ঢাকা, শনিবার 17 December 2016 ৩ পৌষ ১৪২৩, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে কিন্তু বিশ্ববাসী নিশ্চুপ

সাইফুল ইসলাম তানভীর : গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় মিয়ানমারের বিষয়ে একটি শিরোনাম ছিল- “মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান/বিতর্কিত সাবেক জেনারেলদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন”। এই খবর থেকে কয়েকটি লাইন আমি এখানে তুলে ধরছি- (রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেনা অভিযান বন্ধ এবং দুর্গত লোকজনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মায়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এই সহিংসতা নিয়ে আন্তজার্তিক মহল মোটেই সোচ্চার নয়। তাই রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিত সাবেক এক জেনারেলের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে মায়ানমার।) আসলে এই তদন্ত কমিশন গঠন আরেকটি প্রহসন। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ দেখছি বিভিন্ন অপরাধ ঘটলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিশন গঠন হয়। এটা এখন একটা ফরমালিটি বা রীতিতে পরিণত হয়েছে। অবশ্যই সত্য বের করতে হলে তদন্ত বা Verification প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমস্ত বিশ্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নামে যা হয় তার অধিকাংশই মারাত্মক ধরনের প্রহসনের। এটা শুধু আমার কথা নয়। এটা সচেতন সকলেই মিডিয়ার কল্যাণে এবং সরাসরিও দেখছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যিনি মূল অপরাধী বা অপরাধের সাথে যুক্ত তাকেই তদন্ত কমিশনের সদস্য বা চেয়ারম্যান বানানো হয়। বিভিন্ন সিনেমার অভিনয়েও এমন বিষয় দেখাচ্ছে। ভারতের সনি টিভি চ্যানেলে যে অপরাধমূলক ঘটনার অভিনয় দেখায় সেখানেও সেটা দেখা গেছে। জাতিসংঘের কথা কিইবা আমরা বলবো! জাতিসংঘের নিরাপত্তা বিশ্লেষক হ্যান্স ব্লিক্স ইরাক সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা তথ্য দিলেন এবং আমেরিকার যুদ্ধবাজ সরকার ইরাকে কত ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালালো। এটাতো সমস্ত বিশ্ববাসী জানেন। মায়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মের লোকের সংখ্যা বেশি। আমরা বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে যতটুকু জানি বৌদ্ধরা শান্তিপ্রিয়, শান্ত স্বভাবের হয়। কিন্তু চীনের উইঘোর প্রদেশের এবং মিয়ানমারের রাখাইনের ঘটনায় আমরা কি দেখছি? আসলেই কি বৌদ্ধরা শান্তি প্রিয়? মিয়ানমারের হাজার হাজার মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে অথচ সমস্ত বিশ্বের অধিকাংশ প্রভাবশালীরা নিশ্চুপ। যেন তারা অন্ধ। এমনকি মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ রাষ্ট্রের নির্বাহীরাও নীরবতা পালন করছেন। মিয়ানমার সরকার বরাবরই বর্বর প্রকৃতির। মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এটাই স্পষ্ট হয়েছে- তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ নেই। মিয়ানমারের মুসলমানদের কুপিয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হচ্ছে। আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। নারীদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। তাদের একমাত্র অপরাধ তার “মুসলমান”। তারা সেখানে হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস করছেন অথচ তারা নাকি মিয়ানমারের নাগরিক নন। তাদেরকে “রোহিঙ্গা” বলা হচ্ছে “মানুষ” বলা হচ্ছে না। অথচ তারাও মানুষ। যে রকম ঢাকার মিরপুরে ১৫ জন মানুষকে হত্যা করলো। মিডিয়ায় প্রচার করলো ১৫ জন বিহারী মরে যাওয়ার খবর। তাদেরকে মানুষ বলা দোষের কিছু। মুসলানদের হত্যা করা নির্যাতন করা খুব সহজ। যদি সাধারন জ্ঞানের বইয়ে এমন প্রশ্ন দেয়া হয় যে- বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে সহজ কাজ কোনটি? তাহলে উত্তর যদি দেয়া হয় মুসলমানকে হত্যা করা, নির্যাতন করা। তাহলে সেটা অমূলক হবে না এবং সেই সাধারণ জ্ঞানের বই মার্কেটে চলবে। মুসলমানদের বিভিন্ন ভাষায় গালি দেয়া হচ্ছে। কেউ বলে- সন্ত্রাসী, কেউ বলে মৌলবাদ, কেউ বলে জঙ্গি। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমারে সফরে গেলেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকা অবস্থায়ও মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। কফি আনানকে করেছে অপমান। আমাদের বাংলাদেশে যদি কোন হিন্দু, বৌদ্ধ বা খৃষ্টানকে থাপ্পরও দেয়া হতো তাহলে কি পরিস্থিতি হতো?
আমাদের দেশের মিডিয়া কি করতো? অবশ্যই বাংলাদেশের পরিস্থিতি তো ঘোলাটে করতোই, সমস্ত বিশ্ব পরিস্থিতিকেই ঘোলাটে বানাতো তাতে কোন সন্দেহ নেই। কতই দুঃভাগ্য আজ মুসলমানদের দেশে বাংলাদেশে তো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছেই। অন্যান্য দেশগুলোতেও প্রতিদিন মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। নির্যাতন করা হচ্ছে। পাশের দেশ ভারতে, কাশ্মীরে দীর্ঘবছর মুসলমানদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চলছে। ফিলিস্তিনে ইহুদী বর্বর জাতির লোকেরা মুসলমানদেরকে হত্যা করছে। মিশর, বসনিয়া, চেচনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। নেই প্রতিবাদ। কোন কোন মুসলমান ব্যানার নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ জানাতে চাইলেও সেটাতে বাধা দিচ্ছে ইসলাম বিদ্ধেষীরা এবং তাদেরকে সন্ত্রাস বলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ