ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকারি রেভিনিউয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাষ্ট্রায়াত্ত উথলী সোনালী ব্যাংকে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের বিল জমা নেয়ার সময় রেভিনিউ না লাগানোর কারণে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকার রাজস্ব থেকে সরকার যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি উক্ত অর্থ সংশ্লিষ্টরা পকেটস্থ করার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে- উক্ত উথলী সোনালী ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের বিল জমা নেবার সময় ৪ শত টাকার উর্ধের গ্রাহকদের বিলে সরকার নির্দেশিত ১০ টাকা মূল্যমানের রেভিনিউ লাগানোর কঠোর নির্দেশ থাকলেও এখানে সেটা না লগিয়েই বিলের কপি গ্রাহকদের ফেরত দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান ম্যানেজার আরিফুজ্জামান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সন্ধান করে কোন গ্রাহকের বিলেই রেভিনিউ পাওয়া যায়নি। গতকালও এই প্রতিবেদক উক্ত ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করে কোন গ্রাহকের বিলেই রেভিনিউ দেখতে পাননি। গত ২ মাস আগে বিষয়টি ম্যানেজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কয়েকদিন রেভিনিউ লাগালেও আবার তা বাদ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উক্ত ম্যানেজারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। বর্তমানে উক্ত ব্যাংকে প্রতি মাসে ২ হাজার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক বিল জমা দিয়ে থাকে বলে ম্যানেজার জানালেও প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশী। এই বিরাট সংখ্যক গ্রাহকের বর্তমানে বিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহার বেড়ে যাবার কারনে অর্ধেকের বেশী সংখ্যকের বিল ৪ শত টাকার বেশী আসে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে ১০/১৫ হাজার টাকারও বেশী রেভিনিউ থেকে সরার বঞ্চিত হচ্ছে। এ দিকে বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের দর্শনা এরিয়া ম্যানেজার মনিরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রতি মাসে উক্ত ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা রেভিনিউ বাবদ খরচ দেখানো হয়। প্রশ্ন হলো তাহলে এই বিরাট অংকের টাকা কার পকেটে যায়? ম্যানেজার না কর্মচারীদের? বিষয়টি নিয়ে সোনালী ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ডিজিএম আমীর হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে পরে কথা বলবো বললেও পরে আর ফোন রিসিভ করেননি, বিধায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি। তবে পল্লী বিদ্যুতের চুয়াডাঙ্গাস্থ ডিজিএম হাবিবুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ