ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ্বনবীর (সা.) আদর্শই সর্বোত্তম আদর্শ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেছেন, অশান্তি-বিক্ষুব্ধ আজকের বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শের কোন বিকল্প নেই। তারা বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ। ¯্রষ্টা প্রদর্শিত পথে মানবজাতিকে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে যেসব নবী রাসূল এসেছেন তাদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। পৃথিবীর অমুসলিম মনীষীবৃন্দও স্বীকার করেছেন একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পথ অনুসরণের মাধ্যমে আজকের বিশ্ব তাবৎ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজকের মুসলিম বিশ্বও মহানবীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে জিল্লতীর মধ্যে কালাতিপাত করছে। বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশ সরকারও স্ববিরোধীতা থেকে মুক্ত নয়। সংবিধান থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালার উপর বিশ্বাস তুলে দিয়ে মুখে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাণী প্রদান স্ববিরোধীর শামিল।
সভায় অবিলম্বে সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালার উপর বিশ্বাস পুনঃসংযোজনের দাবি জানানো হয়। বক্তাগণ আরো বলেন, উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ নামে যে স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ বিদ্যমান তার অভ্যুদয় সম্ভবই হতো না। যদি এতদঞ্চলে বিশ্ব নবীর আদর্শের অনুসারীদের বিপুল সংখ্যাধিক্য প্রতিষ্ঠিত না হতো। সে নিরীখে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রস্বত্তাও নির্ভর করে বিশ্ব নবীর আদর্শের উপর। বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বে মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারসহ বিশ্বের অন্যান্য নির্যাতিত মুসলিম দেশসমূহে মুসলমান নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও যুবকদের উপরে যে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে এ অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে তমদ্দুন মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার সম্মানীত অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবদুল গফুর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, ড. আহমদ আবুল কালাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন খান, এম এ হান্নান, মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মীর রেজাউল আলম, এমদাদুল হক চৌধুরী প্রমুখ। উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো এ বছরও তমদ্দুন মজলিসের পক্ষ থেকে শান্তি পদক প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও ইসলাম প্রচার প্রসারে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ রেফাকের চেয়ারম্যান ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আল্লাহ শাহ আহমদ শফি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ঝালকাঠি নেছারাবাদ (এনএস) কামিল মাদরাসাকে শান্তি পদক প্রদান করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ