ঢাকা, শুক্রবার 16 December 2016 ২ পৌষ ১৪২৩, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

অলৌকিক আয়না
কে জি মোস্তফা

স্বগত চর্চায় আমি বড় বেশি ডুবে থাকি
শামুকের মতো সর্বক্ষণ নিজের খোলসে
নিজেকে গুটিয়ে রাখি
পৃথিবীর আর সকলের মতো
নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি বলে
আমার অহংবোধ তীব্র
যদিও নিজের ঢাক নিজেই পেটাই।
আমাকে আত্মকেন্দ্রিক মনে হতে পারে কেননা
আমাকে ঘিরে আমার যত কাজ, চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা
তবু অনেক সময় নিজেকেই নিজে বুঝতে পারি না
যেন এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আমি ছায়াকেই ভালোবাসি
ছায়াকেই আলিঙ্গন করি।
আসলে আমি অদ্ভ’ত ও রহস্যময়
কাউকে সহজভাবে দেখতে পারি না
কখনও-সখনও নিজেকেই ভয় পাই নিজে
চারদিক থেকে নানা স্রোতের টান-
সেই টানে আমি নাজেহাল
আমাকে লড়তে হয় বাস্তবের সঙ্গে
দাঁড়তে হয় সত্যের মুখোমুখি।
বিপর্যয়ের সম্মুখে বারবার আমি তাই
অলৌকিক আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই
দেখি স্মিতহাস্যে মহামতি চাণক্য আমার ডানে
বামে লাস্যময়ী রক্তিমবসনা এক গোলাপ সুন্দরী!


তোমার নাম
আবদুল হালীম খাঁ

ভেবেছিলাম এবার
খুব সুন্দর নিজস্ব একটি ইমারত গড়ে
তার ভেতরে লিখবো শুধু আমারই নাম।
অনেক সাধনায় গড়লাম সেই ইমারত
মন্দও হলো না।
ভেতরে আমার নামটি লিখতে গিয়ে দেখি
এ কী!
সবখানে লেখা রয়েছে তোমার নাম
প্রতিটি ইটে প্রতিটি বালুকার কণায় কণায়
লেখা শুধু তোমার নাম।

আমার নাম লেখার কোনো জায়গা
কোথাও খালি নেই আর।


প্রিয় দেশ
ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

সবুজ ও শ্যামলে সুশোভিত
আমাদের প্রিয় দেশ,
ফুলে ফসলে সারা মাঠ ভরা
মনোহর কী আবেশ !
পাহাড় ও ঝর্না বিপুল বর্ণা
উছলে হরষে কুন্তল স্বর্ণা,
গাঢ় নীলাকাশ শীতল বাতাস
নদী বয় অনিমেষ।
শোণিতস্রোতে ভরেছে সাগর
সম্ভ্রম গেছে মাতা-ভগ্নির,
মুকাবিলা করে শত্রুসেনার
লঙ্ঘি বিনাশি শিখা অগ্নির;
প্রিয় এ স্বদেশ হৃদয়ের ধন
যুঝেছি কতোই জীবনপণ
বাংলার বুকে শত হানাদার
চিরতরে নিঃশেষ।


ঘুমাও সখি
মাহমুদূল হাসান নিজামী

কেশরগুলো এলিয়ে দিলাম
কোমল মুঠোয় ভরে
চিবুকখানি বিলিয়ে দিলাম
বুকের অতল ঘরে
রাত হলো ঢের ঘুমাও সখি
ঘুমের নেশায় বন্ধ আখি
মধুরাতের স্বপন সোহাগ
তিমির ঘন সব অনুরাগ
ভিজিয়ে দেয়া প্রণয় জলে
নগ্ন কায়ায় সুখের নীলে


সে আসে ধীর পায়ে
দেলোয়ার হোসেন 
   
সে আসে ধীর পায়ে ; শুভ্র বসন
কুয়াশার মতো ভেসে চুপিসারে আমার আঙিনায়।
আমি এক ফালগুনে অন্য মনে গিয়ে
দাঁড়ালাম বনে-বৃদ্ধ হলুদ পাতারা ঝরছে
একে একে আগে- পিছে, মর্মর সুর বাজে কানে
সবুজ পাতারা হাসছে অনেকটা জায়গা পেয়ে-
আমি দাঁড়িয়ে অদূরে বললাম, যাও ঝরে যাও
আমিও আসছি কদিন পর। মাটিতে শুয়ে সবাই
মিশে যাবো মাটির শরীরে- যেখানে মিশে আছে
আমাদের পূর্ব সূরীরা। অবুঝ সবুজ কঁচি পাতারা
দখিনার ছোঁয়ায় নাচছে, ওরাও ঝরে যাবে একদিন।

মহাকালের বাঁশি বেজে যাবে অনন্তকাল
একদিন সূর্য পরম আাদরে টেনে নেবে কাছে
আমাদের পৃথিবী। চোখের পলকে
পুড়ে হবে ছাই যা কিছু দৃশ্যমান-আমাদের
ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা সব। তারপর
হাওয়ার পাখিরা রাত্রি বিহীন এক উজ্জল
আলো-ছায়ায় কাটাবে সময় কাব্য লেখে, গান গেয়ে
বিধাতার নাম- স্নিগ্ধ শান্ত বনের শীতল ছায়ায়।


ক্ষেপে ওঠে লোকালয়
মুহাম্মদ রেজাউল করিম

যে চোখ ছিল দুরন্ত ঝড়ের মতো
ভাঙতো লাল গোলাপ বাগান
সেই চোখ এখন লাগামওয়ালা ঘোড়ার মতো
স্থিরবদ্ধ আমার বুরে ওপর।

তবু কেন কাঁপে অবিরাম অসংখ্য বুক
কেন ছুটে আসে অলীক সংলাপ
কেন ওড়ে ওড়ে আসে রক্তের গন্ধ
আমি পাল্টিয়েছি ক্ষিপ্র দুপুরে আমার চোখের নীল রঙ
তাই বুঝি ক্ষেপে ওঠে লোকালয়, শহর, বন্দর।


আমরা এখন
মালা মাহমুদ

আমরা এখন ভালোর দিকে রওনা দিয়েছি
কেউ সাহায্য করবে কি
কেউ কি বাতলে দেবে
কতদূর গেলে পাবো স্বচ্ছ সবুজ
কতদূর গেলে পাবো প্রগাঢ় নীল
শাদা ও হিমেল শান্ত বিথারতা

এখানে কেবল দিনামুদিন
হচ্ছে উত্তপ্ত পথঘাট মানুষ মন্দ্র
পথ ঘাট খাল বিল দিগন্ত
কোন দিন নেই শান্ত
যেন আগুন আর আগুন
কেবল জ্বলন পীড়ন
রাত দিন মানুষ মারণ

আমার এখন শান্তির দিকে রওনা দিয়েছি
কেউ সাহায্য করবে কি
কেউ কি বাতলে দেবে
কতদূর গেলে পাবো স্থবিরতা
কতদূর গেলে পাবো সহমর্মিতা
বাঁশ ফুলের মত নরম ব্যবহার
কতদূর গেলে সত্যিই পাবো
মানুষের গ্রামাঞ্চল।


ঘুম ভাঙেনি আজও
এ কে আজাদ

সবুজ মাঠের ওপারে দিগন্ত বিস্তৃত ডুবু ডুবু রক্তিম সূর্য,
আবছা অন্ধকার! আহা! কে বলবে সবুজের মাঝে
গাঢ় লাল বৃত্ত! - আমার ইতিহাস, রক্তক্ষরণ, আহতের দগদগে ক্ষত,
 হত্যাকারীর নগ্ন পদচিহ্ন, লাশের পঁচা গন্ধ, বিদ্রোহীর বারুদের ঘ্রাণ!
একটা পাখি উড়ে যায়, সাদা পালকে লেগে আছে আবীরের দাগ,
বিবস্ত্র অন্ধকার জড়িয়ে ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে!
  চোখের সামনেই মুছে যাচ্ছে জীবন-প্রচ্ছদের রঙ!
কাদের যেন চিৎকারে চোখের পাতায় উথলে ওঠে সাগরের জল-
বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ! শ্বাপদের হুঙ্কার!
আবার বুলেট, বেয়োনেট, খটখট বুটের আওয়াজ!
চোখের সামনে উন্মুক্ত রঙিন ক্যাপশন- গুলিবিদ্ধ লাশ!
কে যেন বলছে - এবার খুলে গেল তোমার মুখোশ!
সকালের আলো ফোটার পূর্বেই পালাও!
কি বল হে! পালাব কোথায়? অন্ধকারের বিষাক্ত নিঃশ্বাস!
এক নিমিষেই গুষ্টিসুদ্ধ ছাপ!
সূর্যের নাম আতঙ্ক! বাপ রে বাপ!
অবশ হয়ে আসে পুরো শরীর!
রুটির ভাঁজে ভাঁজে হারিয়ে যায় ক্ষুধা তৃষ্ণা!
পাতালের অন্ধকার আজ আকাশ ছুঁয়েছে!
লাল রক্ত হারিয়েছে হিমোগ্লোবিন।
বিষে বিষে আজ হয়েছে নীল।
শিরায় উপশিরায় তৃষ্ণা, হাহাকার- এক ফোঁটা জল দাও,
এক ফোটা স্বাধীনতা দাও,
এক ফোঁটা স্বাধীনতা দাও।
আগাছার উদোম শরীরে ঢেকে গেছে ধানের ক্ষেত!
পাখির পালকে শ্যাওলা! মাছের শরীরে ফরমালিন!
কবির ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে যায় পঙ্গু শব্দেরা।
কোলে নিয়ে দেখি- সার্কাসের চল্লিশোর্ধ বন-মানুষের
ঘুম ভাঙেনি আজও।


রঙহীন-ভালোবাসাহীন
আশরাফ উদ্দীন আহ্মদ

গাঢ় সেই অন্ধকার জালের মতো বিছিয়ে আছে,
আর খাঁচার ওই পাখি ছটফটিয়ে মরে,
কখন সে মুক্তির গান গাইবে, দিগন্তে ধূ-ধূ বালুকা রাশি,
কোথায় যাবে নষ্ট প্রেম নিয়ে,
বাতাবিলেবু গাছে কয়েকটি চড়ুইপাখি ভারি কিচিরমিচির জুড়ে দিয়েছে,
দেশত্যাগি মানুষ ফড়িং যেন,
শুধুই কাঁদতে জানে হরিণী যেমন শাবক হারিয়ে অসীম কষ্টে কাতরায়,
কে দেবে তার শিশুকে ফিরিয়ে গোধূলির মতো ভর সন্ধ্যোয়,
হায় প্রকৃতি এতো নির্মম কেনো,
নদীর কাছে বারংবার সেই প্রশ্ন করে অরণ্যের কাঠুরিয়া,
রৌদ্রের ভেতর শান্ত একটা নদী এঁকেবেঁকে চলে যায় রেলগাড়ি যেন,
বিকেল ফুরিয়ে যায় বিকেলের মতো,
তারপর নদী আর আকাশ মেশে গভীর মমতায়,
কে যেন পড়িয়ে দেয় সোনার নোলক আকাশের নাকে,
তারপর রাত্রি নামে, সেই পুরানো রাত্রি,
হাজার বছর ধরে যে রাত্রি এসেছে পৃথিবীতে রঙহীন-ভালোবাসাহীন...।


প্রখর রৌদ্র চাই
হাসান আলীম

এবার বিজয়ে কালো পীচঢালা
রাস্তায় বরফ পড়েছে।
পাহাড়ের চূড়া থেকে সমতল ভুমিতে হিমেল
হাওয়ার উল্লাস,
রক্তকণিকায় স্রোতবাহী নদী
কঠিন শিলার পাটাতন নির্মাণ করেছে।

বিজয়ের উত্তাপে বরফ;
এইমধ্য ডিসেম্বরে মার্চের প্রখর রোদ্র চাই।


মানুষতো মানুষ হয় স্বাধীনতায়
জয়নুল আবেদীন আজাদ

মানুষতো মানুষ হয় শুভ্র স্বাধীনতায়
স্বাধীনতা আবার বিবর্ণ হয়ে যায়
স্বপ্ন বুনতে না পারার যন্ত্রণায়।

মানুষতো মানুষ হয় শুভ্র স্বাধীনতায়
স্বাধীনতা কখনো জীর্ণ হয়
অবজ্ঞা উৎপীড়ন ও বঞ্চনায়।

মানুষতো মানুষ হয় শুভ্র স্বাধীনতায়
সেই স্বাধীনতাই হয় ক্ষতবিক্ষত
ভ্রষ্টাচারমত্ত নেতাদের নিষ্ঠুরতায়।

মানুষতো মানুষ হয় শুভ্র স্বাধীনতায়
সেই স্বাধীনতা আবার লুপ্ত হয়ে যায়
শির উঁচু করে দাঁড়াবার অক্ষমতায়।


সিক্ত ও পবিত্র স্মৃতি একাত্তর তুমি
হাসান হাফিজ

রক্তের শপথদীপ্ত কঠিন সময় তুমি ছিলে একাত্তর।
                নির্ঘুম কেটেছে রাত, ত্রাহিদিন শঙ্কাতুর, আঁধারে প্রলয়ে
ক্রোধের আগুনে আর বারুদের ঝাঁঝে ছিল উত্তাল জীবন
শ্যামল প্রকৃতি রুদ্র তেজে তাপে সহায়ক ছিল সেই গেরিলাযুদ্ধের
   মাতৃভূমি শত্রুর নখর থেকে বাঁচানোর ধনুর্ভঙ্গ পণে
                              লাখো মানুষের হাতে ঝলসে উঠেছিল
 মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, নদী ও গোপাট মানুষের তাজা রক্তে
                                            সিক্ত ও পবিত্র ধন্য হতে পেরেছিল
এমন সময় আর কখনো আসেনি
এমন গৌরবদিন বিজয়ে আনন্দে ও অভিষেকে
একইসঙ্গে ছিল দুঃখী বেদনাবিধুর, সেই ব্যাপ্তি রক্তঋণ
ফুটে আছে সগর্বে উড্ডীন এই পতাকায় লালে ও  সবুজে।


১৯৭১
নয়ন আহমেদ

আগুন বসে আছে মোড়া পেতে;
একহাজার অক্ষিপুঞ্জ তার।
বাতাস ছড়িয়ে দিয়েছে বিবর্তন-প্রয়াসী গুনগুন।
আজ আগুন ও বাতাসের বিবাহবার্ষিকী।

আগুন পরেছে তীব্র সূর্যশার্ট,বাতাস সবুজ শাড়ি।
পৃথিবীর ধানখেত এই রঙে আপাদমস্তক ঢেকে আছে।
রোদ আরো উজ্জ্বল হয়েছে নিবিষ্ট লিপস্টিক মেখে।
ঘাসেরা করছে আজানুলম্বিত লাল কানাকানি।

বিপ্লবী আগুন ও বাতাস মিশে গেলো একটা উড্ডীন পতাকার
গভীর কামরায়;
জন্ম নিলো বজ্রচেরা ভালোবাসা:
১৯৭১

আমি তাকে ৪৫টি গোলাপ উপহার দিয়েছি।


সকাল এসেছে
মাহফুজুর রহমান আখন্দ

সকাল এসেছে ভোরে
পোয়াতি মেঘেরা হলো উম্মুখ প্রসব বেদনা নিয়ে
সোনার পাখিরা দিবসের চাঁদ খিল এটেঁ দেয় দোরে
বাতাসের কানে সুরেলা বেতার হেসে যায় দোল দিয়ে

ভাঙতে হবে যে ঘুম
রাতের কপালে সোনালী সুরুজ এঁকে যায় শাদা চুম
নইলে মেঘেরা ফিরে যাবে ব্যথা নিয়ে
হতাশার কোলে কান্নাকে ঠেলে দিয়ে

অবুঝ পাপিয়া চোখের আড়ালে কাঁদে
রাতেরা এখনো আড়ালেই চুল বাঁধে
ফুলসজ্জায় বন্ধ রয়েছে আঁখি
ডেকে ডেকে যায় রাত জাগা শত পাখি

ফুলের পাঁপড়ি খুলে দেয় ঝরা পাতা
জীবনের হালখাতা
শেকড়ের সুর বেহালায় দেয় হাত
কপালের দোষী, ফুরাবে না বুঝি আয়েশী নিরালা রাত

সময় হয়েছে, ভেঙে ফেলো আড়মোড়া
চোখ খুলে দেখো দাঁড়ায়ে রয়েছে বখতিয়ারের ঘোড়া
একটু সামনে দেখো
তিতুমীর ডাকে বন্ধুয়া ওগো জীবনের ছড়া লেখো

ফসলের মাঠে পোকাদের আজ দিলখোলা উল্ল¬াস
গ্রন্থের ভাঁজে উঁইরা ঢুকেছে পথে ঘাটে পঁচা লাশ
বিলগুলো আজ মরা ছবি যেন মাছেরাও ভয়ে কাঁপে
মাটিদের বুক হলো চৌচির চালাকি রোদেলা তাপে 

আকাশে যদিও দাঁড়ায়ে পোয়াতি মেঘ
তাইতো ভেবেছি, কুয়াশা পালাবে কেটে যাবে উদ্বেগ   

এখনো ছাড়েনি গাড়ি
সময়ের ডাকে হুইসেল আর সবুজ নিশানা হাতে
মুক্তির চাবি টেনে ধরে আছে মানুষের উৎপাতে
ইচ্ছের বাতি খুঁজে ফেরে আজো, ঝকঝকে ঘরবাড়ি
সময় হয়েছে, ছেড়ে চলে যাবে গাড়ি

ফিরে দিওনাকো গাড়ি
অলস হয়ো না, সুখের বাসরে শান্তিতে দেব পাড়ি
ইয়াকুত মাখা ঝকঝকে ঘরবাড়ি।


নিহত সুন্দরের জন্য
রওশন মতিন

পৃথিবী কি অসুন্দর হয়ে যাচ্ছে
বিপন্নতায় হারিয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের সব স্বচ্ছতা,
ড্রয়িংরুম বিলাসিতায় পৃথিবীর কিচেন রুমে বসে
জিভের নৃত্যকলায় খেয়ে যাচ্ছি অবলীলায়
মানচিত্রের প্রতিকৃতি,
ছিঁড়ে খাচ্ছি নিজের হৃৎপিণ্ড ও মগজ,
সমতল,সমুদ্র থেকে সবুজ বনভূমি
আধুনিক দানবেরা গিলে খাবে সব সুন্দরের  আবাস।
 

তুমি যদি চাও
মালেক মল্লিক

এই বুকে মুখ গুঁজে অনুভব কর
এখানে পাবে আতর-লোবান সুঘ্রাণ
অথবা মাংস পঁচা গন্ধ।
পাবে কষ্টের পাহাড়, আগুনের বৃষ্টি,
জলপ্রপাতের শব্দ, ডাহুকের গান,
পাখিদের আওয়াজ-
ডেফলের বন, বেথুলের গাছ
ভুঁইকুমড়োর ঔষধি...........!
পাবে যন্ত্রণা একরাশ
ঠিক যেন বালিকা কিশোরী
হওয়ার যন্ত্রণার মতো !

পাবে স্বপ্ন দাক্ষিণ্য, হাত বাড়ালেই আকাশ
পাবে শান বাঁধানো ঘাট
মধ্যদুপুর, বালুচর, দুরন্ত গাঙচিল।
পাবে এক নতুন পরিচয়...
সন্তান যেমন জন্ম দেয় মায়ের
তুমি যদি চাও .......!


জীবন আর রাজনীতি
মোহাম্মদ ইসমাইল

চিত্রনাট্যের মতো অবাক হওয়া রাজনীতি নামের এক মরুউদ্যানে
মানুষ হয়ে রচি’ না অমানুষ রুপে আছি বাঁচি; কে তা জানে?
ক্ষুৎ-পিপাসু কোন রক্তলিপ্সু ড্রাগনের মতো হয়তো বা আমরা মানুষেরা নই;
তবুও ‘মানুষ’ নামক মানুষের এক ভয়ংকরী থ্রিলারের ছবি
নিয়ে চারিদিকে বুঝি ঃ শুধু হই হই-রই রই,
স্বপ্নের রঙ্গে উড্ডীন না হলে বিস্ময় লাগা এ পৃথিবী নামক ভূগোলে
মানুষ হয়ে ‘তুমি’ কিভাবে বুঝবে বল, ঐ-জীবন আর রাজনীতি কাকে বলে?


দিবসের কান্না
ফজলে রাব্বী দ্বীন

কলমীর বুকে প্রেম আছে কত জমা?
ঐ কূলে সাঁতরে নিয়তিরে দমা
দিবসের কান্নায় ঝরে পড়া মুকুল
শুনশান বায়বীয় নরকের কি তুল্?
কেন্ তবে ক্ষমা চাও বিষাদীয় বর্ণে?
পাল ছিঁড়ে মালা গাথ সরিষার কর্ণে
বকফুলে হাসাহাসি তৃপ্তিতে ক’জনা?
অচিনের বাঁশক্ষেতে ফাল কেন দেও মনা?
সবুজের সাথি যেন পথ ভুলে হাঁটে
ধনুকের মালা গাঁথা শূলে বুক ফাটে
পরাগের মুণ্ডুতে বাজে বাঁশি হায়!
কল্পনা দোয়ারে এসে কে দাঁড়ায়?
আমি গো আমি আসি তোমারও নয়নে
বারিধারা হয়ে ঝরি পবনেরও চয়নে।


নদীর নাম ময়ূর
আবদুল হাই শিকদার


ময়ূরের মতো সাত রঙে তুমি আঁকা,
জলের হৃদয় সাত রকমের বাঁকা।

বাঁশি হাতে নিয়ে মাঝ রাতে কাড়ো ঘুম,
ময়ূরের ডাকে ভাঙে নীল নিঝঝুম।

ময়ূরের জলে চোখের পাপড়ি দেখি,
ময়ূরের টানে প্রণয়ের বাণী লেখি।

ময়ূরের তীরে নারীরা লাইলী রাধা,
এ জীবন তাই ময়ূরের ঘাটে বাঁধা।


মহুয়ানামা-১
আজাদ মিল্টন

তুমি চলে গেছ, রয়ে গেছে তোমার সুঘ্রাণ সারা ঘরে,
আমি সেই ঘ্রাণের উপর নাক রেখে বুজে আছি চোখ;
সে-ঘ্রাণের তীব্র উপ¯ি’তি টের পাই প্রাণের ভিতরে,
মনে হয় তুমিই, মহুয়া, কাহ্নপার ভূলোক-দ্যুলোক।

তুমি এসেছিলে মরচে পড়া স্মৃতির করাতে দিতে ধার,
হয়ে উঠলো ঝকঝকে ফের শান দেয়া করাতের দাঁত;
তারপর আলেয়ার মতো মিশে গেলে আঁধারে আবার,
হয়ে উঠলো দুঃসহ ফের কাহ্নপার দিবস ও রাত।

ফিরে এসো, মহুয়া আমার; নগরের নষ্ট-নীড় ফেলে
গড়বো বসতি ফের আমি কপোতাক্ষ অববাহিকায়;
ফের তুমি কপোতাক্ষ-পাড়ে বৃক্ষ হয়ে পুষ্প দিও ঢেলে,
বসন্ত সাজিয়ে বারো মাস ভরে দিও প্রাণ মুগ্ধতায়।

কোন্খানে যাবে তুমি, জান? জান থাকে আত্মার ভিতরে;
তুমি চলে গেছ, রয়ে গেছে তোমার সুঘ্রাণ সারা ঘরে।


এসেছে বিজয়
আকিব শিকদার

পরাজয় উড়ে গেছে-
হালকা হাওয়ায় শুকনো হলুদ পাতার মতো।
হঠাৎ দমকা ঝড়ে বাবুই পাখির নীড়ের মতো
কায়ক্লেশে উড়ে গেছে পরাজয়-
সোনালি চিলের পরিত্যক্ত পালক যেমন।
নাটাইয়ের টানে ফেরা ঘুড়ির মতো
সমুদ্রের তীরে ফেরা তরীর মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।

পরাজয় ফিরে গেছে-
ক্ষীণপদে পুকুর পাড়ের শামুকগুলোর মতো।
এক লাফে দেয়াল পেরিয়ে ধূর্ত শিয়ালের মতো
সন্তর্পণে ফিরে গেছে পরাজয়-
নাকে গন্ধ শুঁকে অভিষ্ট লক্ষ্যে কুকুরেরা যেমন।
বছরান্তে কাননে বাসন্তি ফুলের মতো
অমবস্যান্তে শুক্লাদ্বাদশি চাঁদের মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।

পরাজয় মরে গেছে-
ভুল করে এক ফোটা হন্তারক বিষ পানের মতো।
গুলি খাওয়া পাখি, ডাঙায় তোলা মাছের মতো
কালগ্রাসে মরে গেছে পরাজয়-
গৃহিণীর চুলে সুগন্ধী তেলের গন্ধ যেমন।
মৃত্যুঞ্জয়ী চিরসঞ্জিবনী লতার মতো
পুনর্জন্মা প্রভাতের রাঙা সূর্যের মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।


গন্ধের চিহ্ন
রানা হোসেন

এখানে ছিলো সবুজে ঘেরা মাঠ,
ঘাশ ফুল রঙিল প্রজাপতি
আজ পোড়া গন্ধের চিহ্ন!
ছাই হয়ে দক্ষিণা বাতাস উড়ে যায়....
যাওয়ার বেলা চমকে পিছু ফেলে
ভেঙে যায় সাধের অতীত কোন স্বপ্ন
খ- খ- হয়ে যায় বসত ঘর
বাতাসে বয়ে যায় কারো চোখের নোনা জল

আকাশ বাতাস  মাতাল করে
                  আস্তে আস্তে
            ভেঙে যায়
নীরবে ঝড়ে যায় একটি গোলাপের পাপড়ী!
অনাস একমুঠো জল রেখা নিয়ে
আঙ্গুল তুলে কেউ দেখিয়ে গেলো
মানুষের ভেতর ঢুকেছে, নিষিদ্ধ বাতাস ...
চারপাশে এখন শুধু প্রতিবাদ।

চারপাশ এখন গুলি আর গুলি
এখানে সেখানে গন্ধের চিহ্ন।


সময়ের কাছে ছুটি চেয়ে
হাসান নাজমুল

সময়ের কাছে ছুটি চেয়ে বললাম-
আমাকে একটি দিন ধার দাও
আমি চিকচিক করা সাদা বালি-
দেখে দেখে দু’চোখ জুড়াবো,
আমি কাশফুলের নিকটে গিয়ে
তার শরীরের’পরে দুহাত বুলাবো,
আমি সকালের নিবিড় কুয়াশা-
দেখে দেখে হৃদয় জুড়াবো,
আমি বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে
বিনয়ের সুরে সুরে কথা কবো,
আমাকে একটি দিন ধার দাও
আমি দিনান্তে পাখির নীড়ে ফেরা-
দেখে দেখে স্বল্প সুশৃঙ্খল হবো,
আমি শুকিয়ে যাওয়া যমুনা নদীর-
নরম মাটির বুকে হেঁটে যাবো,
আমি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখে দেখে
এক বিষাক্ত জীবন থেকে মুক্ত হবো,
হে সময় আমার আত্মার আর্তি শুনে
আমাকে একটি দিন ধার দাও।


এক্সারসাইজ
নাগর হান্নান

ঝুলন্ত বাাদর অলিম্পিক গেইম খেলে মগঢালে ঝুলে
আজকাল মানুষ দারুণ শিখেছে
জিমে যাওয়ার মর্ম
কাওরান বাজারের একজন কুলি
মেমসাহেবের মাঝে বাদরের কলাকৌশল দেখে
মুখ টিপে টিপে হাসে।


প্রকাশ্য গোপন
তাসনীম মোহাম্মাদ

সুনসান শীতের সকাল
শিশিরের আলিঙ্গনে
সতেজ-সুন্দর-পরিপাটি
ভোরের সবুজ।
ভাঁড়ানো কুয়াশা ভেদ করে
চকচকে সূর্যালো
উঁকি মারে পৃথিবীর গায়।

ঘুমের আড়মোড়া ভেঙ্গে
ভাতশালিক,
ডানার গন্ধ ঝাড়ে ধানের ক্ষেতে...।
স্বাধের রসে
ঠোঁট ছোঁয়ায় উন্নতজন।
মনে হয়;
অনেক অনেক দিন পরে’
জোয়ার ঢুকেছে জীবনের
এঁদো ডোবায়!

খড়-কুটো উঠে গ্যাছে
কৃষকের পালায়
গোলায় গোলায় মাহাজনের
নবান্ন উৎসব
সকালকে করেছে যেন
আয়োজনে উল্লাস।

অথচ; তখোনো কেউ কেউ
প্রকাশ্য গোপনে
কাপড়ের সামান্য আবরণে
ঠাণ্ডায় কাঁপে; শীতে মরে
শরীরের তাপে দাঁতে দাঁত ঘষে।


প্রেরণা
শাহিন ইসলাম

আশা কেনো ঢেকে দিলে হতাশার চাদরে?
কেনো তুমি শোকাহত বিরহের আদরে?
ভারমনে কেনো তুমি পথ সরে গিয়েছো?
হালছেড়ে কেনো শেষে পরাজয় নিয়েছো?
কেনো তুমি ভুলে গেলে পুরোনো সে ইতিহাস?
জেগে ওঠো দূর করো ঘনকালো নীতিরাশ।
নবীনের পানে দেখো বিজয়ের বাজে গান,
মুখে বুলি বুকে বল চলে যায় যাবে প্রাণ।
দিনদিন রক্ততে সত্যরা ভাসছে,
ভয় নেই এর মাঝে জয়মালা হাসছে।
গাও মাঝি 'রব' নামে দৃঢ়হাতে ধরো হাল,
জয় হবে মহাঝড় ছিঁড়বে না তবু পাল।


নবজাতকের প্রতি
সাইফ আলি

জন্মের পর যে শিশু কেঁদে ওঠে চিরচেনা সুরে
কোমল আশ্রয়ে থেকে জীবনের প্রথম প্রভাতে,
কি দেবে সভ্যতা তুমি উপহার আজ তার হাতে
একবার ভেবে দেখ কি তুমি এনেছো ঘুরে ঘুরে।

জীবনের শুরুতেই যেই শিশু আধো আধো বোলে
জানতে চায় মানুষ আর পৃথিবীর ইতিহাস;
তার জন্য হিরোশিমা আর নাগাসাকির তপ্ত বাতাস
নিয়ে আসবে হয়তো। যে শিশু আজ তোমার কোলে

ছায়া খুঁজে ফেরে তাকে ছায়ার বদলে অন্ধকার
তুলে দিয়ে বলো- নাও, আর কত ছায়া চাও তুমি?
আলো চাইলে আলট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে তোমার
দেখিয়ে দিও পৃথিবী। তাকে বলো, আজ তার ভূমি
রাসায়নিক ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আছে; আর
এক জোড়া পারমাণবিক বোমা দিও উপহার...


বাঁচা-মরা
আহমদ বাসির

বেদনা বিদ্ধ হয়ে আছে বুকের জমিনে
তাতেই সমৃদ্ধি স্বর্গ এনেছে অন্তর
তাতেই আকুল হলো আঙিনা ও ঘর
উৎসবে মেতেছে তারা রাতে আর দিনে।

আমার মরণ আমি করেছি বিদায়
বরং বরেছি বান বিষাক্ত ব্যথার
এবং ধরেছি গান এ তার সে তার
জীবন হে স্বাগতম, নিয়েছি এ দায়।

এবার আসুক সুখ শরাহত বুকে
দিগন্ত উঠুক হেসে সমুখের বাঁকে
পষ্ট হয়ে থাক সব আলোকের আঁকে
সে ঘটনা চারিদিকে দিক কেউ ফুঁকে।

ফয়সালা হয়ে থাক এবার তারই
বাঁচা মরা কতখানি মেনে নিতে পারি।


আমাকে বলতে দাও
তারিক হাসান

কবে মানুষ জল পাবে পাথর সেচে সেচে
তুমি আর অপেক্ষায় থেকো না স্টেশনে
চলে যাও, চলে যাও, যেখানে ইচ্ছে সেখানে
জঙ্গলে বৃক্ষ কর্তনের ধুম উৎসব
শরীরে জড়িয়ে রেখেছি কার্তিকের হিম-হিমেল অনুভব ।
মানুষ কি আর মানুষ আছে, বাঘের মুখোশ।
আমাকে বলতে দাও- সেই সব কষ্ট, কষ্টের দহন
আমাকে বলতে দাও- সেই সব বিষাদ, বিষাদের কথন।
বলতে দাও, বলতে দাও
কিভাবে নদীরা হারাচ্ছে দূরন্ত জীবন।
হায় ! কারা খেলছে জীবন নিয়ে- পাথর পাথর।
ভয়ংকর কালো কালো হাত
ভয়ংকর কালো কালো রাত
এত ক্লান্তি, এত বিষাদ?
এত কান্না?
ধবসে পড়ছে উঁচু উঁচু ভবন
কবে মানুষ উঠে দাঁড়াবে ধ্বংসস্তূপ থেকে?
কবে মানুষ জল পাবে পাথর সেচে সেচে।


ঘুমাও স্বদেশভূমি-দুধের শিশু
মোশাররফ হোসেন খান

ঘুমাও কাঁঠালচাঁপা কনকচাঁপা, ঘুমাও
ঘুমাও হাসনাহেনা জুঁই চামেলী, ঘুমাও
ঘুমাও দোয়েল ঘুঘু পিকপাপিয়া, ঘুমাও
ঘুমাও পদ্মপুকুর দীঘল-দিঘি, ঘুমাও
ঘুমাও বৃক্ষলতা পাখির বাসা, ঘুমাও
ঘুমাও রৌদ্রদুপুর শ্রান্ত বিকেল, ঘুমাও
ঘুমাও স্বপ্নচূড়া দামাল ঘোড়া, ঘুমাও
ঘুমাও স্বদেশভূমি-দুধের শিশু, ঘুমাও
ঘুমাও মনুষ্যজীব দ্রোহের দাহ , ঘুমাও

বর্গী-শিয়াল চতুর্দিকে দিচ্ছে হানা
দিক না তবু সেসব কথা বলতে মানা।


আহত আমি
মুহাম্মাদ ওবায়দুল্লাহ

পৃথিবীতে আমি এক আলাদা আদম কুলে
আমি গর্তে  পড়া কর্দমাক্ত দুর্বল  একান্ত
কিভাবে উঠে আসবো আমি আহত জ্ঞানে?
কি যে যন্ত্রণাময় জল্লাদীয় এ আবাসস্থল।
পর্যুদস্ত এ আবাসে বকুলকুঁড়ি
আমি আর কুলাতে পারছি না জুলুমের এ আবাসে
আমাকে ঘিরে আছেন মানুষ
মানুষকে ঘিরে আছে কালো কোর্তা পরা ফানুশ।
এ আবাসে মানুষেরা আবদ্ধ
ফানুশেরা দুর্দান্ত দাপুটে দুরাচার।
আমরা কি এ ফানুশদের শান্তি-সুখের আজান শুনাইনি?
বদ নছিবের কোন হাওয়ায় হারিয়ে গেলো
সুমধুর সেই আজান?
অকৃতজ্ঞরা দেখতে চাইনি আমার করুণ চোখের জল
কে জানবে কতো দামী এ জলধারা?
নিষ্পেষিত আমি যে জলের জোয়ারে ভেসে যাইনি
আমি নিঃশেষ নই আমি নিস্ফল নই
আমি দেখলাম এ আবাসে মনুষ্যত্ব কতো অসহায়।
আমি আমার সহনশীলতা হারাইনি
ব্যক্তিত্ব আমার কেনো বিসর্জন দেবো?
ছিলো না আমার কোন প্রশ্ন । অথচ-
ফানুশেরা ঘণ্টা বাজিয়ে আমাকে জানিয়ে দিলেন -
সুদীর্ঘ  সফরে পথিক তুমি
তোমার পথটা বড় নিঃসঙ্গ-বড় কণ্টকাকীর্ণ।
মানুষেরা এ আবাসে থাকবে
চির নিশ্চিন্ত চির উল্লাসিত।  


বন্দিপাখি
জাফর পাঠান

মুক্ত খাঁচায়- বন্দি পাখি- অনুচ্চ কণ্ঠস্বর
উপরে শকুন-নিচে শিয়াল- কাঁপে লস্কর,
লোকালয়ে চলমান লোক- শঙ্কার দোলক
অদৃশ্য ভয়ে ভীত ভূমিতল ভীত ভূলোক।
 
মুক্তিকামীরা চেয়েছিলো- স্বাধীন স্বপ্নস্বাদ
টুটাতে চেয়েছিলো পথে পাতা দুর্মদ ফাঁদ,
আঁকবে আলপনা- রাজমার্গে রাঙ্গা ললিত
ফুলেরা তুলবে হিন্দোল ঊর্মিল উদ্বেলিত।
 
পাখা থাকতেও উড়েনা- ব্যথাকাতর পাখি
ইচ্ছা থাকলেও দেখেনা-খুলেনা কভু আঁখি,
শিকারী সদা প্রস্তুত- বন্দুকে কার্তুজ ভরে
নীলিম ব্যদনায়- বিজয় চোখে অশ্রু ঝরে।
 
প্রাচীন সীমান্ত ভেঙে- নব স্বীমান্ত উদ্ধার
শোষকদের হটিয়ে- শোষিতেরা কর্ণধার,
ভূমি মুক্ত হলেও আসেনি মৌল স্বাধিকার
চলছে যুদ্ধ, এখনো যে অধরা অধিকার।


অপূর্ব বিজয়
রাসেল আহম্মেদ

শত্রু মোকাবিলা করতে গিয়ে
তোমার সংগ্রাম শুরু।
স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে
চমকিয়েছো বিশ্বের ভুরু।
সবুজের বুকে রক্তের আল্পনা আঁকা চিত্রে।
বাংলাদেশ ঠাঁই পেল বিশ্ব মানচিত্রে।
স্বাধীনতা তুমি মোরে দিয়েছো বীরের পরিচয়
তুমি মোরে দিয়েছো অপূর্ব বিজয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ