ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

না’গঞ্জবাসী ধানের শীষে ভোট দিয়ে হারানো গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জবাসী ধানের শীষে ভোট দিয়ে হারানো গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ অন্যায় ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে জানে। তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে হারানো গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি। গত মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রাথী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণায় এসে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেছেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ দেশকে জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সরকার আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে এবং গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে। তাই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং নাসিক নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সরকার আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে। তাই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের যুবকেরা কেউ  নিরাপদে নেই। এ সরকারের আমলে ৫০০ যুবককে অপহরণসহ হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে। এখনো অনেক মা তার সন্তানের জন্য কাঁদছেন, কবে আসবে তার সন্তান। নারায়ণগঞ্জের অনেক ছেলে মামলা-হামলার শিকার হয়ে ঢাকাসহ অন্য জেলায় গিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবন যাপন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ধানের শীষের প্রতীক হচ্ছে শান্তির প্রতীক, আর সেই প্রতীকের প্রার্থী হচ্ছেন অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান। আপনাদের সাখাওয়াত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও সাহসী সন্তান। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভুমিকা রেখেছেন। তাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারে নাই বিগত দিনে। এ কারণে মানুষের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতেই বিএনপির নেত্রী, ২০ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ নির্বাচনে সাখাওয়াত হোসেন খান সাহস ও অন্যায়ের প্রতীক। এটা শুধু মেয়র নির্বাচন নয় এ নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। তারেক রহমানকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনা, বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদ, মিথ্যে মামলা থেকে মুক্তি পেতেই ধানের শীষকে জয়ী করাতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দড়ি সোনাকান্দা এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে সিএসডি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি আবুল কালাম, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল প্রমুখ।
সেনাবাহিনী ছাড়া কোনভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না : মেজর হাফিজ
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী ছাড়া কোন ভাবে নিবর্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের সার্থে সেনা মোতায়েন করা হউক। সেনা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে আমাদের দলীয় প্রাথী লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু নিবর্বাচন কমিশনার সেটা আমলে না নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে সেটা নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের কর্মকান্ডে যে ধরনের আবিরভুত হয়েছে সেনা বাহিনী ছাড়া কিছুতেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। বুধবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান সড়কে সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপির মিডিয়া সেল উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান নিবর্বাচন কমিশন সরকার দলের ক্যাডারদের নিয়ে গঠিত। তাই বিগত সময়ে যত গুলো নিবর্বাচন হয়েছে সব গুলো নিবর্বাচনই ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। এই নিবর্বাচন কমিশন ভোট ডাকাতদের সহযোগিতা করেছে। তাই এই নিবর্বাচন কেমন হবে ভোটাররা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। মানুষের সকল অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেখানে পুলিশ ভোট দিয়েছে। আমরা দেখেছি গাইবান্ধায় সাওতাঁল পল্লীতেও পুলিশ আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। দেশ এখন পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা আগামী ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট মানুষ দিতে পারবে কী না সেটা নিয়েও সন্দিহান।
নাসিক নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানও বক্তব্যেও সেনা মোতায়েনের দাবী জানান এবং সরকারী দলের লোকদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে অভিযোগ করেন।
এদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বাসভবনে গঠিত বিএনপির ওই মিডিয়া সেল থেকে এখন নিয়মিত সংবাদ সম্পর্কিত সকল তথ্য প্রদান করা হবে।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সেলিমুজ্জামান সেলিম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ