ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জিয়া চ্যারিটেবল মামলার সাক্ষ্য বাতিলের আবেদনে আংশিক শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে পুনরায় সাক্ষ্য নিতে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আংশিক শুনানি শেষে মুলতবির আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
আইনজীবী জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টের আইন অনুযায়ী শপথ নেননি। এ ক্ষেত্রে তাঁরা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা একটি আবেদন বিচারিক আদালত খারিজ করেছেন। বিচারিক আদালতের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য নেয়ার দিন ধার্য রয়েছে। তবে হাইকোর্টে এ মামলার নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শুনানির সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে হয়তো নতুন দিন ধার্য করা হতে পারে ।
এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাক্ষ্য বাতিলের আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণে বিব্রতবোধ করেন। পরে আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি আবেদনটি শুনানির জন্য এই বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন।
গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এই মামলার সাক্ষীদের পুনরায় সাক্ষ্য নেয়ার আবেদন খারিজ করে দেন। এই খারিজের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া।
২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ