ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কোনো রাজনৈতিক দলকে দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ না দিতে ইসিকে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার : দাঁড়িপাল্লা প্রতীক কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ না দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আর বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকলে তা বাতিলের জন্য বলা হয়েছে চিঠিতে। দাঁড়িপাল্লা সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রাম এবং ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে কোনো ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হলে জনমণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এই বিষয়টি জানিয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টার দিকে চিঠিটি পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে। পরে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ইসি সচিবালয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সর্বসম্মত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গত সোমবার বিকালে। ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এই চিঠি পাঠান।
প্রসঙ্গ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনে জাতীয় নির্বাচনসমূহে অংশগ্রহণ করে আসছিল। সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রাম ‘দাঁড়িপাল্লা’ দাবি করে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট করা হলে তা খারিজ হয়ে যায়। একজন আইনজীবী এই রিট দায়ের করেন। পরে বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামে নৌকা এবং ধানের শীষ থাকায় এবং আনসার ভিডিপির মনোগ্রামে লাঙ্গল প্রতীক থাকায় আরো রিট দায়ের হলে সবগুলো রিট খারিজ করেন আদালত। তখন রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা, নৌকা, ধানের শীষ এবং লাঙ্গলের ব্যবহার নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের নিষ্পত্তি ঘটে।
চিঠিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে আদিষ্ট হয়ে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠাকাল হতে দাঁড়িপাল্লা’ ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহার করা হয়। ফলে দাঁড়িপাল্লা অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। দাঁড়িপাল্লা ন্যায়বিচার তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান রা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণের উপস্থিতিতে বিগত ১২/১২/১৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের ফুলকোর্ট সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, দাঁড়িপাল্লা ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে এক সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহৃত হবে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার না করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হোক।
এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভার উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসাবে বা কোনো নির্বাচনে প্রার্থীর প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ প্রদান না করা এবং যদি বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে তাহলে উক্ত বরাদ্দ বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ