ঢাকা, রোববার 11 December 2016 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সরাতে হবে - প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সংবিধানের ১১৬ ও ১১৬ (এ) অনুচ্ছেদ সংবিধানের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। এ দুটো বিধান সংবিধানের পরিপন্থী, এটি আমাদের এই পবিত্র বই (সংবিধান) থেকে অতি তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলার জন্য এখানে উপস্থিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানাবো। এটি থাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বেশ ব্যাঘাত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে।
আর ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এই নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে একটি রিট বিচারাধীন রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতীয় সংসদ চাইলেই অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন।
গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের আইন পেশায় ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতীয় সংসদ চাইলে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে। সংবিধানকে বন্ধ করে দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টকে বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারবে না। এ সময় সংবিধানে কিছু অসাংবিধানিক অনুচ্ছেদ দ্রুত বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ১১৬ এবং ১১৬-এর ‘ক’ অনুচ্ছেদের কারণে বিচারকদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হচ্ছে। এই অবৈধ অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীনতার ৪১ বছর ধরে সংবিধান রক্ষা করেছেন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, যখনই সংবিধানকে লাইনচ্যুত করে বাঁকাপথে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তখনই সুপ্রিম কোর্ট এটিকে সোজা করে দিয়েছে। পবিত্র সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত হওয়া থেকে সুপ্রিম কোর্ট সব সময়ই রক্ষা করেছে।
এ সময় আইনজীবীদের উদ্দেশে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আইনজীবীদের প্রাথমিক জীবন অনেক সময় কষ্টের এবং দুর্দশাগ্রস্ত হয়। তবে টাকার জন্য না দৌড়ে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আইন পেশা একটি সম্মানিত পেশা, আইনজীবীরা জাতির বিবেক উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং সংবিধান রক্ষায় আইনজীবীদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।
বিচারকরাও আইন পেশায় জড়িত থাকলেও তারা চাইলেই সব কথা বলতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে আইনজীবীরা সহজেই অনেক কিছু বলতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আবদুল বাসেত মজুমদারকে দেশের ৫৭টি আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নিজের বক্তব্যে বাসেত মজুমদার সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেছি। প্রথম দিকে অনেক দুঃখ দুর্দশায় জীবন কাটালেও পরে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।
নিজেকে গরিবের আইনজীবী উল্লেখ করে সব সময়ই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান আবদুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, আইনজীবীদের কল্যাণে দেশের সব বারে বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট নামে দুই লাখ টাকার একটি ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছেন। যেখান থেকে আইনজীবীদের প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ