ঢাকা, সোমবার 12 December 2016 ২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাঙ্গেরির অসোতালাম শহরে মুসলিম নারীদের প্রকাশ্যে হিজাব নিষিদ্ধ

১১ ডিসেম্বর, হাঙ্গেরিয়ান ফ্রি প্রেস : হাঙ্গেরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ছোট শহর অসোতালম। শহরটি সার্বিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০১৩ সাল থেকে শহরে মেয়রের চেয়ারটি ‘কুবালা তোরোজকির’ দখলে রয়েছে; যিনি একই সঙ্গে ডানপন্থী দলের ভাইস প্রেসিডেন্টও।
২০১৫ সালে শহরে একটি উদ্ভট ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘হাঙ্গেরির অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বার্তা’ এবং ইংরেজীতে একটি সাবটাইটেল দেয়া হয় যে, হাঙ্গেরির নিকটবর্তী সীমান্তে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে মূল ভূমিকা পালন করেন মেয়র তোরোজকি।
 গেল মাসে মেয়র তোরোজকি ঘোষণা দেন যে, অসোতালমে দুটি আইন পাস করা হয়েছে। দুটিই হাঙ্গেরির মৌলিক আইনের (সংবিধান) লঙ্ঘন। প্রথমত, প্রকাশ্যে মুসলমানদের  হিজাব, বোরকা, নেকাব, বুরকিনি, চাদরসহ ইসলামি পোশাক পরা নিষিদ্ধ। এছাড়াও, ওই ডিক্রীতে শহরে কোনো মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধের পাশাপাশি কোনো মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ডিক্রির দ্বিতীয় অংশে প্রকাশ্যে ‘সমলিঙ্গের বিবাহের প্রচারকে’ নিষিদ্ধ করা হয়। কেউ প্রকাশ্যে সমকামীদের অধিকার তুলে ধরলে অথবা প্রথাগত ইসলামিক পোশাক পরলে তাকে ৬৮৬ ডলার জরিমানা করা হবে বলে বলা হয়।
প্রাথমিকভাবে, মেয়রের এ উদ্যোগকে নিরর্থক বলা যায়। কেননা অসোতালমে কোনো মুসলিম সম্প্রদায় নেই। সুতরাং মুসলিমদের প্রার্থনার জন্য আপাতত কোনো মসজিদের প্রয়োজন নেই। তবে,  ছোট এই শহরে গে বা সমলিঙ্গের বাসিন্দাদের অবস্থান রয়েছে।
একটি অনলাইন সংবাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার ভয়ানক এই ডিক্রীতে শহরটির অনেক মানুষ প্রভাবিত হয়েছে।
সংবাদ সাইটটি গ্রামে তাদের একজন সাংবাদিককে পাঠায়। সেখানে তিনি অন্তত দু’জন মুসলিমকে খুঁজে পান। তাদের মধ্যে একজন কয়েক দশক ধরে সেখানকার বাসিন্দা এবং অন্যজন সিলভিয়া রোজারিও নামে হাঙ্গেরীয় খ্রীষ্টান মহিলার কুয়েতী স্বামী। তাদের পরিবারে চার সন্তান রয়েছে।
সিলভিয়া রোজারিও বলেন, ‘এমন একটি ডিক্রি পাশের খবর পেয়ে আমি সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। আমার স্বামী কয়েক দশক ধরে আমার ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং একই সময় ধরে আমিও অপেক্ষা করেছি তাকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য। কিন্তু আমরা এটা ধরে একে অপরকে হত্যা করছি না। মেয়রের জন্য এটা নিছকই একটি ডিক্রি এবং শুধুই রাজনীতি। কিন্তু আমাদের জন্য, এটা আমাদের জীবন।’
তিনি ডিক্রির ভঙ্গি নিয়ে একটি সমস্যার কথা বলেন আর তা হলো তার বৃদ্ধ শাশুড়ির হিজাব পরিধান করা।
 রোজারিও বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে যখন তিনি অসোতালমে এসেছিলেন তখন প্রকাশ্যে এটা পরা নিয়ে তার কোন সমস্যা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে তিনি আবার এখানে আসলে তখন তিনি কি করবেন? আমরা তাকে আবার এখানে দেখতে চাই এবং তিনি অবশ্যই তার হিজাব পরিত্যাগ করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কুয়েতে ষোল বছর বসবাস করেছি। আমি যখন সেখানে টি-শার্ট পরে জানালার ধারে বসতাম তখন অনেকই প্রথম প্রথম আমার সমালোচনা করত। কিন্তু তারা আমার সম্পর্কে জানার পর আমাকে নিয়ে কেউ আর উপহাস করত না।’ ডিক্রি উপর ভোটিংয়ের সময় টাউন কাউন্সিল নিজেই বিভক্ত ছিল। ছয় জন কাউন্সিলরের মধ্যে দু’জন ভোট দান থেকে বিরত থাকেন, একজন অনুপস্থিত ছিলেন এবং তিনজন এ উদ্যোগকে সমর্থন করেন। ডিক্রির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার হরণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি অসাংবিধানিক কিনা তা নিয়ে ‘কনগার্ড কাউন্টির’ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ