ঢাকা, শনিবার 17 December 2016 ৩ পৌষ ১৪২৩, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারের মুসলমানরা আজো পরদেশী

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : স্যাটেলাইট থেকে তোলা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওয়াপিক নামে একটি রোহিঙ্গা গ্রামের ছবি বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ (এইচআর ডব্লিউ) বলছে, বার্মিজ  সৈন্যরাই গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এইচআরডব্লিউ এই রিয়ে তৃতীয়বারের মত রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর হাত থাকার প্রমাণ হাজির করলো। এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস্ বলছেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে সৈন্যদের চোখের সামনে ওয়াপিকের ৩০০ বাড়ি এক মাস ধরে জঙ্গিরা আগুন দিয়ে পুডিয়ে দিল, আর সৈন্যরা সেটা বসে বসে দেখলো। এইচআরডব্লিউ’র সর্বশেষ এই বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছে, মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র জঠেই বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, সুতরাং এখন তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর অর্ধলক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। একইসাথে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে নারীদের উপর লোমহর্ষক নির্যাতন ও শিশুদের হত্যা করার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। এই গণহত্যা বন্ধে তিনি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি মিযানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিরও সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানকারী বিশাল জনতাকে উদ্দেশ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবশ্যই ইসলাম এবং মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্ব বসে বসে চলমান এ গণহত্যার দর্শক হতে পারে না। উল্লেখ্য যে, অন্য সদস্য দেশের বিষয়ে আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশ নাক গলাতে পারে না বলে মালয়েশিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল মিয়ানমার। কিন্তু সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক র‌্যালি করলেন। তিনি উল্টো মিয়ানমারকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, গত বছর আসিয়ান নিজেকে একটি একক সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর সনদে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু  মিয়ানমারে কি মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে? রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র ফ্রেদেরিকা মেযোরিনি বলেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনাশক্তির অপব্যবহার করছে মিয়ানমার সরকার। সেখানকার হাজার হাজার মানুষ নিপীড়নের শিকার। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের ক্ষোভ ও তদন্ত দাবির বিষয়টিকে যেন তোয়াক্কাই করছে না মিয়ানমার সরকার। তারা মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান নীতিহীন বিশ্বব্যবস্থায় জালেমদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনেরও প্রয়োজন রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিক্ষোভ সমাবেশে সেদিকেই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন বিবেচনার বিষয় হলো, পৃথিবীতে  মালয়েশিয়ার বাইরে তো আরো অনেক মুসলিম দেশ আছে, তারা কি জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না? জাতিসংঘ বলি, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলি, তাদের কাছে কি মিয়ানমারের তুলনায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোর চাপ বা আহ্বানের গুরুত্ব অধিক হবে না? তাহলে মিয়ানমারের মুসলমানদের অস্তিত্বের সঙ্কটের সময় ভ্রাতৃচেতনায় মানবিক  দায়িত্ব পালনে মুসলিম দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের  কার্যকর ভূমিকা পালনে অসুবিধা কোথায়? এ প্রশ্নের জবাব আজ খুবই প্রয়োজন।
বর্তমান সভ্যতায় জুলুম-নিপীড়নের শিকার হওয়াটাই যেন মুসলমানদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কখনো ফিলিস্তিনে মুসলমানদের উচ্ছেদ ও নিপীড়নের ঘটনা, কখনো ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়ার সংবাদ। এখন চলছে সিরিয়ায় মারণাস্ত্রের আঘাতে মুসলিম জনপদ বিধ্বস্ত হবার ঘটনা। হত্যাকাণ্ড চলছে অব্যাহতভাবে। সভ্যতাগর্বী পরাশক্তি আমেরিকায়ও মুসলমানদের বসবাস বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ২৭ নবেম্বর পাস টুডে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে যুক্তরাষ্ট্রকে মুসলিমমুক্ত করার হুমকি দিয়ে মসজিদে মসজিদে উড়ো চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এসবের পাশাপাশি এখন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নির্মূল অভিযান।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গেল ২৫ নবেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। এসব কর্মসূচি থেকে সংগঠনের নেতারা রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা বন্ধে জাতিসংঘ এবং ওআইসিকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে বাংলাদেশ সরকারকে আরো মানবিক হয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকালে মিয়ানমারের বর্তমান ক্ষমতাসীন নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির কুশপুত্তলিকা জুতাপেটা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ, পল্টন, দৈনিক বাংলার মোড়সহ আশেপাশের এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান, রায়ট কার প্রস্তুত রাখে। এছাড়া পল্টন ও দৈনিক বাংলা মোড় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে অকথ্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে তাতে যে কোনো বিবেকবান মানুষেরই বিক্ষুব্ধ হওয়ার কথা। প্রতিবেশী বাংলাদেশের মুসলিম জনতা মিয়ানমারের নৃশংস ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হবে এটাই তো স্বাভাবিক। এদিকে সীমান্ত পার হয়ে আসা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ সরকারও। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়েই মানবিক এই সঙ্কট সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলছে নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা। সরকারের একাধিক মন্ত্রী এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম স্পষ্ট করে বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আরো কয়েক হাজার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পাহাড়-জঙ্গল-নদী ও সাগর এলাকায় অপেক্ষা করছে।
মিয়ানমার সরকার বলছে, আরাকানের মুসলমানরা নাকি সে দেশের নাগরিক নন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, আরাকান বহু শতাব্দী ধরেই রোহিঙ্গা মুসলমান, রোসাঙ্গ হিন্দু আর মহাযানী বৌদ্ধদের মাতৃভূমি। মধ্যযুগে এই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চন্দ্র-রোসাং আর মুসলমানরা রোহাং নামেই পরিচিত ছিল। হিন্দু চন্দ্র রাজারা এবং মুসলিম সুলতানরাই ছিলেন ১৮ শতকের আগে পর্যন্ত আরাকানের শাসক। রাখাইন উপকূল থেকে বর্মী-অধ্যুষিত মিয়ানমারকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল আরাকানের পাহাড়। বর্মী রাজারা প্রায়ই এ অঞ্চলে হামলা চালাতেন। প্রাচীন সমৃদ্ধ আরাকানের বিপর্যয় শুরু মূলত ১০৪৪-১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে, বার্মিজ রাজা আনা ওরথাইর আগ্রাসনের সময়কালে। তিনি স্থানীয় রোসাং, রোহাং এবং রেকং বা রাখাইনদের হত্যা করেন। দেশত্যাগী হয় লাখ লাখ আরাকানী। চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা, রাখাইন, মারমাসহ অনেক জনগোষ্ঠী সে সময়ই দেশত্যাগী হয়ে বাংলাদেশে বসবাস করতে থাকে।
রাজা আনা ওরথাই স্থানীয় বৌদ্ধ মতবাদ হটিয়ে থেরাভাদা বৌদ্ধ মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। উল্লেখ্য যে, গৌড়ের সুলতানদের সহযোগিতায় আরাকানের সম্রাট নারামেখলা ২৪ বছর বাংলায় নির্বাসিত থাকার পরে ১৪৩০ সালে আরাকানের সিংহাসন ফেরত পান। পরে তিনি ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেন। পরবর্তী আরাকানী রাজারাও বাঙালি ও মুসলমানদের আরাকানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং একথা স্পষ্ট করেই বলা যায় যে, আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানরা কোনোভাবেই বহিরাগত নয়। বরং ১৭৮৫ সালে আরাকান দখলকারী বর্মীরাই হলো বহিরাগত। আরাকান দখলের পর বর্মী শাসকরা হিন্দু ও মুসলিম নাগরিকদের সঙ্গে শত্রুতা শুরু করে। এই বৈরিতা কমেছিল বৃটিশদের হাত থেকে মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর গণতন্ত্রপন্থীদের সময়। বার্মার প্রথম প্রেসিডেন্ট উ-নু রোহিঙ্গাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে বার্মার প্রথম সংবিধান সভার নির্বাচনে রোহিঙ্গারা ভোট দিয়েছিল। ১৯৫১ সালে আরাকানের অধিবাসী হিসেবে তারা পরিচয়পত্র পায়। ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রী উ বা রোহিঙ্গাদের আরাকানের জাতিগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শাও সোয়ে থাইক বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি স্থানীয় আদিবাসী না হয়, তাহলে আমিও তা নই।’ কিন্তু ১৯৬২ সালে বার্মায় সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই শুরু হয় রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্যের ট্র্যাজেডি-কাব্য। কেড়ে নেয়া হয় তাদের নাগরিকত্ব, বন্ধ হয়ে যায় রোহিঙ্গা ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার। শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং নামে রোহিঙ্গা উচ্ছেদ অভিযান।
মিয়ানমারের পোড়ামাটি নীতির ফলে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জনপদ আরাকান এখন জ্বলছে। অবরুদ্ধ আরাকান জুড়ে রোহিঙ্গা শিশু আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার লাশ আর লাশ। লাশের মিছিলে প্রতি মুহূর্তে যোগ দিচ্ছে অগণিত রোহিঙ্গা জনগণ। আরাকানে সবচেয়ে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। বিশ্ব মোড়লদের দ্বৈতনীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিষ্ক্রিয়তা ও আধিপত্যবাদী মিয়ানমারের আগ্রাসনবাদী নীতির ফলে রোহিঙ্গা জনগণ আজ অসহনীয় অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের এখন করুণ অবস্থা। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে  আরাকানের মুসলমানরা আজো পরদেশী। তাই আরাকানে মুসলমানদের এখন খুবই দুর্দিন। আরাকানের মুসলমান, যারা রোহিঙ্গা অথবা কামান্স নামে পরিচিত তারা নাজুক পরিস্থিতির সম্মুখীন। জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এখন মিয়ানমার স্বৈরশাসক সামরিক জান্তার নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরাকানের ২০ লাখেরও বেশি মুসলমানকে বিতাড়িত করার মিয়ানমার সামরিক স্বৈরশাসকদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। আদমশুমারীতে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নাগরিকত্ব বহাল, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শন্তিপ্রিয় ও স্বাধীনতাকামী দেশ, জনগণ এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান ও সার্কসহ সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে মিয়ানমারের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যসহ সকল প্রকার সম্পর্কোচ্ছেদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
ই-মেইল: jafar224cu@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ