ঢাকা, শনিবার 10 December 2016 ২৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষাখাতে ওয়াক্ফ তহবিল ব্যবহার

মূল: ড. মুহাম্মদ আকরাম লালদীন
অনুবাদ: ইকবাল কবীর মোহন
[গত সংখ্যার পর]
এ জন্য দাতাদের নানা বিষয়ে অবহিত করার জন্য তারা নানা ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং প্রয়োজনে নানা স্থানে বা দেশে ভ্রমণ করেন। আইআইইউএম এর দাতাদের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর একটি মূল্যায়নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।  
খ. নির্দিষ্ট ফান্ড সংগ্রহ কার্যক্রম: আইইএফ তহবিল সংগ্রহের জন্য আইআইইউএম বিশেষ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এই কার্যক্রম সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো তহবিল সংগ্রহের জন্য গৃহীত হয়। বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপলক্ষ করে এই বিশেষ তহবিল সংগ্রহ পরিচালিত হয়ে থাকে। এ পর্যন্ত এমন ধরনের তহবিল সংগ্রহ করার জন্য যেসব প্রকল্প প্রণীত হয়েছে তা নিম্নরূপ:
১. সুলতান আহমদ শাহ্ ফান্ড (এসএএসএফ): সুলতান হাজী আহমদ শাহ্ আধুনিক মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রদেশ পাহাং এর শাসক। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভারসিটি মালয়েশিয়ার চ্যান্সেলর। এই তহবিলটি গঠন করা হয় একটি বিশেষ উদ্দেশে। আইআইইউএম-এর বৃত্তি কার্যক্রম এই ফান্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। আর এই তহবিল পাহাং প্রদেশের সুলতানের নামে গঠিত হয়।
২. তিন সিরি আহমদ ইবরাহিম ফান্ড (টিএসএআইএফ): এটি একটি স্থায়ী ধরনের তহবিল। এই ফান্ডের যোগানদাতা আল-মারহাম তিন সিরি আহমদ ইবরাহিম।
গ. উত্তরাধিকার সৃষ্টি: এটি সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা দাতার প্রতিষ্ঠান উত্তরাধিকার সূত্রে আইআইইউএম-এর কোনো প্রকল্প, দালান তৈরি ইত্যাদির নামে প্রদান করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইআইইউএম-এর যে ম্যনেজমেন্ট সেন্টার ঐ বিল্ডিংয়ের নাম হলো, ‘সেলকম’ বিল্ডিং। মালয়েশিয়ার টেলিকমিউনেকশন কোম্পানীর নাম অনুসারে এটি পরিচিত। এ রকম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঐ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের বিল্ডিংটির দেখভালের বিষয়টি স্পনসর করে এবং আইআইইউএম-এর ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। তা ছাড়া এই কার্যক্রমের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বের কোনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ‘সম্মানজনক ডক্টরেট’  উপাধি প্রদান করে যিনি সব সময় মুসলমানদের সহযোগিতার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন। আইইএফ-এর প্রতি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে এমন ব্যক্তিকে আলাদাভাবে ‘বিশেষ সম্মানজনক ডক্টরেট’ পুরস্কার প্রদান করার জন্য আইইএফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রস্তাবনা দিয়ে থাকে। এই সম্মানজনক পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে আইইএফ-এ ঐ ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতি দেয়া হয়। তা ছাড়া এই পুরস্কারের মাধ্যমে ব্যক্তির সাথে ভবিষ্যৎ অবদানের সুযোগও সৃষ্টি করা হয়। এমন সম্মানজনক পুরস্কার দেয়া হয়েছে আরব আমিরাত শারজাহ্র শাসক শেখ ড. সুলতান বিন মুহাম্মদ আল-কাসেমীকে, ব্রুনাইয়ের শাসক সুলতান হাসান আল-বলকিয়াহকে এবং মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মুহাম্মদকে।
ঘ. বিশেষ কার্যক্রম : ওয়াক্ফ ফান্ড বৃদ্ধির জন্য আইইএফ আরো নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে :
আরএম ১ প্রচারণা: এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতি মাসে আরএম ১ অবদান সংগ্রহ করা। এটি আইআইইউএম-এর কর্মচারী ও ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। তারপর আইইএফ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহের জন্য তাদের অফিসের সন্মুখে ‘ডোনেশন বক্স’ স্থাপন করে।
ওয়াক্ফ সনদপত্র: এটি তহবিল সংগ্রহের আরেকটি উপায়, যেখানে ওয়াক্ফ রিসিট বা সনদপত্র ইস্যু করা হয়। এই ধরনের তহবিল সংগ্রহে সাধারণত আরএম ১০ বা আরএম ৫০ ইত্যাদি রিসিট প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পদ্ধতি সাধারণত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দান বা জাকাত সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে থাকে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রর্দশনী: এই কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে প্রর্দশনী বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা। ইসলামের উত্থান, বিজয়, সম্প্রসারণ, অবনমন অথবা পুনর্জাগরণের ওপর ভিত্তি করে প্রর্দশনী এই কার্যক্রমের বৈশিষ্ট্য। মালয় সমাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে মানুষকে ওয়াক্ফ সম্পর্কে সচেতন করাও এই কর্মসূচির অর্ন্তভুক্ত। 
শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান: শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে আছে আইআইইউএম বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষামূলক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ বা উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্জিত আয় আইইএফ-এর তহবিলে প্রদান করা হয়। এইসব অনুষ্ঠান, কর্মসূচি বা তৎপরতার বাইরে আইইএফ তার তহবিল সংগ্রহের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে থাকে। এজন্য এজেন্টদেরকে আইইএফ কমিশন দিয়ে থাকে।
কাফালাহ্ কর্মসূচি (পালক পিতা-মাতা) : ‘কাফালাহ’ মানে পালক পিতা-মাতা কর্মসূচি। এটি আইইএফ-এর অন্যতম প্রধান প্রকল্প। কাফালাহ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় ৯০০ ছাত্রকে আর্থিক সহায়তা দান করার জন্য। এই কর্মসূচি যৌথভাবে আইইএফ এবং ব্যাংক ইসলাম মালয়েশিয়া বারহেড পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো, যারা ছাত্রদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী এবং তাদের জীবনযাত্রার সকল খরচ বহন করতে ইচ্ছুক। যদিও আইইএফ অধিকাংশ ছাত্রের শিক্ষার খরচ এবং থাকা-খাওয়ার দায়-দায়িত্ব বহন করে থাকে। যিনি ছাত্রদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেন তাকে বলে কাফিল।
কাফিলের ভূমিকা : কাফিল ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রের পরিচয় জানতে চাইতে পারেন। অথবা তিনি (কাফিল) ছাত্রের (যাকে তিনি স্পনসর করছেন) কাছে অপরিচিত থাকারও ইচ্ছাপোষণ করতে পারেন। এখানে এটা ধরেই নেয়া হয় যে, কাফিল ছাত্রের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার যাবতীয় খরচ বহন করবেন। এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির লোকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি এবং শিক্ষার আদান-প্রদান।
কার্যপ্রণালী : এই কর্মসূচি এমনভাবে পরিচালিত হয় যে, প্রতিটি ছাত্রের একজন বা একাধিক কাফিল থাকতে পারেন যিনি বা যারা ঐ ছাত্রের জীবন নির্বাহের যাবতীয় খরচ বহন করেন। প্রতি মাসে এর পরিমাণ প্রায় ৩৫০ রিঙ্গিত। এই অর্থ আইইএফ-এর মাধ্যমে সংগৃহীত হয় এবং ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ পেয়ে থাকে। কাফিল আবেদন করলে ট্যাক্স অব্যাহতি প্রাপ্তির রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগ তা প্রদান করে। ইচ্ছা করলে কাফিল ছাত্রের স্থায়ী স্পনসর হতে পারেন। অথবা খণ্ডকালীন স্পনসরও হতে পারেন। স্পনসর হওয়ার সময়কাল ১, ২ বা ৩ বছর হতে পারে।
দানের পদ্ধতি : কাফিলের আর্থিক সঙ্গতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতিতে দান করা যেতে পারে। একজন কাফিল ইচ্ছা করলে একজন ছাত্রের পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে পারেন অথবা একই সাথে কয়েকজন ছাত্রের জন্য আংশিকভাবে দায়িত্ব নিতে পারেন। আর তিনি যে দান করবেন তা তিনি মাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বছর শেষে একত্রেও দিতে পারেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের উপার্জনের জন্য সাহায্য করা : ইসলাম এর অনুসারীদের চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে উৎসাহ প্রদান করে। আইইএফ ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা দিয়েই বসে থাকে না, বরং তাদেরকে জীবননির্বাহের জন্য আয়-উপার্জনেও সহায়তা দিয়ে থাকে। লেখাপড়া চলাকালীন সময়ে, এমনকি স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও যাতে ছাত্ররা উপার্জনে সক্ষম হয়, তাতে আইইএফ উৎসাহ দিয়ে থাকে। এ জন্য আইইএফ কতগুলো প্রকল্প চালু করেছে। নিম্নে এসব প্রকল্পের উল্লেখ করা হলো:
ক. ছাত্রদের ক্যাম্পাসের ভেতরে/ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ: যেসব ছাত্র আইআইইউএম’র আর্থিক সহায়তা নিয়ে লেখাপড়া করে আইইএফ তাদেরকে ক্যাম্পাসে এর স্টাফ হিসেবে কাজের ব্যবস্থা করে। তারা কেউ কেউ প্রশাসনের কাজে, কেউ বা লাইব্রেরীর সহকারী হিসেবে অথবা কেউ ক্যাণ্টিনে কাজ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ভার কিছুটা লাঘব হয় এবং ছাত্রদের আর্থিক সহায়তার বিকল্প উপায় সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া ছাত্ররা ফাস্ট ফুডের দোকান, টিউশন সেন্টার, বুকস্টল, ফটোকপি সেন্টার ইত্যাদি স্থানেও কাজ করে।
খ. ক্যাম্পাসে ব্যবসা পরিচালনা: ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে উপার্জন করার ক্ষেত্রেও আইইএফ ছাত্রদের সহায়তা দান করে। এক্ষেত্রে আইইএফ পুঁজি, ব্যবসা পরিচালনার স্থান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং, খাবার পানি বিক্রি, ভিসিএন ফোনকার্ড বিক্রি  এবং ওয়েবসাইট উন্নয়ন।
ক্যাম্পাসের বাইরে যেসব কাজ রয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
ক. আইআইইউএম পাসার রমাদান (রামাদান বাজার): বিশেষ করে রমজান মাসে আইইএফ এই প্রকল্প গ্রহণ করে। তারা ছাত্রদের ব্যবসার জন্য স্টলের ব্যবস্থা করে। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে স্টল ভাড়া দিয়ে এর থেকে আয় করে। ‘রমাদান বাজার’ থেকে ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীগণ সহজেই ইফতার ক্রয় করতে পারে।
খ. আইআইইউএম ক্যাফে নেসক্যাফে: আইআইইউএম ক্যাফে নেসক্যাফে ক্যাম্পাসভিত্তিক ক্যাফে কিওসক যা নেসক্যাফে ব্রান্ডেড পানীয় বিক্রি করে। তা ছাড়া এসব দোকানে ‘মিলো’ ও ‘নেসটি’ বিক্রি করা হয়। এখানে হালকা স্ন্যাকসও বিক্রি করা হয়। বাস্তবিকপক্ষে, এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক অনেকেই খানিকটা বিশ্রাম এবং আরামের জন্য আসেন। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি লাভ হয়। এসব কিওসক সম্পূর্ণভাবে ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে আইইএফ তাদের জন্য সকল সহায়তা দান করে।
গ. সিডি বিক্রয়: আইইএফ ছাত্রদের সিডি বিক্রি করার সুযোগ দিয়ে থাকে। ইসলামের নানা ঐতিহ্য ও শিক্ষা-সংস্কৃতির নানা বিষয় রয়েছে এসব সিডিতে। এই সিডি বিক্রির অর্থ ছাত্ররা এবং আইইএফ যৌথভাবে ভাগ করে নেন। এ ক্ষেত্রে ‘মুদারাবা পদ্ধতি’ (লাভ ও লোকসান ভিত্তিতে) অনুসরণ করা হয়। মালয় ভাষায় রচিত এসব সিডি ‘ঝেঝাক রসূল’ নামে পরিচিত।
ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও জমিতে বিনিয়োগ পরিচালনা : ইসলামের ইতিহাসে ওয়াক্ফ ঐতিহ্যগতভাগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও পরিচালনার মধ্যে সীমিত। তবে আইইএফ (আইআইইউএম এনডোমেন্ট ফান্ড) স্থায়ী ধরনের সম্পত্তি অর্জন এবং পরিচালনা ছাড়াও অন্যান্য ওয়াক্ফ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে  আইইএফ-এর সাথে ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা ওয়াক্ফ কার্যক্রমের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানে আইইএফ ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও গৃহায়ন ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইইএফ ব্যক্তির সম্পত্তি ওয়াক্ফ হিসেবে গ্রহণ করে। মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী ওয়াক্ফ সম্পত্তি পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো পক্ষ ওয়াক্ফ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না। আইইএফ ওয়াক্ফ সম্পক্তি অর্জন এবং তা পরিচালনার জন্য সরকারের অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইইএফ স্থায়ী সম্পক্তি অর্জন করে তা পরিচালনা করবে এবং ঐ সম্পত্তি বিনিয়োগ কার্যক্রমে নিয়োজিত করবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের নগদপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। আইইএফ শরীআহ্সম্মত প্রকল্প হাতে নেবে যাতে সর্বোচ্চ আয় অর্জিত হয়। উপযুক্ত প্রকল্প নির্ধারণের জন্য আইইএফ যথাযথ প্রকল্প বাছাই করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।
আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইইএফ শরীআহভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাথে আইইএফ যৌথ কারবার চুক্তিতে উপনীত হবে। এই ধরনের যৌথ কাজে সৌদি সরকারের তিন মিলিয়ন পরিমাণ মার্কিন ডলারের সহায়তা রয়েছে। আইইএফ নিজে সম্পক্তি ক্রয় করবে এবং তা পরিচালনা করবে। তা ছাড়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের সম্পত্তি আইইএফ-এর কাছে পরিচালনার জন্য সমর্পণ করেছে।
গৃহায়ণ আইইএফ-এর আরেকটি কার্যক্রম। এই ধরনের প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা আছে বলে আইইএফ তা পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে সম্পত্তির মূল্য বাড়বে, আর এতে আইইএফ লাভবান হবে। আইইএফ পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ও দালান রয়েছে। আইইএফ এসব প্রকল্পের দালান ভাড়া দেবে এবং এতে তার দীর্ঘমেয়াদে আয় ভালো হবে।
২০০০ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত আইইএফ’র উপার্জন : আইইএফ এর আয় বাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেশের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় এর আয়-উপার্জন ও তৎপরতাকে নানা সময় ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পদক্ষেপ এর মধ্যে অন্যতম।
২০০১ সালে আইইএফর আয় ছিল সবচেয়ে বেশি। এর কারণ দেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ-এর নিজস্ব কিছু পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী অনেক প্রভাবশালী মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী করেন। তাদের দান প্রতিষ্ঠানের তহবিল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তারপর অবশ্য আইইএফ’র আয় কমতির দিকে চলে যায়।
‘আইইএফ’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : আইইএফ-এর রাজস্ব বাড়ানোর জন্য অনেক
পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনার বেশ কয়েকটি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে যৌথভাবে সম্পাদন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে :
ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম, কৃষিখাতে অবদান, ইকুইটিতে অংশগ্রহণ, অন্যান্য প্রকল্প
১. ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম: এই প্রোগ্রামের আওতায় ‘ইয়াসান কিউশাওয়ান ইসলাম মালয়েশিয়া’ বা ইউআকেআইএম (মালয়েশিয়ান মুসলিম ইনট্রেপেনিউর ফাউন্ডেশন) এর সহায়তা নেয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে আইইএফ ২ (দুই) বা ৩ (তিন) বছরের মধ্যে একটি সফল ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। মালয়েশিয়ান মুসলিম ইনট্রেপেনিউর ফাউন্ডেশন নতুন মুসলিম উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। সরকারী সহায়তা নিয়ে ইনকিউবেটর প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সংস্থা বা ফার্মকে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে যেসব সহায়তা দেয়া হবে তা হলো:
ক. প্রোডাক্ট উন্নয়ন, খ. বাজার উন্নয়ন, গ. প্রশিক্ষণ, ঘ. ফাইন্যান্স এন্ড একাউন্টিং
ঙ. মার্কেটিং, চ. লিগ্যাল সার্ভিস।
এসব সেবা থেকে আইইএফ প্রচুর আয় করতে পারবে আর এই আয় আইইএফ’র জন্য সহায়ক হবে।
২. কৃষিখাতে অবদান: সরকারের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক মিল-কারখানার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য আইইএফ কাজ করবে। সরকার কৃষিখাতকে আরো আধুনিক, বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং স্থায়ী করার জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্প মূলত খাদ্য ও খাদ্যজাত শিল্প তৈরিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবে। আইইএফ সরকারের পাশাপাশি এসব খাতে কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে চারটি খাতকে বেছে নেয়া হয়েছে। এগুলো হলো:
গবাদি পশুর খামার, পাশ ওয়েল বাগান তৈরি, স্বচ্ছ পানির মাছ উৎপাদন,
হারবাল খামার
৩.  ইকুইটিতে অংশগ্রহণ: আইইএফ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর সাথে তার ইকুইটিতে অংশগ্রহণ করবে এবং সেখানে এর ফান্ড সহায়তা দেবে। এর মাধ্যমে আইইএফ ঐসব কোম্পানীর সম্পদ, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এই প্রকল্প থেকে আয় আইইএফের তহবিল বাড়াতে সাহায্য করবে।
৪. অন্যান্য প্রকল্প : ক. নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়: আইইএফ এর তহবিলের একটি অংশ মালয়েশিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করে।
খ. আইআইইউএম এর সেবা গ্রহণ : এই প্রকল্পের আওতায় আইইএফ সেবা দানের জন্য আইআইইউএম এর সাথে চুক্তিবদ্ধ কোনো কোম্পানীর প্রতি আবেদন করে।
ওয়াক্ফ সম্পদ বা সম্পত্তি পরিচালানায় প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ : ওয়াক্ফ সাধারণভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র। তাই এর বাস্তবায়ন ও অগ্রসরমানতার জন্য মুসলিম প-িত বিশেষ করে উম্মাহ্র সবার বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কতগুলো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং এখানে যথেষ্ট উন্নতি করা দরকার। আইইএফ শিক্ষার ক্ষেত্রে যে ওয়াক্ফ পরিচালনা করছে তাতেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিচে আলোচনা করা হলো:
ওয়াক্ফ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করা: জাকাত ও সাদাকার বাইরে ওয়াক্ফ আলাদা কৌশল।  এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজের অভাবি মানুষকে সহায়তা প্রদান করা যায়। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর অবস্থার উন্নতিকল্পে কাজ করা যায়। তবে এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে মুসলমানরা তেমন ওয়াকিফহাল নয়। কিছু কিছু মুসলিম দেশে অতি নগণ্য কিছু মানুষের মধ্যে ওয়াক্ফ সম্পর্কে সচেতনতা থাকলেও তা কেবল জমির মধ্যে সীমিত যা মসজিদ প্রতিষ্ঠা বা কবরের স্থান হিসেবে দান করা হয়। এসব অনুমান, ধারণা ও প্রচলন থেকে মুসলিম মানসকে বের করে আনতে হবে এবং ওয়াক্ফর ব্যাপক সুবিধা ও উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। হযরত উসমান (রাঃ) রুমা কূয়ো কিনে তা সমাজের সবার জন্য দান করে ওয়াক্ফর যে নমুনা পেশ করেছেন তা সবাইকে মনে রাখতে হবে। বর্তমান বিজ্ঞানমনস্ক মুসলিম বিশ্বে ওয়াক্ফর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণার পরিবর্তন করতে হবে। অস্থায়ী সম্পত্তিও ওয়াক্ফর আওতায় আনার জন্য ওয়াক্ফ বিষয়ে প-িতদের মতামত নিতে হবে। মুসলিম সম্প্রদায়কে এটা বোঝাতে হবে যে, ওয়াক্ফর অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। যেখানে জাকাত ও সাদাকাহ কেবল গরিব ও দুঃখীর জন্য সীমিত সেখানে ওয়াক্ফ আরো বিস্তৃৃত। ইসলামী প-িত ও বিশেষজ্ঞগণকে সমাজের মানুষকে বোঝাতে হবে যে, ওয়াক্ফ খাতে তাদের সম্পদ ব্যয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপনামূলক বিষয় যে, ওয়াক্ফকে ফাইন্যান্সসিয়াল পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা যায়, ওয়াক্ফ সম্পর্কে সচেনতা ও র্চ্চা আরো বেড়ে যাবে।
 ওয়াক্ফ সম্পর্কে ফিক্হ ইস্যুগুলোর সমাধান করা : আওকাফ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর পরিধি বাড়ানোর জন্য ওয়াক্ফর ফিক্হ বিষয়ে কিছু ইস্যুর প্রতি নজর দেয়া জরুরি। নিম্নে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হলো:
ক. ওয়াক্ফর চিরস্থায়িত্ব ও ক্ষণস্থায়ী নীতি: ওয়াক্ফর চিরস্থায়িত্ব নীতি বলতে এটি বোঝায় যে, একবার সম্পত্তি ওয়াক্ফ করা হলে, তা কিয়ামত পর্যন্ত ওয়াক্ফ হিসেবেই থেকে যাবে। কেউ এটাকে পরবর্তী পর্যায়ে পরিবর্তন করতে পারবে না। এই চিরস্থায়িত্বের বিপরীতে ক্ষণস্থায়ী ধরনের ওয়াক্ফও রয়েছে। চিরস্থায়ী ওয়াক্ফ ও ক্ষণস্থায়ী ওয়াক্ফর গুরুত্ব বিষয়ে একটি সমাধান ফিক্হবিদদের করা উচিত, যাতে ওয়াক্ফ সম্পত্তির উপকার এবং তা থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ী সম্পদের উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে। ফিক্হের একটি আশু সমাধান ওয়াক্ফ সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
খ. ওয়াক্ফ ইসুফ্রাক্ট এবং আর্থিক অধিকার: ওয়াক্ফ ইসুফ্রাক্ট মালিকি মত অনুসারে হলেও অন্যান্য ফিকহবিদরা তা বিবেচনা করেননি। সমকালীন যুগে জীবনের বহুমাত্রিক ইসুফ্রাক্ট আছে, যা ওয়াক্ফতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কোনো টুলওয়েতে গাড়ী চালানো, বা কোনো টানেলের মধ্য দিয়ে বা কোনো ব্রীজের ওপর দিয়ে গাড়ী চালানোর জন্য ফি দিতে হয়। একইভাবে গাড়ী রাখার জন্য কোনো পার্ক ব্যবহার করতে ফি দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ওয়াক্ফ সমকালীন ফকিহ্দেরকে যেমন অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন, তেমনিভাবে মুসলিম দেশ ও সম্প্রদায়ের আওকাফ আইনে তার অনুমোদন দরকার।
আর্থিক অধিকারকে ইসলামী আইনপ্রণেতারা ওয়াক্ফ হিসেবে স্বীকার করেন না। বর্তমানে এ ধরনের বহু আর্থিক অধিকার রয়েছে। যেমন, যদিও লেখকবৃত্তি হস্তান্তর করা যায় না, প্রকাশের অধিকার এবং লেখকের প্রকাশনাকে আর্থিকভাবে উপযোগী করা এবং এর থেকে ব্যবসায় অর্জন করা বর্তমানকালে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অতীতে এমনটি ছিল না। পেটেন্ট ও অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিমূলক উপাদান বর্তমান সমাজজীবনে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। এসব বিষয় ফিকহর আওতায় এখনও উপস্থিত নেই। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, এবং অন্যান্য সাময়িকীও একই প্রকৃতির। তা ছাড়া রয়েছে ছবি প্রযোজনা কোম্পানীর ছবি, শিক্ষামূলক সফটওয়ার প্রোগ্রাম এবং অন্যান্য অনেক অস্থায়ী ধরনের সম্পদ। এসব বিষয়ের সকল অধিকার আওকাফ নীতির আওতায় আসা আবশ্যক।
গ. আওকাফের মালিকানা এবং এর আইনগত ভিত্তি  : আওকাফ সম্পদ বা সম্পত্তির মালিকনা নিয়ে এখনও মুসলিম চিন্তাবিদ ও পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কারো কারো মতে, ওয়াক্ফ সম্পত্তি এর প্রতিষ্ঠাতার অধিকারে থাকবে এবং তার আইনগত উত্তরাধিকারী তার উত্তরাধিকার লাভ করবে। কারো কারো মতে ওয়াক্ফর যারা অধিকারভোগী তারাই এর মালিক হবে। তৃতীয় মত হলো, ওয়াক্ফ সর্বশক্তিমাণ আল্লাহ্র সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এ ধরনের ভিন্ন মতবাদ ওয়াক্ফর মালিকানা বিষয়টিকে একটি বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই বিষয়ে আওকাফ আইনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জরুরি। প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম দেশগুলোতে অনেক আওকাফ সদৃশ সম্পত্তি রয়েছে যা আওকাফ আইনের বাইরে আছে। এগুলোকে নন-প্রফিট সংঘঠন বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রেও একটি সঠিক দিক্নির্দেশনা প্রয়োজন রয়েছে।
ওয়াক্ফ সম্পত্তির উত্তম ব্যবস্থাপনা : উত্তম ওয়াক্ফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এখনও একটি জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচিত। মুসলিম দেশগুলো এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এখানে দু’টি দিকের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, ওয়াক্ফ সম্পত্তির উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, এই সম্পত্তির ব্যবহার বা বিলিবিণ্টন। ওয়াক্ফ ব্যবস্থপনা এখনও অনুন্নতই রয়ে গেছে। এটির উন্নয়ন জরুরি। ওয়াক্ফ সম্পত্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যাতে এর দ্বারা মুসলিম উম্মাহ উপকৃত হতে পারে। এর ব্যবস্থাপনা এমন হওয়া উচিত যাতে এই সম্পদ বা সম্পত্তি অলসভাবে পড়ে  না থাকে। এই সম্পত্তিকে আর্থিকভাবে উন্নত ও আয়বর্ধক করে তুলতে হবে। ওয়াক্ফ সম্পদ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগ নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে মুরাবাহা, ইসতিসনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ইজারা পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয় যে ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে সেটি হলো, ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যবহার ও বণ্টন। প্রায়শই এই অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ওয়াক্ফ সম্পদ ব্যবহারে অনিয়ম ঘটে এবং এর বণ্টন ব্যবস্থায় ন্যায়নীতি মেনে চলা হয় না। তাই অনেকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, ওয়াক্ফ সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগ্য নির্বাহী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন যিনি বা যারা সার্বিক দিক থেকে ওয়াক্ফ সম্পদ ব্যবহার, বিলি বণ্টনে সততা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন। অন্যান্য ভালো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো ওয়াক্ফ সম্পদ ব্যবহার ও পরিচালনায় অনুরূপ পরিচালনা পর্ষদ থাকাকে অনেকে বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবদিক থেকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবেন।
উপসংহার : মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ওয়াক্ফ একটি অন্যতম হাতিয়ার। আর এর উত্তম ব্যবহারের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হচ্ছে শিক্ষাখাতে ওয়াক্ফ কার্যক্রম পরিচালনা। কারণ, শিক্ষা হচ্ছে ইসলামের কেন্দ্রীয় এবং মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর আধুনিক বিশ্বে শিক্ষার গুরুত্ব বলে বোঝানোর বিষয় নয়। আইআইইউএম ওয়াক্ফ তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বোচ্চ উপকার বিহীত করার জন্য চেষ্টারত আছে। আইআইইউএমতে আইইএফ নানা প্রকার উপাদান সৃষ্টি করে ওয়াক্ফর কার্যকর ব্যবহারকে নিশ্চিত করার কাজে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ তাই আরো বেশি কার্যকরভাবে ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত, যাতে এর দ্বারা গোটা মানবজাতি উপকৃত হতে পারে। বাস্তবিকপক্ষে, আওকাফের ভূমিকা মাকাসাদ-আল শরিআহর আলোকে বোঝার মতো মন ও মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তবেই এ প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা থেকে মানুষ উপকৃত হতে পারবে।
আনুবাদক : প্রাবন্ধিক, আন্তর্জাতিক ভাষ্যকার, শিশুসাহিত্যিক ও সিনিয়র ব্যাংকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ