ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি ৭ যুবকের

স্টাফ রিপোর্টার: নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি সাত যুবকের। রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে প্রায় একই সময়ে নিখোঁজ হয় তারা। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের  খোঁজ পায়নি পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজনের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের জীবনাচরণ বিশ্লেষণ করে নানারকম সংশয়  তৈরি হয়েছে পুলিশের মনে। এদিকে নতুন করে নিখোঁজ যুবকদের নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা আত্মগোপনে থেকে কোথাও জঙ্গি হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে রাজধানী ঢাকার কূটনৈতিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা যেকোনও মূল্যে তাদের সন্তানদের ফেরত পেতে চান। 
জানা গেছে, গত ৩০ নবেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দিনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পাবনা, রংপুর ও বরিশাল থেকে ৯ তরুণ নিখোঁজ হয়। এরমধ্যে বরিশালের একজন ও রংপুরের একজন বাসায় ফিরে গেছে। গত ১৩ দিনেও বাকি সাতজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা নিখোঁজ তরুণদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছে, নাকি কেউ তাদের তুলে নিয়ে গেছে তা জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, ১ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে একযোগে চার তরুণ নিখোঁজ হয়। তারা হলো- সাফায়েত হোসেন, জায়েন হোসেন খান পাভেল, সুজন ও মেহেদী। এদের মধ্যে সাফায়েত ও পাভেল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চারজনের একযোগে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। নিখোঁজ চার জনের মধ্যে সাফায়েতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল ঘেঁটে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পরার বিষয়ে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। একযোগে নিখোঁজ চার তরুণের একজন সুজনের ভাই সুমন জানান, সুজন নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছে। সুমন বলেন, ‘ সে কোথায় আছে কিভাবে আছে আমরা কিছুই জানতে পারছি না। পুলিশও আমাদের কোনও ‘আপডেট’ জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিবারের সবাই অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
৫ ডিসেম্বর সাইদ আনোয়ার খান নামে বনানী এলাকার আরেক তরুণ নিখোঁজ হয়। ও লেভেল সম্পন্ন করা এই তরুণ কলাবাগানে একটি ক্যারাতে প্রতিযোগিতায় ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ শেষে আর বাসায় ফেরেনি। সাইদের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজের পর থেকেই সাঈদের বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন। তারা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সাইদ আনোয়ারের মা বলেন, ‘ঘটনার দিন ছেলে ক্যারাতে ক্লাসে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে সে নিখোঁজ হয়েছে। সে যদি স্বেচ্ছায় চলে যেত, তাহলে তার ক্যারাতে ক্লাসে যাবার প্রয়োজন ছিল না। সে এমনিতেই বাসা থেকে বেড়িয়ে চলে যেতে পারতো।
৩০ নবেম্বর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মাটিকাটার বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া কেয়ার মেডিকেল কলেজের ছাত্র ইমরান ফরহাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। ইমরানের ফুফাতো ভাই মামুন বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে আমরাতো কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। র‌্যাব-পুলিশ কেউ আমাদের কোনও আপডেট দিতে পারছে না। পরিবারের সদস্যরা সবাই ভেঙে পড়েছে।
১ ডিসেম্বর ও ৩০ নবেম্বর  রংপুর এবং পাবনা থেকে পাবনা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্র তানভীর আহম্মেদ তনয় ও জাকির হোসেন বিপ্লব নিখোঁজ হয়। দুজনের বাড়িই রংপুরে। পাবনা মেডিকেল কলেজের এক নম্বর ছাত্রাবাসের পাশাপাশি কক্ষে থাকত তারা। গত রোববার সকালে জাকির বাড়ি ফিরেছে। সে রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছে তার ভাই জাহাঙ্গীর। তবে তনয় এখনও বাড়ি ফেরেনি। অন্যদিকে আগৈলঝারা থেকে ৩০ নবেম্বর বরিশালের নিখোঁজ হওয়া নেয়ামতউল্লাহকে গত শুক্রবার রাজধানীর গে-ারিয়া থেকে উদ্ধার করা  হয়। বাবা-মায়ের সঙ্গে রাগ করে ঢাকায় পালিয়ে এসে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিল এই মাদরাসা ছাত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ