ঢাকা, রোববার 11 December 2016 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২ বছরের বন্দী দশা থেকে অবশেষে মুক্তি

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: প্রায় ২ বছর কারাবরণ করে জামিন পেয়ে ১৫ দিন পরে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন সেই কাশেম।
বুধবার সন্ধ্যায় কামের ভাই ইউসুফ জিম্মাদার হয়ে তাকে নিয়ে যান। কাশেম ঢাকা জেলার ছাতিরচর এলাকার মৃঃ শহর আলীর পুত্র। সে ১ পুত্র ও ৩ সন্তানের জনক।
জানাগেছে, ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারী রাত ৮ টার দিকে ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ডে পার্কিং করা একটি বাসে অগ্নিকান্ড ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা আবুল কাশেম আগুনে তাপে উঠে বসে পড়ে। বাহিরের লোকজন হৈ চৈ করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে আসলে গাড়ির মধ্য থেকে টেনে বের করা হয় তাকে। সময়টি ছিলো আওয়ামী লীগ সরকারকে পতন ঘটানোর আন্দোলন। ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশ বাদী হয়ে কাশেমকে প্রধান আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা নং-২০/১৫ দায়ের করে। পরে প্রমাণিত হয় আবুল কাশেম মানসিক বিকারস্থ।
প্রক্রিয়া অনুযায়ী কারাবন্দি অবস্থায় তাকে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা দেয়ার ফলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে। প্রায় ২ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের ২২ নভেম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ রমণী রঞ্জন চাকমা লিগ্যাল এইডে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীর জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন প্রাপ্তির ১৫ দিন পরে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। জামিন প্রাপ্তির পর কারাগার থেকে বের হবার পর কাশেম জানান, গাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে আইছি (আসছি)। রাতে খালি গাড়ি পেয়ে মধ্যে ঢুকে ঘুমাইছি। আগুনের তাপে ঘুম ভাঙলে আমাকে পা ধরে টেনে লোকজন বের করে। হেরা (তারা) মনে করছে আমিই আগুন দিছি। পরে আমারে জেলে দেছে। ছারেগো (স্যারদের) চেষ্টায় আমি মুক্ত হতে পেরেছি।
জেলার মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, কাশেমের বাড়ি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের দুর্গম এলাকা ছাতিরচর গ্রামে। পরিবারের অবস্থায় তেমন ভালো না। কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে তার বাড়ির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে কাশেমের ভাই ইউসুফ আসলে তার জিম্মায় কাশমকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ