ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এক মানবিক উদাহরণ

বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে অনেক সময় মনে হয়, মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া ও মানবিক বিবেচনাবোধ যেন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীটা কি আর মানুষের বসবাসযোগ্য থাকবে না? তবে এমন অবস্থায়ও মাঝে মাঝে আমাদের এই পৃথিবীরই কোনো কোনো জায়গায় কোনো কোনো মানুষ এমন সদয় ও মানবিক আচরণের উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেন, যা আমাদের শুধু আশাবাদীই করে না, পৃথিবী সম্পর্কে নতুন স্বপ্নও দেখায়। এই প্রসঙ্গে আজ উল্লেখ করতে হয় অজয় মুনত-এর নাম।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ভারতের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নিজের মেয়ের বিয়ের খরচের অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের জন্য ৯০টি ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। পূর্ব ভারতের আরোঙ্গবাদ জেলার কাপড় ও গম ব্যবসায়ী অজয় মুনত তার মেয়ের বিয়ের জন্য প্রায় ৮০ লাখ রুপি খরচের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরে নতুন ভাবনার আলোকে ওই অর্থ দিয়ে তিনি গৃহহীনদের জন্য ঘর বানিয়ে দেন। অজয় মুনত দুই একর জমিতে ৯০টি ঘর নির্মাণ করেছেন। ঘরগুলোতে থাকার জন্য খুব বেছে বেছে গৃহহীনদের নির্বাচন করেছেন। আর নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার মানদণ্ড ছিল তিনটি। ১. তাদের দরিদ্র হতে হবে, ২. হতে হবে বস্তিবাসী, ৩. মাদকাসক্ত হলে অযোগ্য হবে। জানা গেছে, ঘরগুলোর আয়তন ১২ী২০ বর্গফুট। ঘরগুলোতে দু’টি দরজা ও জানালা রয়েছে। এছাড়া ঘরগুলোতে আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেসব গৃহহীনকে ঘর দেয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে তাদের মধ্যে এক নারী জানিয়েছেন, তিনি ভীষণ খুশি। এখন আর বিদ্যুৎ ও পানি না থাকার মতো সমস্যায় তাদের পড়তে হবে না। এদিকে যার বিয়ের খরচ দিয়ে দুঃখী মানুষদের জন্য গৃহের ব্যবস্থা করা হলো, তাঁর চেতনাও প্রশংসনীয়। শ্রেয়া বলেন, তিনি বাবার এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করেন এবং বাবার এই উদ্যোগ তাঁর বিয়েতে শ্রেষ্ঠ উপহার। বিয়ের পর শ্রেয়া ও তার স্বামী গৃহহীনদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি বর্তমান নিষ্ঠুর পৃথিবীতে স্বস্তিদায়ক বৃষ্টির মতো মনে হয়েছে আমাদের কাছে। এমন ঘটনায় মানুষ অনুপ্রাণিত হলে সমাজ ও পৃথিবী সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। আলোচ্য ঘটনায় আরো দু’টি বিষয় আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। প্রথমটি হলো- গৃহহীন নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানদণ্ডের বিষয়টি। মানদণ্ডকে তো আজকাল অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান না। আর মানদণ্ডের একটি শর্ত ছিল মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে।
দ্বিতীয় বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভোগবাদী বর্তমান সভ্যতায় ত্যাগের নজির খুবই কম। বিয়ের জাঁকজমকের অর্থ দিয়ে দরিদ্রদের ঘর বানানোর সিদ্ধান্তে কনে মোটেও মন খারাপ করেননি, বরং বলেছেন, এটাই আমার বিয়েতে শ্রেষ্ঠ উপহার। এমন চেতনার জন্য আমরা কনেকে সাধুবাদ জানাই এবং কামনা করি নবদম্পত্তির সুন্দর জীবন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ