ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুদ্ধাপরাধীদের যারা ক্ষমতায় বসিয়েছিল তাদেরও বিচার হবে ----শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা গণহত্যা চালিয়েছে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, তাদের বিচার চলবে। যতোই ষড়যন্ত্র আসুক, তাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না। কারণ, এটা ন্যায়ের পথ। ন্যায় ও সত্যের জয় সব সময় হয়, সব সময় হবে। এটাই আমরা বিশ্বাস করি।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ, ফজলুল করিম সেলিম, সতীশ চন্দ্র রায়, কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী ও সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে শাহীন রেজা নুর বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তারা সমান অপরাধী। সুতরাং তাদেরও বিচার হবে। শহীদের রক্ত বৃথা যায় না।
প্রধান মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হওয়ার নয়, এটি চলতে থাকবে। যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিচার এখনো চলছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের যারা ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তাদেরও বিচার হবে
তিনি বলেন, শহীদদের পথ ছিল সত্য ও সুন্দরের। সত্য ও সুন্দরের পথকে কেউ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে কিন্তু চিরতরে রুখে দিতে পারে না। আমরা সে পথেই আছি। সুতরাং যত বাধাবিপত্তি আসুক জয় আমাদের নিশ্চিত।’
মৃত্যু তাঁকে বার বার হানা দিয়েছে, এমন প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। সপরিবারে জাতির জনককে হারানোর পর মৃত্যু আমাকে বহুবার তাড়া দিয়েছে। আমি মনে করি, মৃত্যু একটি স্বাভাবিক নিয়তি। কেউ তাকে অস্বীকার করতে পারে না। সুতরাং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। এ শক্তি এ দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগ থেকে পাই। ওরাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বলা যাবে না। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করা যাবে না। সেভাবে যেন রাষ্ট্র চলতে শুরু করল। আর সব দোষ কাদের? বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতা যাঁরা এনেছিলেন, তাঁরাই যেন দোষী। একটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের দেশের সেই গৌরবের ইতিহাসও জানতে পারেনি। সঠিক ইতিহাসও জানতে পারেনি। একটি জাতি যখন তার ইতিহাস ভুলে যায়, তখন সে কিসের ভিত্তিতে এগোবে? মুখ ফুটে যে কেউ বলবে, তারও সুযোগ ছিল না। বলবে কীভাবে? দিনের পর দিন তো মার্শাল ল থাকত। প্রতি রাতে কারফিউ। বলতে গেলে ১০টা বছর এ দেশে কারফিউ ছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেখেছি সেই আলবদর বাহিনী, রাজাকার বাহিনী, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে তারাই এ দেশে মন্ত্রী হয়েছিল। তাদের হাতে ছিল আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। আমাদের এই স্বাধীনতার পতাকাকে কতটা অপমান করা হয়েছিল এদের হাতে সেই পতাকা তুলে দিয়ে। কাজেই যারা এই পতাকা তুলে দিয়েছে তারাও সমান অপরাধে অপরাধী।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার হয়েছে, এদের বিচারও বাংলার মাটিতে একদিন হবে ইনশাল্লাহ। এদেরও বিচার হতে হবে। আমি মনে করি সময় এসে গেছে, আমাদের দেশবাসীকে আজকে সোচ্চার হতে হবে। শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়, যুদ্ধাপরাধীদের যারা লালন-পালন করেছে, যারা রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, যারা এদের হাতে আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছে; তারা সমান অপরাধী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ