ঢাকা, শুক্রবার 16 December 2016 ২ পৌষ ১৪২৩, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফজল শাহাবুদ্দীনের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ

শাহীন রেজা : ‘রাইফেল আর বেয়োনেট নিয়ে কারা
মত্ত শিকারে নেমেছে বাংলাদেশে
মিছিলের মুখ অসহায় দলে দলে
পড়ছে লুটিয়ে শহরে ও বন্দরে-’
(নতুন ভিয়েতনাম)
এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের উপক্রমণিকা অঙ্কিত করেছেন তিনি। ফজল শাহাবুদ্দীন। পঞ্চাশের দুরন্ত কবি। কেউ বলেন অন্তহীনতার কবি। কেউ আবার এক পা এগিয়ে প্রেম ও দ্রোহের। আবার কেউ কেউ তাকে  অভিহিত করেন নিসর্গের কবি হিসেবে। তবে সব পরিচয়কে ছাপিয়ে তার যে পরিচয়টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে তা হচ্ছে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের কবি’। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, তার প্রেক্ষাপট, সামগ্রিক চিত্রাবলি এবং পরবর্তী অবস্থান তার কবিতায় যতটা স্পষ্ট যতটা প্রাঞ্জল ততটা সমসাময়িক অন্যদের মধ্যে নয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশের প্রায় সকল কবিই কবিতা রচনা করেছেন, তাদের লেখাতেও আবেগের ঘাটতি নেই, চিত্রপট বর্ণনাতে নেই আন্তরিকতার অভাব- শুধু একটি জিনিস নেই তা হচ্ছে ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র, একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল  ফজলের কবিতাতে পরিলক্ষিত এবং  সে কারণেই তিনি রণাঙ্গনের কবি, মুক্তিযুদ্ধের কবি।
উল্লেখিত নতুন ভিয়েতনাম কবিতাতেই পশ্চিমাদের যে নির্মম আক্রমণচিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা এ রকম-
‘খুলনা সিলেট রংপুর চাটগাঁয়ে
এবং ঢাকার রাজপথে গলিপথে
মৃত্যু আজকে মেলেছে হিংস্র থাবা
কাঁদানে গ্যাসের দম আটকানো স্বরে-’
এরপরই কবি প্রতিবাদী কবি প্রতিরোধকারী। তার কণ্ঠে শোককে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান- তার উচ্চারণে জিঘাংসার তীব্র আগুনে সবকিছুই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবার অঙ্গীকার-
‘তোমার পাপের তালিকা আমার কাছে
যত্নে রেখেছি আমারি রক্তে লিখে
শোধ নেবো শোনো একটি একটি করে
আজকে তোমার মুক্তির পথ নেই
রাইফেলধারী বেয়োনেটধারী শোনো
এবার তোমার রক্ত দেবার পালা
শাণিত তীক্ষ্ম সাত কোটি হাতিয়ার
বঙ্গভূমিতে নতুন ভিয়েতনাম’।
নতুন ভিয়েতনাম কবিতাটির মতো আরও অসংখ্য কবিতায় তিনি তুলে ধরেছেন পশ্চিমা শোষণ আর বঞ্চনার কথা, তুলে ধরেছেন যুদ্ধ পূর্ববর্তী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক চিত্রসমূহ এবং বিবৃত করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে তিনি দেখেছেন অত্যন্ত কাছ থেকে এবং সে কারণে যুদ্ধের ভয়াবহতা, স্বজন হারানোর আর্তি আর প্রতিশোধের উন্মাতাল উষ্ণতা তার কবিতায় উঠে এসেছে অত্যন্ত নিপুণভাবে।
‘নবান্ন:১৩৭৬’ -ফজল শাহাবুদ্দীনের একটি অসম্ভব রকমের দেশপ্রেমের কবিতা। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশের চিত্র এ কবিতায় এতই স্পষ্ট যে তা যে কোন মানুষকে ছুঁয়ে যায়, ভারাক্রান্ত করে। সে সময়ে জন্মগ্রহণ না করেও যে কেউ কবিতাটি পাঠ করে সে সময়কার বাস্তবচিত্র অবলোকন করতে পারেন। এ কবিতাটিতে কবি শুধু সময়ের সামগ্রিক চিত্রই তুলে ধরেননি, এতে সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিতও সুস্পষ্ট।
‘এখন ফসল নেই বাংলাদেশে। হাওয়ায় ওঠে না
দুলে রাশি রাশি তৃপ্তির শিখার মতো স্বর্ণরং শস্যকণা আর
খামারেতে নেই সেই আকাক্সক্ষার সম্পন্ন শরীর
এবং ইদানীং
ক্ষুধার পতাকা এক উড়ছে শুধুই
বিশাল আকাশ জুড়ে আশ্বিনের সুনীল ললাটে-’
তৃপ্তির শিখার মতো স্বর্ণরং শস্যকণাহীনতায় কবি যখন ভারাক্রান্ত- হতাশ, ঠিক তখনই তিনি ঘোষণা দেন পরিবর্তনের। তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শিকল ভাঙার আর্তনাদ। তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায় চাবুকের মতো তীর্যক বাক্যবাণে স্থবির জাতিকে উচ্চকিত করার প্রয়াস। একই কবিতার শেষ তিনটি চরণে কবির ইঙ্গিতটি আক্ষরিক অর্থেই অর্থবহ-
‘এখন ফসল নেই বাংলাদেশে অথচ সবাই
কী করে মেতেছো বলো
প্রাচীন বিশাল সেই নবান্নের উৎসবে-’
কবির কাজ শুধু ঘটনা বর্ণনা নয় কবির কাজ পথ দেখানো, কবির কাজ অন্ধকারে আলোকবর্তিকা হয়ে জাতিকে সচকিত করা, এগিয়ে নেয়া- ফজল শাহাবুদ্দীন সে ক্ষেত্রে শুধু সফলই নন, সমসাময়িক অন্যদের চেয়ে ঈর্ষণীয়ভাবে অগ্রসরমান।
ফজল শাহাবুদ্দীন একাত্তরের ধ্বংসযজ্ঞ শুধু কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেননি, তার হাহাকার তার ব্যাপকতা মর্মমূলে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। আর সে আবেগকে কবিতায় চিত্রিত করার কোন কার্পণ্য তার মধ্যে কখনোই পরিলক্ষিত হয়নি।

‘কখনো বা দল বেঁধে আসে ওরা কখনো একেলা
হত্যা হত্যা খেলা আর হত্যা হত্যা মেলা
পোড়ে গ্রাম ওড়ে মস্তকের খুলি
জ্বলে হৃদপিণ্ড জানালার ঘুলঘুলি
জ্বলে গ্রন্থাগার স্কুল
শস্যক্ষেত্র দরদালান সোমত্ত শরীর বাসি ফুল
নিহত বুলেট এসে লাগে বিদ্ধ হয় দীর্ঘশ্বাস
কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখে কেন চোখে জল ভরে আসে।’
(আগস্ট ’৭১, একটি বিকেল)
এ কবিতাটি যেন একাত্তরের এক প্রামাণ্য চিত্র। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের এ জীবনঘনিষ্ঠ উচ্চারণ শব্দযোদ্ধা ফজল শাহাবুদ্দীনের এক অনন্য কীর্তি। যা শুধু তাকে মাত্রায়িত করে না, করে তোলে আলাদা আলোয় দৃশ্যমান।
যখন এ দেশ রণক্ষেত্র, চারদিকে বারুদ আর মৃত্যুর গন্ধ, ধ্বংসের লেলিহান শিখায় প্রজ্বলিত বৃক্ষরাজি সোনালী ফসল গৃহ ও গৃহস্থালি এবং মানুষের অন্তর- তখনও পলাতক স্রোতের পিছু ধাবিত হয়নি যে ক’জন তাদেরই একজন ফজল শাহাবুদ্দীন। মৃত্যুর বিভীষিকা তাকে দেশছাড়া করেনি, রক্তের তীব্র ভয়াল স্রোত তাকে মাতৃবুক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। একাত্তরে বাংলাদেশের হৃদয় আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকা কবি তার অবস্থানকে চিহ্নিত করেছেন এভাবে-
‘বুলেটের নিষ্ঠুর থাবার নিচে
আমার রক্তের স্রোত এখানে প্রত্যহ
হিীম হয়ে আসে
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা খণ্ড খণ্ড রক্তের নিভৃত শব্দে
পলাতক ভাই নিহত শিক্ষক নিরুদ্দিষ্ট বোন
আর নিখোঁজ পিতার চোখ
মুখের আদল ভালোবাসা বারবার
ডাক দেয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
আমি কোথাও পারিনি যেতে-’
(কোথাও পারিনি যেতে)
দেশ ছেড়ে তাকে যেতে হয়নি কোথাও। বাংলাদেশের হৃদপি- আঁকড়ে ধরে তিনি বেঁচেছিলেন বেঁচে আছেন আজও এবং সেই উচ্চারণ শাণিত করে যাচ্ছেন বারবার যা তিনি করেছিলেন একাত্তরে-
‘কোথাও পারিনি যেতে কোনোদিন যাবো না কোথাও
আমার অস্তিত্ব জুড়ে ধ্বনিময়
রক্তাপ্লুত বাংলাদেশ তাকে ফেলে যাবো না কোথাও-’
(কোথাও পারিনি যেতে)
ফজল শাহাবুদ্দীনের আর একটি কালজয়ী কবিতা- ‘বাংলাদেশ, একাত্তরে’। কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন ১০ মার্চ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন আগে রচিত কবিতাটিতে পশ্চিমা শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সর্বাত্মক প্রতিরোধের পাশাপাশি স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাও ধ্বনিত হয়েছে সুস্পষ্টভাবে। কবিতাটি প্রকাশিত হয় ‘চিত্রিতা’ পত্রিকায়। কবি নিজেই ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের রঙিন ছবি নিয়ে প্রকাশিত ‘চিত্রিতা’র ঐ সংখ্যাটি তৎকালীন পাক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন কবি। স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই লিখিত ও প্রকাশিত কবিতাটি বিভিন্ন কারণে উল্লেখের দাবিদার, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- এক. এতে একজন কবি পাক শাসনের তীব্র মুহূর্তে কার্ফু এবং বুলেটের বিরুদ্ধে কলম শাণিত করেন, দুই. এ কবিতাতেই প্রথম কবিতার ভাষায় ধ্বনিত হয় স্বাধীনতার দৃপ্ত শপথের কথা, তিন. কবিতাটি প্রকাশের পরপরই তা সামরিক জান্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ক্রোধের কারণ হয়, এবং চার. প্রচ্ছদ প্রতিবেদন এবং তার সাথে এই কবিতাটি প্রকাশের জন্য পত্রিকার ঐ সংখ্যাটি বাজেয়াপ্ত হয়। স্বাধীনতার শব্দ সৈনিক ফজল শাহাবুদ্দীনের কৃতিত্ব এই যে, তিনি কবিতাটিতে সেদিন যে আকাক্সক্ষার চিত্র তুলে ধরেছিলেন সে আকাক্সক্ষা ছিল সাত কোটি মানুষের, ছিল সমগ্র বাংলাদেশের। ফজল শাহাবুদ্দীনের ‘পাশাপাশি’ কবিতাটিও উল্লেখের দাবি রাখে-
‘বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম
বাংলাদেশ শহীদ হলো রক্তে লাল লও সালাম
বাংলাদেশ বুলেট নিয়ে হুমড়ি খায় দীপ্ত হয়
বাংলাদেশ কার্ফুঘেরা লক্ষকোটি কণ্ঠময়
বাংলাদেশ রক্তভেজা মৌন এক অন্ধকার
বাংলাদেশ শপথ নেয় তীব্র এক স্বাধীনতার
বাংলাদেশ বিশাল এক অগ্নিব্যুহ প্রজ্বলিত
বাংলাদেশে মিছিল কাঁপা শ্লোগান দেয়া আন্দোলিত
বাংলাদেশ আগুন লাগা শহর আর লক্ষ গ্রাম
বাংলাদেশ দুর্গময় ক্রুব্ধ এক ভিয়েতনাম।’
একাত্তরের একজন কবি অসহায় কবি শব্দবাণের চেয়ে আর বেশি কি ছুড়তে পারেন? ফজল শাহাবুদ্দীনও পারেননি। তিনি কবিতা রচনা করেছেন একটি নয় দুটি নয় অসংখ্য। তার কাব্যবাণে পাকসরকারের ভিত কেঁপে না উঠলেও বাংলাদেশের হৃদয়ে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল বাংলার সচেতন জনতার মনে যে শত্রুহননের তীব্র আকাক্সক্ষার জন্ম হয়েছিল তা ফেলে দেবার নয়।
‘নদীর ওপারে ঢেউ নেই শান্ত বিশাল বিকেল
যাচ্ছে ভেসে ছিন্নভিন্ন মৃতদেহগুলি
আর কতোকাল আর কতোদূরে স্বাধীনতা তুমি
অস্ত্র দাও অস্ত্র চায় মৃতের অংগুলি-’
(অস্ত্র চায়)
মৃতের অংগুলি দিয়ে অস্ত্র চালনার স্বপ্ন যিনি দেখেন তিনি খুব সাধারণ কেউ হতে পারেন না, তার স্বপ্ন তার ইচ্ছা তার প্রচেষ্টা পরাক্রমশালীকেও পরাভূত করতে পারে। কবি ফজল শাহাবুদ্দীন এবং তার স্বপ্নের দেশ বাংলাদেশ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।
একাত্তরে যে বাংলাদেশকে দেখতে চেয়েছিলেন কবি তার তীব্র আকাক্সক্ষায় মধ্যদিয়ে জন্মলাভকারী দেশটি কি তার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে?
কবির ভাষায়-
‘আমি ভেবেছিলাম জন্ম নেবে
আমার দেশ, আমাদের দেশ
একাত্তরে একটি দেশকে দেখেছিলাম
আমার রক্তের ভিতর
গভীর অন্ধকারের ভিতরে
হাজার হাজার বুনোপাখি উড়ে গেলে
যে শব্দ যে ধ্বনি যে আন্দোলিত চাঞ্চল্য
জন্ম নেবে ধরিত্রী জুড়ে আকাশের ওপারে
অন্তরীক্ষের পবিত্র মহাশূন্যতায়-’
কবির সে আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। স্বপ্নের সে সোনালী দেশ সমৃদ্ধ দেশ শান্তির ভূমি- থেকে গেছে স্বপ্নেই। তাই কবির আর্তি ধ্বনিত হয় এভাবে-
‘আর কতোকাল আকাশের ওপার থেকে
চিৎকার করতে থাকবে
এই দেশ
আর কতোকাল মন্থিত হবে এই দেশ আমার রক্তে
আমার স্বপ্নাপ্লুত ক্ষতবিক্ষত নিসর্গে-’
(একটি দেশকে, একাত্তরে)
একজন কবি কোন একটি বিশেষকালের মধ্যে আবদ্ধ নন। তিনি ক্রমাগত অগ্রসরমান। এককাল থেকে অন্যকালে একসময় অন্য সময়ে। বহুকালজ্ঞ কবি তাই অতীত থেকে বীজ নিয়ে বর্তমান সাজান আর বর্তমানের ফসল নিয়ে আগামী। ফজল শাহাবুদ্দীন এ এমনই এক সম্পন্ন কবি। একাত্তরের লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় দুঃখে ভারাক্রান্ত এ কবি আজও ক্রমাগত আগামীকালের দিকে ধাবমান। জাতীয় জীবনের নানা অসঙ্গতি সংশয় দ্বন্দ্ব বিবাদ তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে প্রতিনিয়ত। সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যের ক্রমবৃদ্ধিতে শংকিত কবি ব্যস্ত তার আগামীকালকে নিয়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মহননের পথ থেকে ফিরতে তার কি নিঃসীম ব্যাকুলতা-
‘আত্মহননের পথে আজ যাচ্ছে কেন আমার সন্তান
একদিন যে তরুণ গেয়েছিলো স্বদেশের গান
ঢেলেছিলো তাজা রক্ত রাজপথে ঘাসে আর প্রান্তরের ফুলে
আর কার ভুলে
সেই ছেলে অন্ধ এক নির্মম অস্ত্রের কাছে
বিবেকহীন অস্ত্র যেন অসহায় জিম্মি হয়ে আছে
কে দেবে উত্তর তার
নিজেরি হৃদয় কেন প্রতিদিন করে সে সংহার?’
(আত্মহননের পথে)
একাত্তরে পশ্চিমাদের নিষ্ঠুর পীড়নে যে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত এবং প্রতিবাদী, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভেদ আর অনৈক্যের বেড়াজালে আবদ্ধ সমাজে তারুণ্যের অপমৃত্যুতে সে দিশেহারা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তাই তার কলম আবারো সোচ্চার। কি ভাবছেন কবি, মুক্তিযুদ্ধের কবির দৃষ্টিতে একটি স্বপ্নময় স্নিগ্ধ আগামীকাল রচনার জন্য প্রয়োজন কি আরও একটি যুদ্ধের? এর উত্তর জানেন একমাত্র কবিই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ