ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও পার্বত্য বাঙালির ভাগ্য

অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার : ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭ যা পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে সমধিক পরিচিত। অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আশার বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে তা এই চুক্তির ১৯ বছরে এসে নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল উপজাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে তাদের ইনসারজেন্সী তৎপরতা বন্ধ করে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আজ ১৯ বছরে এই চুক্তির সফলতা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল জে এস এস এর গেরিলা নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা ও বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এর সাথে। জনাব আবদুল্লাহ সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করলেও শ্রী সন্তু লারমা স্বাক্ষর করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে। তৎকালীন সময়ে এমনকি এখনো সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচিত কোন জন প্রতিনিধি নন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৪৮% বাঙালি জনগণও ৩৭% উপজাতীয় জনগণ সন্তু লারমার পক্ষে ছিলেন না। মাত্র ৫০০০ (সন্তু ঘোষিত) গেরিলা যোদ্ধার নেতা হঠাৎ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমগ্র অধিবাসীদের নেতা বনে গেলেন এবং চুক্তি স্বাক্ষর করলেন। অথচ ঐ চুক্তি স্বাক্ষরকালে চুক্তির বিরোধিতা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি সংগঠনগুলো বিশেষ করে পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র আন্দোলন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ সহ সর্বস্তরের বাঙালিরা বি.এন.পি, জামায়াত, এনপিপি, জাগপাসহ সকল বিরোধী দলসহ দেশের সকল সাধারণ জনগণের সকল আবেদন নিবেদন অগ্রাহ্য করে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সরকারের যুক্তি ছিল এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে পাহাড়ে শান্তি আসবে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান, পার্বত্য জনগণের অধিকার, দেশের প্রচলিত জনমত অগ্রাহ্য করেছিল শুধুমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং সন্তু লারমাসহ তার নেতৃত্বাধীন গেরিলা যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হতে বিরত রেখে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য।
কিন্তু আজ ১৯ বছরের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির ফলাফল বিবেচনা করার সময় এসেছে। চুক্তির ফলে কি করেনি সরকারের উপজাতীয় জনগণের কল্যাণ ও তাদের উন্নয়নে? আজ উপজাতীয় জনগণের প্রতিটি ঘরে শিক্ষিত তরুণ যুবক। প্রতি ঘরে কমপক্ষে একজন চাকুরীজীবী, চাকমাদের শিক্ষার হার ৯৭%। প্রতিটি এলাকার দেশী-বিদেশীদের অঢেল অর্থের উন্নয়ন। আজ উপজাতীয়দের চলাফেরা দেখলে মনে হয় আমরা কোন ইউরোপীয় দেশে আছি। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, আর্মি অফিসার, পুলিশ অফিসার, অর্থশালী ব্যবসায়ী হাজারে হাজারে। বিসিএস সহ সকল চাকুরীতে কোটা ব্যবস্থা, অগ্রাধিকার ব্যবস্থা, সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজে উপজাতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা ব্যবস্থা, ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপ সহ সব মিলিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগনের উন্নয়ন এই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত যে কোন অঞ্চল থেকে অনেকগুণ উন্নত। এগুলো দেখতে ভালই লাগে। আমাদের উপজাতীয় ভাইয়েরা এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ব্যবসায় ট্যাক্স ভ্যাট দেয়া লাগে না, ঠিকাদারী ব্যবসায় ট্যাক্স মওকুফ, উন্নয়নে অর্থ গ্রহণে কোন প্রতিবন্ধকতা নাই। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অথরিটির মধ্যে অর্থাৎ আঞ্চলিক পরিষদ, ৩টি জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স, ৩ জন সার্কেল চীফ, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ সর্বত্র উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে চলছে। ১ জন করে তিন পার্বত্য জেলার ৩ জন জেলা প্রশাসককে পারলে জোর করে বিদায় করার চেষ্টায় জে.এস,এস।
তিন পার্বত্য জেলার সকল সরকারি, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজসহ সকল প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবীদের সিংহভাগই উপজাতীয়। সেখানে পার্বত্য বাঙালি চাকুরীজীবী খুঁজে পেতে মাইক্রোস্কোপ লাগবে। অথচ সন্তুু লারমার শুধু চাই আর চাই। চুক্তির শর্তানুযায়ী যে শান্তির জন্য এত কিছু এত উদ্যোগ সে শান্তি কি এসেছে ? পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে” ২ ডিসেম্বর ২০১৫ পড়লে দেখা যায় চুক্তির ৯৫ ভাগ বাস্তবায়িত হয়ে গেছে বাকী ৫ ভাগ বিষয় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সাথে সাংঘর্ষিক বিধায় সরকার পক্ষে বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। কিন্তু গত ১৯ বছর যাবত সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সে আঞ্চলিক পরিষদ শুধু সরকার থেকে নেয়, বাংলাদেশ সরকারকে একটি টাকাও কর বা আয় দেয় না সেই আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েও তিনি কি তার গেরিলাজীবনের আদর্শ হতে বিচ্যুত হয়েছেন? সরকার চুক্তির নামে সন্তু লারমাদের শুধু দিয়েই গেল, তার বিনিময়ে কি পেল বাংলাদেশ! আজ সে প্রশ্নও করতে হয়। সন্তু লারমা এদেশের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েও বাংলাদেশের নাগরিক নন। ভোটার তালিকায় নাম নেই তার। বিজয় দিবসে বা শহীদ দিবসে স্মৃতিসৌধে বা শহীদ মিনারে যাওয়ার নজির তার নেই। কোন রাষ্ট্রীয় দিবসে তিনি দেননা কোন বাণী। তার জে এস এস নেতারা জুম্মল্যান্ড বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছেন। পিসিপির নেতারা ব্যস্ত ধর্ষন, চাঁদাবাজি, খুন রাহাজানিতে। অস্ত্রের ঝনঝনানীতে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ, বিরোধী দলীয় বি.এন.পি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, আর্মি, পুলিশ, প্রশাসন পর্যন্ত অসহায়। সারাদেশে আওয়ামী লীগের জয় জয়কার হলেও পার্বত্য এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জে এস এস এবং উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে নমিনেশন পেপার পর্যন্ত কিনতে পারেননি। সাধারণ বাঙালিদের তাহলে কি অবস্থা, ৩য় শ্রেণীর নাগরিক হয়েই তাদের জীবন যাপন। চুক্তি তাদের জাতীয়তা পরিবর্তন করেছে। এদেশে এখন ৩ ধরনের নাগরিক। বাংলাদেশী, উপজাতীয় এবং অ-উপজাতীয়। কি আছে বাঙালীদের? নাই শিক্ষা, নাই চাকুরী, নাই ব্যবসা-বাণিজ্য, নাই কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই, নাই ভূমি, নাই কোন আবাসন। বাঙালিরা আজ নিজ দেশে পরবাসী। আর হয়তো কিছুদিন পর রোহিঙ্গার মত পরিণতি ভোগ করতে হবে পার্বত্য বাঙালিদের। কারণ পার্বত্য ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে পার্বত্য বাঙালিদের বৈধ, দখলীয় নিজ বাস্তুভিটা হতে উচ্ছেদ করার জন্য। অথচ চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন গঠন করার কথা ছিল শুধু মাত্র উপজাতীয় নির্দিষ্ট সংখ্যক শরণার্থীদের ভূমি সমস্যার সমাধানের জন্য অর্থাৎ ৬৪,৬০৯ জন উপজাতীয়দের ভূমির সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করার কথা ছিল চুক্তিতে। কিন্তু বাস্তবে ভূমি কমিশন এখন তিন পার্বত্য জেলার সকল ভূমি নিয়ে বিচার করতে পারবে। উচ্ছেদ করতে পারবে যে কোন কাউকে। তাহলে ভূমি কমিশন চুক্তির ধারা লংঘন করেই হয়েছে। সন্তু লারমা রাঙামাটিতে মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বাধা দিয়েছেন। মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়ন আন্দোলনে জীবন দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতা নানিয়ারচর এর মনির। মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে পড়াশুনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই মনে হচ্ছে উপজাতীয়দের জন্য মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নাই। কারণ তারা প্রচুর শিক্ষিত হয়ে গেছে। তাই উপজাতীয় কোটা প্রথা বন্ধ করে পার্বত্য কোটা চালু করা এখন সময়ের দাবী। চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না হচ্ছে না বলে সন্তু লারমা গলা ফাটালেও বাস্তবে চুক্তির ৯৫ ভাগ বিষয়/ধারা বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে চুক্তির বাহিরেও অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হবে, চুক্তি বাস্তবায়ন তো হবেই। কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্প নাকি জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হবে। সব কিছু করা হয়ে গেছে। মানচিত্র, সংবিধান, আর্মি, প্রশাসন, দেশের নামও তৈরী-জুম্মল্যান্ড শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতা ঘোষণা বাকী আছে মাত্র। সন্তু কি দেশের সংবিধান মানেন? তার কথায় ও কাজেতো তা বুঝা যায়।
অন্যদিকে শুরু হয়েছে নতুন ষড়যন্ত্র। একের পর এক মামলার রায়। মহামান্য অ্যাপীলেট ডিভিশন ওয়াগ্গাছড়া মামলা সিভিল আপীল ১৪৭/২০০৪ এ রায় দিয়েছেন। এই রায় পড়ে যেটুকু বুঝা যায় তাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের শাসনের অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। গত ২২/১১/২০১৬ ইং তারিখে মহামান্য অ্যাপীলেট ডিভিশন সিভিল আপীল ৮/২০০৮ রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলায় ওয়াগ্গাছড়া রায়ের মত একই রায় দিবেন বলে ঐ আপীল নিষ্পত্তি করেছেন। সংবিধান যেখানে বলছে দেশে কোন আদিবাসী নাই সেখানে ওয়াগ্গাছড়া মামলায় ৫৪ বার উপজাতীয়দের আদিবাসী সম্বোধন করে সংবিধান সংশোধনের জন্য দ্বার খুলেছেন বলে মনে হয়। এই রায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মৃত আইন হিল ট্র্যাক্ট ম্যানুয়েল ১৯০০কে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবিধান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আসলে এই চুক্তি একদিকে উপজাতীয় জনগণকে দিয়েছে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা আর প্রাচুর্য আর বাঙালি জনগণ নিমজ্জিত হয়েছে না পাওয়ার হতাশা আর বেদনায়। বাঙালি জনগণের জন্য কোন সুযোগ-সুবিধার বিধান এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। তাই উপজাতীয় আর বাঙালি জনগণ দুই ভাইয়ের বিভেদ দিন দিন প্রকট হচ্ছে। আর একদিন এসব বিভেদ গণবিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। একদিকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের তান্ডব অন্যদিকে অসহায় পার্বত্য বাঙালির কান্না পার্বত্য চট্টগ্রামের আকাশ পাতাল ভারী করে তুলেছে। সাধারণ বাঙালি চাকুরী, শিক্ষা-দীক্ষা হতে বঞ্চিত হয়ে বেছে নিয়েছে শ্রমিক, মজুর ক্ষেত খামারীর কাজ। সেখানেও শান্তি নাই। সবখানে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের জোর জুলুম। বাঙালিদের হাজার হাজার আনারস বাগান উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদা না দেয়াতে কেটে ফেলা হয়েছে। ১টা ডিমে ১ টাকা, ১টি মুরগীতে ৫০ টাকা, একটি কচুতে ৫ টাকা, ১টি সিএনজিতে মাসে ২,০০০/-, একটি ট্রাকে ৫.০০০/-, শ্রমিকের বেতনে ৪০০/- টাকায় পঞ্চাশ টাকা, ঠিকাদারী কাজে ১৫%, প্রতি স-মিলে বৎসরে ৩ (তিন) লক্ষ টাকা, প্রতি দোকানে মাসে ২,০০০/- টাকা, প্রতি বাঁশের ট্রাকে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা এভাবে নানারকম চাঁদা দিতে দিতে বাঙালিরা আজ সর্বহারা। চাঁদা না দিলে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, গুম আর হত্যা। প্রতিবাদ করলে সরাসরি গুলী করা। কোথায় যাবে বাঙালীরা? আর এ চাঁদা নিয়ে অস্ত্রের গোডাউন গড়ে তুলছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। লক্ষ্য স্বপ্নের জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠা।
তাই চুক্তি শুধু বাস্তবায়ন করলেই হবেনা। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের সরকার কি পেল তা মূল্যায়নের সময় এখন হয়েছে। এখন ভাবতে হবে সন্তু লারমাকে এতসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ কি পেল। সন্তু লারমাদের সকল সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে এখনও প্রতিদিন ধর্ষিত হয় বাঙালি নারী। কাপ্তাই লেকে ভেসে আসে নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়ার লাশ। এভাবে আর কতদিন। যে চুক্তি পার্বত্য বাঙালিরা মেনে নেয়নি সে চুক্তি পার্বত্য বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দেয়া কতটুকু যুক্তি সংগত? পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন মগের মুল্লুক। এই মগের মুল্লুক হতে পার্বত্য বাঙালিরা রোহিঙ্গাদের পরিণতি ভোগ করতে মনে হয়, আর বেশিদিন দেরী নাই। তাই পার্বত্য জনগণকে নিজের ভূমি নিজের জীবন জীবিকা নিয়ে ভাবতে হবে। আর সরকারকে ভাবতে হবে কি প্রতিদান এল এই চুক্তি থেকে। চুক্তি পুনঃমূল্যায়ন এখন সময়ের দাবী।
একটা কথা মনে রাখতে হবে এক ঘরে দুই ভাইয়ের মধ্যে একভাইকে অনাহারে রেখে অন্যভাইকে বিরিয়ানী খেতে দিলে সে ঘরে শান্তি কোনদিন আসবে না। তাই পার্বত্য বাঙালিদের উন্নয়ন বঞ্চিত রেখে চুক্তির সফলতা দুরহ থেকে যাবে।
লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। চেয়ারম্যান- পার্বত্য গণ পরিষদ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ