ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ায় শালিস বৈঠকে মারধর অপমানে কিশোরীর আত্মহত্যা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দড়ি দিয়ে বেঁধে গ্রাম ঘুরিয়ে শালিস বৈঠক করায় অপমানে আত্মহত্যা করেছে এক কিশোরী। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে কলারোয়া থানায় মামলা হয়েছে। অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সানাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ওই কিশোরীর বিচার করা হয়। এদিকে কিশোরীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে উপজেলার  সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসএম মনিরুল ইসলাম সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আত্মহত্যাকারী কিশোরীর নাম আফরোজা খাতুন (১৫)। সে সোনাবড়িয়া গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মাদের ছোট মেয়ে। আফরোজার ভাই মামলার বাদী ইব্রাহীম খলিল জানান, তার বোন গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সোনাবাড়িয়া বাজারে হাসানের দোকানে মোবাইলে ফ্লাক্সিলোড করতে যায়। সেখানে ওই দোকানের মধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছিল কুষ্টিয়া থেকে বালি নিয়ে আসা (ঠিকানা অজ্ঞাত) ট্রাকচালক পলাশ। এ সময় দোকানদার হাসান নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে চলে যায়। পরে সোনাবাড়িয়া গ্রামের বাবু সরদারের ছেলে হাফিজুর দোকানের শার্টার বন্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আফরোজা ও ট্রাকচালক পলাশ অনৈতিক কাজে লিপ্ত আছে-এ মর্মে প্রচার করে। এ খবর জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তার কয়েক অনুসারী ও ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ইসমাইল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। চৌকিদার ইসমাইল হোসেনসহ ৪/৫ জন ট্রাকচালক পলাশ ও কিশোরী আফরোজাকে দড়ি দিয়ে একত্রে বেঁধে গ্রাম ঘুরিয়ে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে। ইউপি চেয়ারম্যান শত শত উৎসুক জনতার সামনে তাদের দু’জনকে মারধর করে। এ সময় পলাশকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। আর আফরোজাকে সতর্ক করে তার মা আনোয়ারা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, বাড়ি ফিরে অফরোজা লোক লজ্জার ভয়ে ২৪ ঘণ্টা ঘর থেকে বের হয়নি। শনিবার বিকেলে সবার অজান্তে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আত্মহনন করে। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, ঘটনার দুই দিন পর মেয়েটির আত্মহত্যার খবর পেয়ে অপমৃত্যু মামলা করতে যান। পরে নেপথ্য ঘটনা জানতে পারেন। কিশোরীর ভাই গত শনিবার রাতে থানায় এসে মামলা দায়ের করে। রাত ১১টার দিকে আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, ইসলামইল চৌকিদার ও জয়দব দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ