ঢাকা, রোববার 11 December 2016 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে আইন অমান্য করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটাগুলোতে চলছে জ্বালানী কাঠপোড়ানোর মহাউৎসব। সরকারি ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন উপেক্ষা করে উপজেলার প্রায় ১০টি ভাটায় দেদারসে পুড়ছে কয়লার পরিবর্তে কাঠের গুড়ি।উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন বনাঞ্চল থেকে গাছ কিনে অসাধু ভাটা মালিকরা কাঠের ব্যবহার করছে বলে সরেজমিনে ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ।
এতে একদিকে যেমন উজার হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে পরিবেশ হচ্ছে রীতিমত দূষিত। শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা,তালগাছি,মশিপুর বাজারঘাটি,হরিরামপুর,গাড়াদহ এলাকার ভাটায় গাছের স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইটভাটার চুল্লিগুলিতে ১২০ফুট উচু চিমনির পরিবর্তে মাত্র ৫ থেকে ৩০ ফুট উচু ড্রামের চিমনী ব্যবহার আর চুল্লিতে প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ।
শাহজাদপুরের পাবনা-বগুড়া মহাসড়কের তালগাছি,মাদলা, মশিপুর এলাকার ভাটায় কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন যেন দেখেই না দেখার ভান করছে। এদিকে ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে সেই মাটি দিয়ে তৈরী হচ্ছে ইট। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক সূত্রে জানা যায়, একটি ভাটায় ইট পোড়াতে ১২-১৫দিন সময় লাগে এ হিসেবে ইটের মৌসুমে প্রায় ১০ দফা ইট পোড়ানো যায়, এক দফায় একেটি ইটভাটায় ইট পোড়াতে ৮-১০ হাজার মন জ্বালানী কাঠের প্রয়োজন হয়। আর ১০ দফায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মণ পর্যন্ত গাছ পোড়ানো হয়। এদিকে ইটভাটা ফসলীজমিতে গড়ে উঠায় আশে পাশের জমির উর্বর ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসলী জমিগুলোও ধ্বংস হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আহমেদ জানান, ভাটামালিকদের গাছ পোড়ানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তারা বলেছে, ভাটায় আগুন ধরাতে কিছু কাঠের প্রয়োজন হয়। তবে নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে কোন ভাটায় ইট পোড়ানো অব্যাহত রাখলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলার ভাটা মালিকরা সাংবাদিকদের জানান, ভাটায় বেশিরভাগ কয়লা পোড়ানো হয়। অল্প কিছু কাঠ পোড়ানো হয় আগুন ধরানোর জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ