ঢাকা, শনিবার 17 December 2016 ৩ পৌষ ১৪২৩, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮

ইবি সংবাদদাতা : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের খাবার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় উভয় গ্রুপের ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গুরুতর আহত জসিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুষ্টিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। জানা যায়, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক আবাসিক হলে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করে স্ব স্ব হল প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা হল থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা টোকেন দিয়ে হলের ডাইনিং থেকে খাবার সংগ্রহ করছিল।  এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলামের কর্মী মেহেদী হাসান নাঈমসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী খাবার পরিবেশনস্থলে উপস্থিত ছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের কর্মী নওশাদ কবীর খাবার নিতে যায়। সাইফুল গ্রুপ কর্মীদের অভিযোগ নওশাদ টোকেন ছাড়াই বাহিরাগতদের নিয়ে খাবার দাবি করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তখন নওশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হল প্রভোস্টসহ আবাসিক শিক্ষকরা তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। নওশাদ তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে নওশাদ ২০/২২ জন ছাত্রলীগ কর্মী নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। ফলে, উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপ রড, লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। এসময় হলের খাবার নিতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের হামলার শিকার হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ৮/১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে। সভাপতি গ্রুপের জসিম, নীল হৃদয়, মিজানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত জসিমকে কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস গ্রুপের কর্মী নওশাদ কবীর বলেন, আমিসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী টোকেন দিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে ডাইনিংয়ের মধ্যে প্রবেশ করি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি গ্রুপের কর্মী কামরুজ্জামান খাঁন সাগর আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি ডাইনিং থেকে বাইরে বের হলে তারা আমার উপর হামলা চালায়।  সভাপতি সাইফুল গ্রুপের কর্মী  মেহেদী হাসান নাঈম বলেন, ‘আমরা প্রভোস্টের অনুরোধক্রমে কামরুজ্জামান খাঁন সাগরসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী খাবার পরিবেশনে সহযোগিতা করছিলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের কর্মী নওশদ টোকেন ছাড়াই খাবার দাবি করে।  তখন কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ২০/২২ জন বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী নিয়ে আমাদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়।  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিব।’ সাদ্দাম হোসেন হলের  প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগের দু‘গ্রুপের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির ফলে সমস্যা হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’ প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনেই আমিসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। বিজয় দিবসের দিনে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ