ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকা বাইপাস সড়কের কাজে গতি নেই ॥ রাজধানীতে পরিবহনের চাপ

স্টাফ রিপোর্টার :   দীর্ঘ চার বছর আগে প্রকল্পের  অনুমোদন হলেও অদৃশ্য কারণে আটকে আছে ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ণের কাজ।  পিপিপি’তে সড়কটি চার লেন করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১২ সালের ১১  সেপ্টেম্বর নীতিগত অনুমোদন  দেয়ার পরে কেটে গেছে চার বছর। কিন্তু কাজের গতি না পাওয়াতে এখন প্রকল্পটির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।     
সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই হয় শুরুর পর থেকে এখনো সড়কটির কাজের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। ফলে এই প্রকল্পটি যে উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল তা এখন মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফোর লেনের কাজ বন্ধ থাকায় রাজধানীর উপর যানবাহনের চাপ কমানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা কাজে আসছে না।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে যানজটের চাপ কমাতে জয়দেবপুর- দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর (ঢাকা বাইপাস) সড়ক চার  লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তবে এখন পর্যন্ত দরপত্র আহ্বানেই আটকে আছে এ প্রকল্পের অগ্রগতি। উতোমধ্য কাজটি  পেতে ১১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও   শেষ হয়নি বাছাই প্রক্রিয়া।
সূত্র আরো জানায়,  চার  লেনের এ সড়ক নির্মাণে  বেসরকারি উদ্যোক্তা সন্ধানে গত বছরের ৬ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করে সওজ। দরপত্র জমাদানের  শেষ সময় ছিল চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি। বিল্ড অপারেট ওন অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) পদ্ধতিতে সড়কটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান  টোলের মাধ্যমে বিনিয়োগের অর্থ তুলে  নেবে। নির্ধারিত সময়ে পরে সড়কটি সওজের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসব শর্ত  মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়।
নিয়ম অনুযায়ী জমা  দেয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে দরপত্র বাছাই করার কথা রয়েছে। কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।  অভিযোগ উঠেছে সওজের কিছু কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ  দেয়ার  চেষ্টা করায় এ কালক্ষেপণ হচ্ছে।
প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে  সওজ’র উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রয়াধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে নির্দিষ্ট  কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা  দেয়ার সুযোগ এক্ষেত্রে নেই। যারা  যোগ্য তারাই কাজটি পাবেন।
উল্লেখ্য ঢাকা বাইপাস প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, জয়দেবপুর- দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক ১০৫-এর অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে  দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করেই সরাসরি চট্টগ্রামে যেতে পারবে।
বর্তমানে দুই  লেনের এ সড়কটিতে গড়ে ১০ হাজার মোটরযান চলাচল করে। ক্রমশ এ সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের চাপে প্রায়শই ঢাকা বাইপাসে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আর প্রকল্পের কাজ সহজ করার জন্য ‘আপগ্রেডিং অব জয়দেবপুর- দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস) পিপিপি’ শীর্ষক প্রকল্পটি  নেয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০  থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ