ড. মেজর রালফ-এর মতে ইউরোপের ‘ঞযব জবংঃড়ৎবৎ ড়ভ ঝঁৎমবৎু’ নামে পরিচিত ‘গাই দ্য চালিক’ (এুঁ ফব ঈযধঁষরপ) তাঁর গ্রন্থে দু’শতবার আবুল কাশেমের (অষনঁপধংরং) কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া রোজার (জড়মবৎ ড়ভ চধৎসধ), লালফ্রাঙ্ক (খধহভৎধহপ) ও সালিকেট (ঝধষরপধঃব) এই গ্রন্থ থেকে বহু উদ্ধৃতি দিয়েছেন।১৯ ইউরোপে এ গ্রন্থের ব্যাপক প্রভাবের আরেকটি কারণ হলো, এর সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং সহজ সুন্দর ভাষায় সব কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেয়া। মধ্যযুগের ইউরোপে এ গ্রন্থখানা এত অধিক প্রভাব বিস্তার করে যে, কেউ এর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার মত সাহস পেত না। গ্যালেনের চিকিৎসা বিষয়ক প্রভাবও এই গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে অতিমাত্রায় ক্ষুণœ হয়ে পড়ে।
সার্জারী বিষয়কে তিনটি পরিচ্ছদে বিভক্তিকরণ
‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থে সার্জারী বিষয়কে যাহরাবী তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। প্রথম ও বৃহত্তম পরিচ্ছেদটিতে ছ্যাঁকা দেয়ার (ঈধঁঃবৎু) প্রতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তখনকার সার্জারীর প্রথম পাঠই ছিল ছ্যাঁকা দেয়া এবং আবুল কাসেমও এর বিশেষ পক্ষপাতী ছিলেন। এ পরিচ্ছেদে ছ্যাঁকা দেয়ার নানা প্রকার যন্ত্রপাতির ছবি এবং ছ্যাঁকা দেয়ার বিভিন্ন ছবিও তিনি এঁকেছেন। তিনি মাধাধরা, আধকপালে, সন্নাস, পেডরকিউলোসিস (চধফৎপঁষড়ংরং), হেমিপ্লেজিয়া (ঐবসরঢ়ষবমরধ), হেমোরোয়েডস (ঐবসড়ৎৎযড়রফং), ২০
কটিবাত, গেটেবাত, গিব্াস (এরননঁং), হার্নিয়া, কুষ্ঠ, ক্যান্সার, বুকে পেটে ঠা-া লাগা এবং ধমনীর রক্তক্ষরণেও ছ্যাঁকা দেয়ার ব্যবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন।২১
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সার্জারী সম্বন্ধে সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে। এ অংশে তিনি লিথোট্রিটি (খরঃযড়ঃৎরঃু), লিথোটমী (খরঃযড়ঃড়সু), এম্পুটেশন (অসঢ়ঁঃধঃরড়হ)২২, চক্ষু চিকিৎসা এবং দন্ত চিকিৎসার বিষয়াবলীও বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। এতে ক্ষত, পুঁজযুক্ত ফোঁড়াদি (ঝঁঢ়ঢ়ধৎধঃরড়হ) কিভাবে চিকিৎসা করতে হয় তার বর্ণনাও দেয়া হয়েছে। যাহ্্রাবী মূত্রনালী থেকে পাথর বের করার বিষয়ে পূর্ববর্তীদের চিকিৎসা প্রথা কিছু কিছু অনুসরণ করলেও লিথোট্রিটি (খরঃযড়ঃৎরঃু) চাপ দিয়ে পাথর ভেঙ্গে ফেলার পদ্ধতি খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, মেয়েরা মেয়েদের লিথোটমী (খরঃযড়ঃড়সু) অপারেশন করবে তবে সেক্ষেত্রে পুরুষ সার্জনের উপদেশ ও নির্দেশ থাকবে।২৩
যাহ্্রাবী গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে ভাঙ্গা, অস্থিভঙ্গ, ত্বকের জখমসহ এবং জখমছাড়া ভাঙ্গা (ঋৎঁপঃঁৎবং), সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। মেরুদ-ের হাড় ভাঙ্গায় প্যারালাইসিস হতে পারে এবং কিভাবে এর চিকিৎসা করতে হয় সে সম্বন্ধেও তিনি বিশদ আলোচনা করেছেন। মৃত ভ্রুণ অপারেশন করার (ঈৎধহরড়পষধংঃু ঙঢ়বৎধঃরড়হ), পদ্ধতি সম্বন্ধেও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বস্তুত এটা বলা যায়, তিনিই এ পদ্ধতির উদ্ভাবক। প্রসূতির প্রসবকালীন অবস্থা বর্তমানে যা ‘ডধষপযধৎ’ং ঢ়ড়ংঃরড়হ’২৪ নামে পরিচিত তিনিও এ ধরনের একটি অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন তার ‘আত্্-তাসরীফ’ গ্রন্থে। যাহ্রাবী তাঁর গ্রন্থের শেষে বলেছেন: ‘আমি সংক্ষেপে অপারেশনের নানা প্রথার কথা আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে সমস্ত দরকারী যন্ত্রপাতির কথাও আলোচনা করেছি এবং চিত্র এঁকে দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে কাজ করতে হয়। সংক্ষেপে অপারেশনের নানা প্রথার কথা আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে সমস্ত দরকারী যন্ত্রপাতির কথাও আলোচনা করেছি এবং চিত্র এঁকেও দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে কাজ করতে হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে আমি এ কাজে যা কিছু জ্ঞাতব্য তার কিছুই বাদ দেইনি।২৫ একথা সর্ববাদি সম্মত যে, তাঁর এ গ্রন্থের প্রভাবেই ইউরোপে সার্জারীর মান বিশেষভাবে উন্নীত হয়।
“ঞযব ঝঁৎমবৎু ড়ভ অষনঁপধংরং নবপধসব ভরৎসষু মৎধভঃবফ ড়হ ঊঁৎড়ঢ়ব ধভঃবৎ এুঁ ফব ঈযধষরপ.”২৬
অনঁষ ছঁবংবস ঁৎমবফ ঃযধঃ ংঁৎমবড়হ সঁংঃ ‘নব ঃৎধরহবফ রহ ধহধঃড়সু ধং এধষবহ যধং ফবংপৎরনবফ রঃ, ংড় ঃযধঃ যব সধু নব ভঁষষু ধপয়ঁধরহঃবফ রিঃয ঃযব ঁংবং, ভড়ৎসং ধহফ ঃবসঢ়বৎধসবহঃ ড়ভ ঃযব ষরসনং; ধষংড় যড়ি ঃযবু ধৎব লড়রহবফ ধহফ যড়ি ঃযবু সধু নব ংবঢ়ধৎধঃবফ, ঃযধঃ যব ংযড়ঁষফ ঁহফবৎংঃধহফ ভঁষষু ধষংড় ঃযব নড়হবং, ঃবহফড়হং ধহফ সঁংপষবং, ঃযবরৎ হঁসনবৎং ধহফ ঃযবরৎ ধঃঃধপযসবহঃং ধহফ ধংষড় ঃযব নষড়ড়ফ াবংংবষং, নড়ঃয ধৎঃবৎরবং ধহফ াবহরং রিঃয ঃযবরৎ ৎবষধঃরড়হং’২৭
যাহ্রাবীর সচিত্র গ্রন্থের যে ক’খানা পা-ুলিপি পাওয়া যায়, তন্মধ্যে দু’খানা রয়েছে অক্সফোর্ডের বডলিয়েন (ইড়ফষবরধহ), লাইব্রেরীতে এবং অন্য একখানা রয়েছে গোথাতে। জিরান্ডের ল্যাটিন অনুবাদের একখানা পা-ুলিপি রয়েছে প্যারিসে। এতে তিনি গ্রন্থকারের নাম দিয়েছেন অনঁষ ঈধংরস। কিছু পা-ুলিপি ফ্লোরেন্স ঋষড়ৎবহপব), ব্যামবার্গ (ইধসনবৎম), ফ্রাঙ্কয়েস (ঋৎধহপধরংব), মন্টেপেলিয়ার (গড়হঃবঢ়বষষরবৎ), লিডেন (খরফবহ) এবং ডেনিস (ঠধহরং) রক্ষণাগারে সুরক্ষিত আছে।২৮ ১৪৭১ খ্রিস্টাব্দে ঔষধ তৈরি করার অংশটি ডেনিস থেকে (খরনবৎ ঝবৎারঃড়ৎরং ংরাব খরনবৎ ীীাররর) নাম দিয়ে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক হলেন সাইমন জানুয়েনসী (ঝরসড়হ ঔধহঁবহংর) এবং ইহুদী আব্রাহাম (অনৎধধসড় ঔঁফধবড়)। সার্জারী অংশটিও ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে ডেনিস থেকে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক গাই দ্য চালিক ‘ঈযরৎঁৎমরধ চধৎাধ’ নাম দিয়ে এ অংশটি অনুবাদ করেন। পরবর্তীকালে সার্জারী অংশটির আরো বহু অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থের চিকিৎসা বিষয়ক অংশ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে অগসবার্গ (অহমংনঁৎম) থেকে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক সিংগ্রিম (ঝরহম এৎরসস) এর নাম দেন ‘খরনবৎ ঞযবড়ৎরপধব হবপহড়হ চৎধপঃরধব অষংধযধৎধারর’। আরবি ভাষায় অতি প্রাচীন হস্তলিপির দ্বারা লিখিত মূল ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থটির একটি কপি বাঁকিপুর খোদাবকস্্ লাইব্রেরীতে রক্ষিত আছে।২৯
সার্জারীর ক্ষেত্রে এই মহান মনীষীর অপরিসীম ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাফল্য হলেও মেডিসিন বা ঔষধ বিষয়েও যথেষ্ট অবদান পাওয়া যায়। তিনি কুষ্ঠরোগ ও এর প্রতিকার সম্বন্ধে তাঁর গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কুষ্ঠরোগ চার প্রকারের এবং এগুলোর বর্তমান নাম হলো- খরপড় হরহধ, ঊষবঢ়যধহঃরধ, ঝবৎঢ়বহঃরহধ ও (ঠঁষঢ়রহধ। তিনি মনে করেন কুষ্ঠ রোগ তিনটি কারণে দেখা দিতে পারে- প্রথমত বংশগত, দ্বিতীয়ত, ভেড়া, গরু ইত্যাদির মাংস, দূষিত খাদ্য এবং তৃতীয়ত সংক্রমণ-রোগীর সংস্পর্শ, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। তিনি অবস্থা বুঝে এ রোগের চিকিৎসা করতেন। এ রোগ সম্বন্ধে তাঁর পূর্বে আর কোন বিজ্ঞানী এমন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায় না।৩০
আবুল কাসেম যাহ্্রাবী শিশু রোগের চিকিৎসাতেও কিছু কিছু অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তিনি শিশু রোগের চিকিৎসার জন্য মাতৃস্তন থেকে দূষিত দুধ চুষে বের করার পরিবর্তে এর জন্য এক প্রকার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। শিশুদের রিকেট হবার কারণ এবং এর প্রতিকারেরও এক অভিনব পন্থা উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি শিশুদের মেরুদ- বাঁকা হবার কারণ সম্বন্ধে পূর্বেকার সকল মতের উপর নতুন মত প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, রিকেটি শিশুদের বায়ুর চাপে পেট মোটা হবার জন্যেই এ ধরনের কুঁজ (মরননঁং) হয়।৩১
মানুষের শরীরে বিষের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে তিনি গ্যালেন ও ইব্ন সীনার মতামতের উপর নিজস্ব মতামত প্রদান করেন। গ্যালেনও ইব্ন সীনার মতবাদ অনুসারে বিষ জৈবিক তাপ (ঠরঃধষ যবধঃ) নষ্ট করে দিয়ে হৃৎপি-ের উপর আঘাত হানে। এ জৈবিক তাপ হারানোর ফলে রোগী ধীরে ধীরে অনুভূতি, জ্ঞান ও শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলে। একই তাঁরা চৈতন্য বিলোপকারী শীতলতা (ঘধৎরপড়ঃরপ ভৎরমড়ৎরভরপ) বা রক্ত জমাটবদ্ধ হওয়া বলে মত প্রকাশ করেছেন। যাহ্্রাবী এ মতের বিরোধিতা করে তাঁর গ্রন্থে (চৎধপঃরপধ ীীী ২.১৮) বলেছেন, ‘বিষ কোন কোন সময় হৃৎপি-ের উপর কাজ করে। এতে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ঘটতে পারে। কোন কোন সময় মস্তিষ্কের উপর কাজ করে, এতে রোগী বিকারগ্রস্ত হয়ে প্রলাপ বকতে থাকে। কোন কোন সময় যকৃতের উপর কাজ করে এতে পা-ু এবং যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি হয়। কোন কোন সময় বিষ শুধুমাত্র যেখানে লাগে সেখানেই ক্রিয়া করে জায়গাটিকে দূষিত করে ফেলে এবং সেখানে কালশিরা পড়ে যায়।’
এছাড়া যাহ্্রাবী কানের বিভিন্ন প্রকার অসুখ সম্বন্ধেও আলোচনা করেছেন এবং এর প্রতিকারের পথও বলে দিয়েছেন। চক্ষুরোগের মধ্যে বিশেষত গ্লুইকোমার (এষধঁপড়সধ) চিকিৎসা সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। মানুষের শরীরে বীর্য তৈরির চমৎকার মতামত প্রদান করতেও তিনি সচেষ্ট ছিলেন।
কিতাবুত্্ তাসরীফ গ্রন্থ ব্যতীত যাহ্্রাবীর অন্য যে কটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায় সেগুলো হলো :
ক. আল-জাওযুত্্ ত্যাম্মি ফি ইলমিত তিব্বি ওয়াত্্ তাসরীহি ওয়া আজয়িরি জালিকা;
খ. মাকালাতু তাকাসিমুল আমরাজ;
গ. তাফসীরুল মাওজুদ ফি ক্বালবিত তিব্বি বিইখতিলাফি আসমায়ি মারবিল হুরুফিল মুজামা;
ঘ. আল-মাকালাতু ফি আমালিল জাদি এবং
ঙ. মাকালাতুন ফি আমরিল আকাফিরিল মুফরাদাতি ওয়াল মুরাক্কাবাত।
তাঁর অন্য একখানা গ্রন্থ বেরেগারিয়াস (ইবৎবহমধৎরঁং) ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করে নাম দেন “উরপঃরড় ফব ঈরনধৎরং ওহভরৎসড়ৎঁস”। তৎকালে গ্রন্থটি পাশ্চাত্যের সুধী মহলে বেশ খ্যাতি লাভ করে।৩২
মুসলমানদের মধ্যে আবুল কাসেম যাহ্্রাবী ছিলেন শল্যচিকিৎসার প্রাণপুরুষ। তিনি তাঁর মেধা, মননশীলতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়টিকে প্রায় পূর্ণতার কাছাকাছি নিয়ে আসেন। মৌলিক অবদান হিসেবে উপহার দিয়ে যান পদার্থ, রসায়ন এবং চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থাবলী। আর চিকিৎসা বিষয়ক ‘আত-তাসরীফ’ গ্রন্থটিই ছিল বিশেষ কৃতিত্ব ও প্রশংসার দাবিদার, যার মর্যাদা মন্টেপেলিয়ার ও অন্যান্য প্রাচীন ইউরোপীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ছিল তুঙ্গে। গ্রন্থটি ইউরোপীয় অস্ত্রচিকিৎসা বিদ্যার গোড়াপত্তন করতে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। আজকের শল্যচিকিৎসা বিদ্যা জগতে মুসলমানগণ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের, গৌরবের ঘোষণা দিতে পারেন উচ্চকণ্ঠে। বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে পারেন পূর্বসূরীদের অপরিসীম কৃতিত্ব ও অবদানের কথা। বর্তমানকালের মুসলিম সার্জনরা, শল্যচিকিৎসাবিদ আবুল কাসেম যাহ্্রাবীর শিক্ষা ও অবদানকে মাইলফলক হিসেবে গ্রহণ করে বিষয়টিকে আরো উন্নততর সোপানে সমাসীন করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা কল্পে সচেষ্টা হবেন, যা সময়ের দাবি।
তথ্য সূত্র :
প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
আবদুল মওদুদ, মুসলিম মনীষা, নওরোজ কিতাবিস্তান, বাংলাবাজার, ঢাকা, ১৯৭০, পৃ. ৭৮
মুহাম্মদ মাতবর আলী, ইসলামের দান, সোসাইটি ফর পাকিস্তান স্টাডিজ, ঢাকা, ১৯৭১, পৃ. ১৫৩।
সঁংষরস ঈড়হঃৎরনঁঃরড়হ ঃড় ঝপরবহপব ধহফ ঞবপযহড়ষড়মু, ওংষধসরপ ঋড়ঁহফধঃরড়হ ইধহমষধফবংয, উযধশধ ১৯৯৬, ঢ়. ২৫৭.
অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস আদল, আধুনিক সভ্যতার উজান বাঁকে, প্রকাশনায়-আহমদ যাকী আল-আদিল ও আহসান সাদী আল-আদিল, পাক্কাবাড়ি, জেল রোড, সিলেট, ১৯৯২, পৃ. ১০৪।
এম. আকবর আলী, বিজ্ঞানে মুসলমানদের দান, মালিক লাইব্রেরী, বাংলাবাজার, ঢাকা, ১৯৮১, খ- ৮, পৃ. ৩৩৮।
আবদুল মওদুদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৭৮।
এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৮।
মুহাম্মদ নূরুল আমীন, বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, আহসান পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ২০০২, পৃ. ৬৫।
এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৮।
আবদুল মওদুদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৭৯।
প্রাগুক্ত, পৃ. ৭৯।
অহধঃড়সু  জীবদেহের গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞান, চযুংরড়ষড়মু প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন সংক্রান্ত বিজ্ঞান এবং উরবঃবঃরপং পথ্যব্যবস্থা বিদ্যা।
এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৯।
মুহাম্মদ নূরুল আমীন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৬।
আবদুল মওদুদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৮০।
এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৯।
উড়হধষফ ঈড়সঢ়নবষষ, অৎধনরধহ গবফরপরহব, ঠড়ষ. ১, ঢ়. ৭৭;  এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪০।
এম. আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪০।
প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪০।
চবফৎপঁষড়ংরং : এটা এক ধরনের প্যারামাইটিক সংক্রমণ  সাধালণত: চামড়া, শরীর এবং নি¤œাংশে এটা সংক্রমণ ঘটায়। ঐবসরঢ়ষবমরধ: এটা এক ধরনের ¯œায়ুবিক অবস্থা। এর ফলে শরীরের একদিকে অবস হয়ে যায়। ঐবসড়ৎৎযড়রফং : এটা এক ধরনের পায়ুপথের অসুখ। এর ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়; ইধরষবু ্ খড়াব’ং ঝযড়ৎঃ চৎধপঃরপবং ড়ভ ঝঁৎমবৎু, ঊফরঃবফ নু জ.ঈ.এ. জঁংংবষ ্ ঙঃযবৎং, ঈড়-ঢ়ঁনষরংযবফ রহ ঃযব টঝঊ নু ঙীভড়ৎফ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ওহপ. ঘবি ণড়ৎশ, ২৩ৎফ ঊফরঃরড়হ ২০০০, ঢ়ঢ়. ৪৫৫ ্ ১১২৮-৩৪. .
আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৩।
খরঃযড়ঃৎরঃু মূত্রনালীর পাথর চাপ দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার পদ্ধতি বিশেষ, খরঃযড়ঃড়সু মূত্রনালীর পাথর অপসারণ চিকিৎসাবিদ্যা এবং অসঢ়ঁঃধঃরড়হ অঙ্গব্যবচ্ছেদ প্রণালী।
আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৪।
সঁংষরস ঈড়হঃৎরনঁঃধঃরড়হ ঃড় ঝপরবহপব ধহফ ঞবপযহড়ষড়মু, ওনরফ. ঢ়. ২৬২.
আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৫।
গ.ঝ. ঝঢ়রহশ ধহফ এ.খ. খবধংরং, অষনঁপধংরং ড়হ ঝঁৎমবৎু ধহফ ওহংঃৎঁসবহঃং, ইবৎশবষু ধহফ খড়ং অহমবষং, ১৯৭৩, ঢ়. ২
 মুহাম্মদ নূরুল আমীন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৬।
আবদুল মওদুদ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৮০।
আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫০।
প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫০।
আকবর আলী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪৯।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ