ঢাকা, রোববার 11 December 2016 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এ শপথ বিজয়ের

শরীফ আবদুল গোফরান : একটা পাখি, যে পাখিটা বন্দী থাকে খাঁচায়
নেই ব্যবধান তার সে কোন মরা এবং বাঁচায়।
যেদিক তাকায়, সেদিক দেখে বন্ধ সকল পথ
আশা-ভাষা সবকিছু তার বিফল মনোরথ।
নীলাকাশ আর বনের দিকে ফিরে ফিরে চায়
কিন্তু সেতো বন্দী খাঁচায়, শিকল যে তার পায়।
কণ্ঠে কভু গান আসে না, গোমরা হয়ে থাকে
মনে পড়ে, বন-বনানী, নিঃসীম নীলিমাকে।

ছোট্ট একটি পাখি। শীষ দেয়। মনের আনন্দে নেচে বেড়ায় এ ডাল থেকে ও ডালে। এটাই ওর স্বভাব। খাঁচার মধ্যে ওকে একবার ধরে রেখেই দেখনা। দেখবে সে ছটফট করছে। খাবার দাও খাবে না। সে যে খাঁচায় বন্দী। খাবার খেতে চায় না সে। মুক্ত থেকে নিজে নিজেই খাবার খুঁজে খায় সে। আসলে কি, সে মুক্ত হতে চায়। স্বাধীন হতে চায়।
পাখি যেমন স্বাধীনতা চায়-চায় মুক্ত আকাশে বেঁচে থাকতে, তেমনি প্রতিটি মানুষও চায় স্বাধীনভাবে বাঁচতে। ফলে স্বাধীনতা একটি প্রিয় জিনিস সকলের কাছে। প্রত্যেক মানুষের কাছে। এমনকি সেই ছোট্ট পাখিটার কাছেও। আসল কথা কি জানো? স্বাধীনতা ছাড়া কেউই বাঁচতে পারে না।
‘স্বাধীন হয়ে সেই পাখিটা মুক্ত মনে বেড়ায়
যখন খুশি-যেদিক খুশি, দৃষ্টি তাহার ফেরায়।
ফুলের হাসি, সুবাস নিয়ে যখন ভেসে আসে
সেই পাখিটা আনন্দে তাই ডানা মেলে ভাসে।’
তোমরা দেখবে, ছোট্ট পাখিটা তাই নিজের সব শক্তি দিয়ে খাঁচাটাকে ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চায়। সেই পাখিদের মতো মানুষরাও পরাধীনতার শিকল ছিঁড়তে চায়। বেরিয়ে আসতে চায় মুক্ত পৃথিবীতে। এ জন্য অনেকে জীবন বিলিয়ে দেয়। সহ্য করে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। তারপর অনেক ত্যাগ আর প্রতীক্ষার পর আসে স্বাধীনতা। ইতিহাস পড়ে দেখো, পৃথিবীতে যতো দেশ স্বাধীন হয়েছে, সব দেশের মানুষকেই এ জন্য রক্ত দিতে হয়েছে। এ রক্ত এনে দেয় বিজয়ের হাসি, বিজয়ের গান।
‘বিজয় দিবস বিজয় দিবস স্বাধীন আকাশ আনো
স্বাধীনতার সুখের খবর তুমিই কেবল জানো।
তুমিই পারো দেশের মাটি মুক্ত করে দিতে
সব মানুষের স্বপ্নগুলো আপন করে নিতে।’
স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন করুণ, তেমনি সংগ্রামমুখর। স্বাধীনতাকে পাওয়া যেমন কঠিন, একে টিকিয়ে রাখাও তেমন সহজ কাজ নয়। দেশ ও জাতির প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে সাধনা করতে হয়। অনেক সাধনা। দেশের সকল স্বাধীন পাগল মানুষকে এগিয়ে আসতে হয় এ কাজে। এ কাজে পিছিয়ে থাকলে চলে না। এ দায়িত্ব সকলের। কেউ যখন এ দায়িত্ব পালন করে না, যখন মানুষ তার নিজের কর্তব্য ভুলে যায়- তখন পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যায় সে দেশ ও জাতির নাম। স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে না সে দেশ। ফলে স্বাধীনতা হলো সংগ্রামের ফসল। সাধনার ধন। এ যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। আর শপথ হলো, স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার শপথ।
লাখো প্রাণের বিনিময়ে প্রিয় দেশের মান
স্বাধীনতা পেয়ে আমি জুড়াই যে পরান।
স্বাধীনতা রক্তে রাঙ্গা প্রিয় একটি নাম
ন্যায়ের সমাজ গড়ার শপথ দেশ জাতির সম্মান।
১৯৭১ সাল। যুদ্ধ বাঁধলো। স্বাধীনতার যুদ্ধ। মুক্ত হওয়ার যুদ্ধ। অনেক রক্ত। অনেক ত্যাগ। অনেক জীবন দান করতে হলো এ কাজে। বিনিময়ে অর্জিত হলো একটি দেশ। স্বাধীন দেশ। প্রিয় দেশ বাংলাদেশ।
আচ্ছা বলতে পারো, এ জন্য আমাদেরকে এখন কি করতে হবে? কাজ। অনেক কাজ। স্বাধীনতা রক্ষার কাজ। এখন ঝগড়ার সময় নয়। তর্ক-বিতর্কের সময় নয়।
এখন সময় হলো ত্যাগের। এখন সময় হলো শপথের। এ শপথ হলো স্বাধীনতা রক্ষার শপথ। দেশকে উন্নত করার শপথ। মনে রাখতে হবে, সব মহৎ কাজ শুরু হয় ত্যাগ দিয়ে। অন্যের জন্যে ভাবতে হবে। যে জাতির প্রতিটি মানুষের মধ্যে ত্যাগের প্রেরণা নেই সেই জাতির স্বাধীনতা বৃথা। স্বাধীনতার অর্থ নিজের খুশি মতো চলা নয়। স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন নিয়ম-শৃঙ্খলা। দেশের প্রত্যেক নাগরিককে শৃঙ্খলার মধ্যে চলতে হয়। নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। যেমন-
নীতির জন্ম নেতার কাছে, শিশুর জন্ম মা
গাছের জন্ম বীজের থেকে নাই যে তুলনা।
ফলের জন্ম গাছের থেকে সুদের জন্ম ব্যাঙ্ক
ঘুষের জন্ম বস-অফিসার বোঝাই করা ব্যাঙ্ক।
ন্যায়ের জন্ম কোরআন-হাদীস সুখের জন্ম ঐ
সেই আশাতে স্বাধীন দেশে দিন কাটিয়ে রই।
স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন আত্মমর্যাদাবোধ। যে জাতির আত্মমর্যাদাবোধ নেই, যে নিজের বিশ্বাসকে বিলীন করে অন্যকে নকল করে সে জাতি কখনো তার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে পারে না। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের কতো গর্ব। আমরা যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। এখন আমাদের কাজ করার সময়। অনেক কাজ।
স্বাধীনতা দিবসে তাই আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। এ শপথ দেশ রক্ষার শপথ। স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার শপথ। এই শপথ ত্যাগের শপথ। পবিত্র সংবিধান ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস লালনের শপথ। এসো বন্ধুরা-আমরা স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার সাধনায় নিজেদেরকে বিলিয়ে দেই।

সব আকাশে বিলিয়ে দি আজ
স্বাধীনতার গান
বিজয় গানে মুখর হবে
স্বপ্ন ভরা প্রাণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ