ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নরসিংদী মডেল থানায় হত্যা মামলা রুজু’র ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম অবশেষে মারা গেলেন

নরসিংদী সংবাদদাতা : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম অবশেষে গতকাল বুধবার সকালে মারা গেলেন। হাসপাতালের বেডে জীবন্ত রোগী রেখে থানায় হত্যা মামলা দায়ের ও কবর খুড়ে মৃত্যু সংবাদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের স্বস্তি মিলেছে।
আর এ খবরে সারা নরসিংদীতে তোলপাড় চলছে। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নরসিংদীর কৌতুহলী মানুষ ঘটনার আদ্যপান্ত জানার জন্য দক্ষিণ শিলমান্দী গ্রামে মামতাজ বেগমের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার দক্ষিণ শিলমান্দী গ্রামের জাকির হোসেন ও ওমর ফারুক গংদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৯ ডিসেম্বর সংঘটিত সংঘর্ষে আহত মমতাজ বেগম (৫০) এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মমতাজ বেগমের পুত্র ওমর ফারুক স্থানীয় দালাল ছানাহ উল্লাহর মাধ্যমে নগদ নারায়ন দিয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৫ (১২) ২০১৬। মমতাজ বেগমকে জীবীত রেখে থানায় হত্যা মামলা রুজুর ঘটনা পত্র পত্রিকায় প্রকাশের পর পুলিশের নির্দেশে বাদী পক্ষ তড়িগড়ি করে রাতের আধারে পারিবারিক কবরস্থানে মমতাজ বেগমের জন্য একটি কবর খুড়ে রাখে। এ ঘটনা দেখতে নরসিংদী অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত কৌতুহলী মানুষ জীবীত মমতাজ বেগমের কবর দেখতে যায়।
এ মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতের পুত্র ওমর ফারুক কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অবশেষে আমার মা মারা গেছেন।  এব্যাপারে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।  নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাসিবুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে জানান, মিথ্যা মামলা রুজুর বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিথ্যা মামলা রুজুর সংগে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কথিত দালাল ছানাউল্লাহ জানান, মৃত্যুর খবর সঠিক। তবে লাশ এখনও রাস্তায় রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ