ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 December 2016 ১ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যতদিন জুলুমবাজদের হাত থেকে নিরীহ মানুষের মুক্তির আলো দেখানো না যাবে ততদিন বিজয় দিবস আমাদের দিকে তাকিয়ে উপহাস করবে -ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন বলেছেন, আমরা স্বপ্নে যে বাংলাদেশ দেখছিলাম তা কি সত্যিই অর্জিত হয়েছে? যদি সত্যিই আমরা সে বাংলাদেশ পেয়ে থাকি, তাহলে এ দেশে আজ এত রক্ত, এত নির্যাতন, মানুষের প্রতি অমানুষরূপি মানুষের এত বর্বর আক্রমণ কেন? তিনি বলেন, কেন স্বাধীন দেশে আপন শাসকদের দ্বারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিরা নির্যাতিত হয়। কেনই বা সংখ্যালঘু আর সাওতালদের রক্তে হলিখেলা হচ্ছে। কেন তনু তমা আর খাদিজাদের মতো নিরীহ মেয়েরা শক্তিধরদের দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার পরও বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। এ প্রশ্নের উত্তর যতদিন খুঁজে না পাওয়া যাবে এবং শক্তিধর অত্যাচারিত জুলুমবাজদের হাত থেকে এ নিরীহ মানুষের মুক্তির আলো দেখানো না যাবে, ততদিন এ বিজয় দিবস আমাদের দিকে তাকিয়ে বারবার উপহাস করবে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে গতকাল বুধবার ৪৬তম মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিষদের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক। মহানগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন মহানগরীর সেক্রেটারি।
ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন বলেন, আজকের বাংলাদেশ সেদিনের পূর্ব পাকিস্তান, যার শাসক ছিল একই দেশের পশ্চিম অঞ্চলের একদল মানুষরূপি জুলুমবাজ। অর্থনৈতিক শোষণ আর শাসনতান্ত্রিক নির্যাতনে সে দিন এ অঞ্চলের মানুষ হয়ে উঠেছিল এক প্রতিবাদী অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। অত্যাচারিত আর অধিকার বঞ্চিত মানুষের সম্মিলিত আওয়াজে সে দিন ভারী হয়েছিল বাংলার আকাশ বাতাস। সকল পেশাজীবী মানুষ সে দিন সব ধরনের জুলুমের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চেতনায় হতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। আর এ অসহায় মানুষগুলোর সাহায্য সহযোগিতায় সে দিন এগিয়ে এসেছিল প্রতিবেশী দেশ ভারত। লক্ষ লক্ষ মানুষকে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় দিয়ে সারা দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। দামাল ছেলেদের অস্ত্র হাতে যুদ্ধ আর অসনিত মানুষের অস্তুর বিনিময়ে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর ঘাতক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আমরা যে বিজয় তথা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছিলাম, আজকের বাংলাদেশে সেই বিজয় মানুষের জীবনে কতটা প্রাসঙ্গিক সেই প্রশ্ন আজ অনিবার্য।
তিনি বলেন, আরকান আমাদের প্রতিবেশী বার্মার একটি রোহিঙ্গা মুসলিম অঞ্চল। সে দেশের সামরিক জান্তা মুসলিম নিধন যজ্ঞ চালিয়ে সে দেশকে মুসলিম শূন্য করছে। নির্যাতিত এ মানুষগুলো সহায় সম্পদ ফেলে জীবন রক্ষার তাগিদে হন্য হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াচ্ছে। আমরা কি মানবতার খাতিরে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। আমরা কি ভুলে গেছি সেই ৭১ এর ভয়াল দিনগুলো! আমাদের সেই চেতনা কি রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বরোধকে উদ্বুদ্ধ করে না?
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক বলেন, ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ এর পূর্বে পাকিস্তান জান্তা যত নির্যাতন, হত্যা, গুম, খুন করছে, স্বাধীন গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের বর্তমান শাসক শ্রেনী তার চেয়ে বহুগুণ বেশী হারে চালাচ্ছে। তারা তাবেদারী করছে। ভিন্ন দেশকে সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ