ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজউকের ওপর জনগণের আস্থা নেই

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ওপর জনগণের আস্থা  নেই বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে রাজউকের সেবা সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর ফলোআপ গণশুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগের গণশুনানিতে ভুক্তভোগী  অভিযোগকারীর মধ্যে মাত্র ২ জনের সমস্যার সমাধান হয়। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের এই ফলোআপ গণশুনানি আরো ফলপ্রসূ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা বাস্তবে  দেখতে পাই রাজউকের ওপর প্রকৃতপক্ষে জনগণের আস্থা নেই। আস্থা বৃদ্ধি করতে হলে রাজউককে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে  সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। কাজের মাধ্যমে তাদেরকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিপর্যায়ে তাদের কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করতে হবে। রাজউকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য তথ্য অধিকার আইন তথা তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। রাজউকের ওয়েবসাইটে সব তথ্য থাকা উচিত। তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।
রাজউক কর্মকর্তারা  সেবা গ্রহীতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এমন মন্তব্য করে দুদক কমিশনার বলেন, আমরা অনেক সময় জানতে পারি রাজউক কর্মকর্তারা সেবা গ্রহীতার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। যা কাঙ্খিত নয়। সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সব  ক্ষমতার মালিক। তারাই প্রিন্সিপাল, আমরা সরকারি কর্মকর্তারা এজেন্ট মাত্র।
আমরা দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।  কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাই এবং তাতে দুর্নীতি উপাদান থাকে তাহলে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ  অনুসন্ধান করবো। আমরা শুধু প্রতিরোধের জন্য নয়, দুর্নীতি দমনও করবো। সবাইকে আইন মেনে জনগণের সেবা দিতে হবে।
গতকালের গণশুনানি ছিল দুদকের ৩৫তম গণশুনানি। গণশুনানিতে ৪০ জনের অধিক  সেবাগ্রহীতা তাদের অভিযোগ  পেশ করেন। প্রতিটি অভিযোগ সম্পর্কে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
গণশুনানিতে দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ  এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে রাজউকের সার্বিক চিত্র প্রকাশ  পেয়েছে। আজ রাজউকের কর্মকর্তারা  যে প্রতশ্রুতি দিলেন, আশা করি সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী  তারা এ অভিযোগুলো নিষ্পত্তি করবেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, জবাবদিহিতার মাধ্যমেই আমাদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আমাদের পুরো  সেবা প্রক্রিয়া অটোমেশন করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।  আমরা যদি আমাদের সব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনতে পারি তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে।
দুদকের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ও পরিচালক নাসিম আনোয়ারের সঞ্চালনায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আবদুর রশীদ খান, ডা. মো রেজাউল ইসলামের  অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি হয়। তবে অন্যান্য অভিযোগগুলো নির্ধারিত সময়ের  মধ্যে নিষ্পত্তি হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ