ঢাকা, শনিবার 10 December 2016 ২৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে শামুক ঝিনুক বিলুপ্তির পথে

শাহজাহান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): চলনবিলাঞ্চলে এখন প্রায় শামুক ঝিনুক বিলুপ্তির পথে। চলনবিলে বিভিন্ন জলাভূমিতে ও কৃষি জমিতে দিনের পর দিন দরিদ্র মানুষেরা নির্বিচারে নিধন করছে। এ শামুক বাজারে বিক্রি করছে। জলাভূমিতে থেকে শামুক উত্তোলনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে চলনবিলের  স্থায়ী কৃষি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর। এ এলাকার শামুক উত্তোলন করে তা স্থানীয়রা বিক্রি করছেন। ক্রেতারা শামুক কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। চলনবিল   এলাকায়  যে   সমস্ত  দরিদ্র জনগোষ্ঠী শামুক  উত্তোলন ও  বিক্রির সাথে জড়িত   রয়েছেন   তারা  সাময়িকভাবে   কিছুটা  উপকৃতহলেও   নির্বিচারে   শামুক  নিধনের   ফলে  চলনবিল থেকে  হারিয়ে  যাচ্ছে  তার জীববৈচিত্র্য। পাশাপাশি এর  নেতিবাচক প্রভাব পরছে মাছ উৎপাদনে। ভেঙে যাচ্ছে  খাদ্য  শৃংখল।
বিশেষ  করে  দেশীয় মাছ কৈ, সিং, টাকি,  টেংরা,  শৈল, মাছের ডিম থেকে সদ্যজাত পোনার  একমাত্র  খাদ্য হচ্ছে  শামুকের নরম ডিম। আর এখাবার   না  পেলে ঐ  পোনা মাছ মারা  যায়।  এভাবে শামুক  নিধন  হতে  থাকলে  দেশীয় প্রজাতির মাছ  আরও  বেশী অস্তিত্ব সংকটে পরবে। অপরদিকে  শামুক  নিঃসৃত  পানির  রয়েছে ঔষধী গুণ। প্রচলিত  রয়েছে ঠা-া  প্রাত্রে  রক্ষিত  শামুক  নিঃসৃতপানি যে কোন ধরনের  চোখের  রোগের  জন্য  খুবই উপকারী।  শামুক ঝিনুক  দিয়ে  তৈরী  করা হচ্ছে, চুন, এমনকি হাঁসের  খাবার  হিসেবে  জোগান  দেওয়া হয়।  প্রাকৃতিক  ফিল্টারখ্যাত শামুক পচে জমির মাটিতে  প্রাকৃতিক  ভাবে জমির  ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ও পটাশ সরবরাহ করে।ফলে  জমির  উর্বরতা  বৃদ্ধিসহ  ধান   গাছের  শিকর  মজবুত  ও ফলন  অধিক  হতে সাহায্য  করে। শামুক  দূষিত   পানি ফিল্টারিং করে  প্রাকৃতিক  ভাবে পানি দূষণমুক্ত  রাখে।  নির্বিচারে  শামুক  নিধনের  ফলে কৃষিজমি  উর্বরতা  হারাচ্ছে  ও  পরিবেশের স্বাভাবিক  ভারসাম্যতা  হারাচ্ছে।  ফলে  চলনবিল  এলাকার  পরিবেশ দেখা দিচ্ছে  বিপর্যয়ের  আশঙ্কা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ