ঢাকা, শনিবার 17 December 2016 ৩ পৌষ ১৪২৩, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ ॥ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে পারসে পোনা ধরার হিড়িক

খুলনা অফস : নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলতি মওসুমে সুন্দরবনে নিষিদ্ধ পারসে পোনা ধরা হচ্ছে। সরকারিভাবে এসব পোনা ধরার পাস-পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকলেও এক শ্রেণীর অসাধু পোনা ব্যবসায়ী দেদারছে পোনা ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
খুলনার কয়রা উপজেলায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে পারসে পোনা আহরণের জন্য জেলেদের নিকট চড়া সুদে লাখ লাখ টাকা দাদন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে পোনা ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেনা কেউ। মহাজনরা অধিক লাভের আশায় জেলেদের দিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে নেট জাল ফেলে পারসের পোনা ধরা অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র জানায়, মহাজনরা বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালগুলোতে পারসেপোনা ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। শত শত জেলেরা পারসে পোনা ধরতে গিয়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব মহাজনেরা হলেন, ৩নং কয়রা গ্রামের আজিজুল ইসলাম গাজী, একই গ্রামের জামাল সরকার, জাহিদুল সরকার, আব্দুল রহমান ও উত্তর বেদকাশির আমিরুল ইসলাম সরকার, তাজমিনু রহমান, মালেক পাড়সহ আরও অনেক মহাজন। তারা সরকারি আইন অমান্য করে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বনবিভাগকে ম্যানেজ করে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম জোনের বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে পারসে পোনা আহরণ অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, গোনের এক একটি দিনে জেলেদের প্রতিটি নেট জালে প্রায় ৭০/৮০ কেজি করে পারসের পোনা ধরা পড়ে। সেই সাথে অন্যান্য প্রজাতির শত শত কেজির পোনা ধ্বংস করছে জেলেরা।
একদিকে মহাজনেরা সুন্দরবনে বিনা পাশ-পারমিটে ট্রলার নিয়ে প্রবেশ করে জেলেদের নিকট থেকে ধরে রাখা পোনা সংগ্রহ করে। এরপর ট্রলার যোগে পশুর নদী হয়ে শিবসা নদী দিয়ে নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে পাইকগাছার আলমতলা ও আঙগুরকাটা মৎস্য সেটে আনা হয়। ঘের মালিকদের কাছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা কেজি দরে পারসে পোনা বিক্রয় করা হয়। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আহরণ নিষিদ্ধ পারসের পোনা বিক্রয়ের ব্যাপারে কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন বনবিভাগের সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার থাকেনা, তবে পারসে পোনা ব্যবসায়ীদের দ্বারা যদি পারসে পোনা লোকালয়ে এনে কয়রা উপজেলার কোন মৎস্য সেটে বিক্রয়ের খবর পাই, তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তার শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ